নাগরিক বিড়ম্বনার অবসান

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন হোক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

শেষ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কোটা-পদ্ধতি উঠে গেল। ছাত্রসমাজের টানা চারদিন ধরে চলা সর্বব্যাপী আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন, দেশে কোটা পদ্ধতির কোনো দরকার নেই, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাইকে চাকরিতে আসতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ফেলে ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরির কথা বলেছেন।

পুরো বিষয়টি কীভাবে সুবিন্যস্ত করা হবে, তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেখভাল করবেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার ঘোষণাটিকে আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ স্বাগত জানিয়ে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে বলেছে, তারা এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদজ্ঞাপক একটি চিঠিও দেবে বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী যে আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের দুর্ভোগ, তার অবসান ঘটেছে।

বস্তুত গত কয়েকদিন ধরে বিশেষত রাজধানীতে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আন্দোলনকারীরা কার্যত রাজধানীর জনজীবন অচল করে দিয়েছিলেন, যার কারণে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগের অন্ত ছিল না।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি যে বৈষম্যমূলক এবং এতে যোগ্যদের পিছিয়ে পড়তে হয় প্রতিযোগিতায়, এ বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে দেশে বেকারত্বের পরিমাণ উদ্বেগজনক।

উপরন্তু কোটা পদ্ধতির কারণে বিপুলাকার বেকার শ্রেণীর মধ্যে যারা সত্যি সত্যি মেধাবী ও চাকরি পাওয়ার যোগ্য, তারা যদি কোটা পদ্ধতির শিকার হয়ে চাকরিবঞ্চিত থাকে, তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম ক্ষতিকর বটে।

অতঃপর শিক্ষার্থীরা এই পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে আসছেন অনেক বছর ধরেই। সরকার তাতে গা করছিল না। সবশেষে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করার পর প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয়া হলে নাগরিক সমাজ এতটা ভোগান্তির মধ্যে পড়ত না।

এছাড়া আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে যা হয়েছে, তাকে নৈরাজ্য ও হঠকারিতার চূড়ান্ত বলা যায়। এই ঘটনা আন্দোলনকারীরা, নাকি অন্য কোনো অশুভ চক্র ঘটিয়েছে, সেই বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, আন্দোলন চলাকালেই যেহেতু এটা ঘটেছে, তাই এর দায়-দায়িত্ব আন্দোলনকারীদেরকেই নিতে হবে।

কোটা পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়েছিল স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই। দেশে তখন বেকারত্বের পরিমাণ এত বেশি ছিল না। এখন যেহেতু বেকারত্বের হার বেশি, তাই প্রতিযোগিতাটাও বেশি। ফলে এই প্রতিযোগিতায় কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি কাম্য হতে পারে না।

উপরন্তু দেশ গড়তে হলে উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসতে দিতে হবে। নিজের দেশ নিজে গড়ব, স্বাধীনতা আন্দোলনের এটাও ছিল এক বড় চেতনা।