এডিবির পর্যবেক্ষণ

অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তার ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে’ চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

এটি সরকার প্রত্যাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সরকারি হিসাবে চলতি বছর ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে। যদিও ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর্যায়েই পড়ে, তবু এডিবি কেন প্রত্যাশার চেয়ে কম পূর্বাভাস দিয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এডিবির পর্যবেক্ষণ বলছে, রফতানি সম্প্রসারণের গতি কমে আসার পাশাপাশি রেমিটেন্সে নিুগতি সত্ত্বেও গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছিল। মূল্যস্ফীতির প্রবণতাও কম ছিল।

তবে চলতি হিসাবে কৃষি ও সেবা খাতে ধীরগতির কারণে ঘাটতি বাড়তে পারে। এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১ শতাংশে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বাড়বে। তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের দামের সমন্বয় করা এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

এগুলো সরকারের জন্য একধরনের সতর্কবার্তা। সরকার বিষয়গুলো মাথায় রেখে অর্থনীতিতে যে কোনো ধরনের নেতিবাচকতা রোধে পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

এডিবি বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে। যেমন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে প্রাথমিক মূল্যায়নে যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও রয়েছে শক্ত অবস্থানে। রাজস্ব ঘাটতিও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

তবে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছে দাতা সংস্থাটি, যা প্রণিধানযোগ্য। দেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি ও নীতিগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে এডিবি।

দেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা যে ভালো নয়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যাংকগুলো মারাÍক তারল্য সংকটে ভুগছে, যার অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণের ব্যাপকতা ও দুর্নীতি।

হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অবলোপন ও দুর্নীতির কারণে এ খাতে একধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

এ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর হতে হবে। দেশের অর্থনীতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে, এটাই কাম্য।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.