কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম
jugantor
কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম
স্বাস্থ্য খাত কবে দুর্নীতিমুক্ত হবে?

  সম্পাদকীয়  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) হাসপাতালের যন্ত্রপাতির আওতায় ইলেক্ট্রোফোরেসিস হিমোগ্লোবিনের মূল্য ধরা ছিল ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা; অথচ তা কেনা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। ফ্যাকো ইমালনিফায়ারের জন্য ধরা ছিল ২০ লাখ টাকা, যা কেনা হয়েছে ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে অ্যানেস্থেশিয়া ভেন্টিলেটরের জন্য ধরা ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা; কিন্তু সেটি কেনা হয়েছে ৫৭ লাখ ২৯ হাজার টাকায়। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানোর পর তা পর্যালোচনা করতে গিয়ে ভয়াবহ এ অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে এসেছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি কেনাকাটায় বাজারমূল্যের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত দাম পরিলক্ষিত হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন ছাড়াও কেনা হয়েছে অনেক পণ্য। সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার-প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পরের যোগসাজশে এ ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

ইতঃপূর্বে দেশে ‘বালিশ’ ও ‘পর্দা’ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য নির্ধারণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

দুঃখজনক হলো, দুর্নীতিবাজদের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা খুব একটা কাজে আসছে না। বলা হয়ে থাকে, দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম হল স্বাস্থ্য খাত। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে ঘুষ ও দুর্নীতির প্রতিযোগিতা। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ এমন কোনো কাজ নাকি নেই, যেখানে দুর্নীতি হয় না।

এসব যে মোটেই ভিত্তিহীন নয়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটার ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে।

সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করলেও স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান দুর্নীতির কারণে এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আশার কথা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য কেনাকাটায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং এক্ষেত্রে দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এখন সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু উদ্ঘাটন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের দুরভিসন্ধি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মন থেকে কখনোই দূর হবে না।

কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম

স্বাস্থ্য খাত কবে দুর্নীতিমুক্ত হবে?
 সম্পাদকীয় 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) হাসপাতালের যন্ত্রপাতির আওতায় ইলেক্ট্রোফোরেসিস হিমোগ্লোবিনের মূল্য ধরা ছিল ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা; অথচ তা কেনা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। ফ্যাকো ইমালনিফায়ারের জন্য ধরা ছিল ২০ লাখ টাকা, যা কেনা হয়েছে ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে অ্যানেস্থেশিয়া ভেন্টিলেটরের জন্য ধরা ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা; কিন্তু সেটি কেনা হয়েছে ৫৭ লাখ ২৯ হাজার টাকায়। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানোর পর তা পর্যালোচনা করতে গিয়ে ভয়াবহ এ অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে এসেছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি কেনাকাটায় বাজারমূল্যের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত দাম পরিলক্ষিত হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন ছাড়াও কেনা হয়েছে অনেক পণ্য। সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার-প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পরের যোগসাজশে এ ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

ইতঃপূর্বে দেশে ‘বালিশ’ ও ‘পর্দা’ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য নির্ধারণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

দুঃখজনক হলো, দুর্নীতিবাজদের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা খুব একটা কাজে আসছে না। বলা হয়ে থাকে, দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম হল স্বাস্থ্য খাত। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে ঘুষ ও দুর্নীতির প্রতিযোগিতা। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ এমন কোনো কাজ নাকি নেই, যেখানে দুর্নীতি হয় না।

এসব যে মোটেই ভিত্তিহীন নয়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটার ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে।

সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করলেও স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান দুর্নীতির কারণে এর প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আশার কথা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও পণ্য কেনাকাটায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং এক্ষেত্রে দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এখন সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু উদ্ঘাটন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের দুরভিসন্ধি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মন থেকে কখনোই দূর হবে না।