গবেষণায় উদাসীনতা কেন: বাধ্যবাধকতার বিধান থাকা প্রয়োজন
jugantor
গবেষণায় উদাসীনতা কেন: বাধ্যবাধকতার বিধান থাকা প্রয়োজন

  সম্পাদকীয়  

১২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষকরা তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছেন না। অনেক শিক্ষক নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবাদন রাখলেও এমন শিক্ষদের সংখ্যা একেবারেই কম। আমরা জানি, সাধারণত মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তারা এখন যে বেতন পান তাও সন্তোষজনক।

এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে পরিমাণ গবেষণাকর্ম স্থান পাওয়ার কথা, লক্ষ করা যাচ্ছে তেমনটি পাচ্ছে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে অর্ধেকের বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম নেই। গবেষণা না থাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের নেই কোনো মৌলিক গ্রন্থ। আন্তর্জাতিক জার্নালে তাদের প্রকাশনার সংখ্যাও খুবই কম।

অনেকে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়াই শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা আরও করুণ। করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে গবেষণার মাধ্যমে টিকা আবিষ্কার করেছে পৃথিবীর অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় টিকা আবিষ্কারের মতো বড় পদক্ষেপ নিয়েছে-এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম না থাকায় দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রমভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে মৌলিক গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আবদান রাখা, যা সর্বজনবিদিত।দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত গবেষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জানা গেছে, যথাযথ মানের গবেষণা না থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক যদি জানতেন, মানসম্মত গবেষণা না থাকলে পদোন্নতি তো মিলবেই না, উপরন্তু একটা সময় পর গবেষণার জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে হবে, তাহলে তারা গবেষণার বিষয়ে আরও আগ্রহী হতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষক বলে থাকেন, গবেষণা বা মানসম্মত গবেষণা না হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা তহবিল সংকট। অথচ জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে মাত্র ৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে; অথচ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ছিল ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, তহবিল ঘাটতির চেয়েও বড় সংকট গবেষণাকাজে উদ্যমহীনতা। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্র আরও উদ্বেগজনক।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা শেষে বিদেশে গিয়ে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিয়মিত বড় ধরনের সাফল্যের পরিচয় দিয়ে আসছেন। দেশে তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশে বসেই উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন, যার ধারাবাহিকতায় দেশে গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ব, যা বলাই বাহুল্য।

আমরা এখনই হয়তো জাপানের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারব না; তবে আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে যে কোনো গবেষণাকর্মে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা উপহার দেবেন-এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষণায় উদাসীনতা কেন: বাধ্যবাধকতার বিধান থাকা প্রয়োজন

 সম্পাদকীয় 
১২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষকরা তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছেন না। অনেক শিক্ষক নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবাদন রাখলেও এমন শিক্ষদের সংখ্যা একেবারেই কম। আমরা জানি, সাধারণত মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তারা এখন যে বেতন পান তাও সন্তোষজনক।

এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে পরিমাণ গবেষণাকর্ম স্থান পাওয়ার কথা, লক্ষ করা যাচ্ছে তেমনটি পাচ্ছে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে অর্ধেকের বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম নেই। গবেষণা না থাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের নেই কোনো মৌলিক গ্রন্থ। আন্তর্জাতিক জার্নালে তাদের প্রকাশনার সংখ্যাও খুবই কম।

অনেকে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়াই শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা আরও করুণ। করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে গবেষণার মাধ্যমে টিকা আবিষ্কার করেছে পৃথিবীর অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় টিকা আবিষ্কারের মতো বড় পদক্ষেপ নিয়েছে-এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম না থাকায় দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রমভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে মৌলিক গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আবদান রাখা, যা সর্বজনবিদিত।দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত গবেষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জানা গেছে, যথাযথ মানের গবেষণা না থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক যদি জানতেন, মানসম্মত গবেষণা না থাকলে পদোন্নতি তো মিলবেই না, উপরন্তু একটা সময় পর গবেষণার জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে হবে, তাহলে তারা গবেষণার বিষয়ে আরও আগ্রহী হতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষক বলে থাকেন, গবেষণা বা মানসম্মত গবেষণা না হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা তহবিল সংকট। অথচ জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে মাত্র ৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে; অথচ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ছিল ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, তহবিল ঘাটতির চেয়েও বড় সংকট গবেষণাকাজে উদ্যমহীনতা। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্র আরও উদ্বেগজনক।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা শেষে বিদেশে গিয়ে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিয়মিত বড় ধরনের সাফল্যের পরিচয় দিয়ে আসছেন। দেশে তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশে বসেই উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন, যার ধারাবাহিকতায় দেশে গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ব, যা বলাই বাহুল্য।

আমরা এখনই হয়তো জাপানের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারব না; তবে আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে যে কোনো গবেষণাকর্মে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা উপহার দেবেন-এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।