এডিপির বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট
jugantor
এডিপির বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট
বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত

  সম্পাদকীয়  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বৈদেশিক সহায়তা অংশ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাটছাঁটের এ পরিমাণ গত অর্থবছরের তুলনায় কম, এটুকুই স্বস্তির বিষয়। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে এডিপির বৈদেশিক সহায়তা অংশ থেকে ছাঁটা হয়েছিল ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির জন্য এ বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বস্তুত এটি এডিপি বাস্তবায়নের ব্যর্থতাই নির্দেশ করে।

এডিপিতে কাটছাঁট যেন প্রতি বছরের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ওপরই বর্তায়।

এডিপির বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে না পারার মানে হল, সংশোধিত এডিপিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমে যাওয়া, ব্যয় করা যায়নি বলে অনেক টাকা ফেরত যাওয়া। ফলে এসব মন্ত্রণালয়ের দ্বারা ওই টাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় হতে পারবে না। এর সেবা থেকে বঞ্চিত হবে জনগণ।

এটি দুঃখজনক। বরাদ্দের টাকা ব্যয় না হওয়াটা স্পষ্টতই সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা। এজন্য নানা অজুহাত দেখানো হয়ে থাকে। হয়তো এবার দোহাই দেয়া হবে করোনা মহামারির।

এটি ঠিক, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বেই। বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে এ অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তা গত অর্থবছরের তুলনায় কম কাটছাঁট হওয়ার কারণেও এর পক্ষে অনেক যুক্তি পাওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্টদের চেষ্টা হওয়া উচিত এডিপির পুরো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তা না হলে প্রশ্ন ওঠে, বাস্তবায়ন করতে না পারলে কেন নেয়া হয় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা? এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, এডিপি তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে ধারণার ভিত্তিতে অর্থাৎ কোনো প্রকল্পের বিষয়ে কোনো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে বৈদেশিক ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েই তা হিসাবে ধরা হয়। পরে দেখা যায়, ওই প্রকল্পে দাতাদের আগ্রহ নেই। তখন সেই ঋণ আর আসে না।

তাই আমরা মনে করি, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে প্রকল্প গ্রহণ করা অনুচিত। এ ছাড়া প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কেট অ্যানালাইসিস করা প্রয়োজন। বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে।

আমরা মনে করি, এডিপি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতেই থেকে যায় দুর্বলতা। কাজেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা উচিত।

এরপরও কোনো প্রকল্পের কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জোরদার করতে হবে মনিটরিং ব্যবস্থা।

যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করতে হবে। যারা ব্যর্থতার পরিচয় দেবেন, তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে।

এডিপির বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট

বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত
 সম্পাদকীয় 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বৈদেশিক সহায়তা অংশ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাটছাঁটের এ পরিমাণ গত অর্থবছরের তুলনায় কম, এটুকুই স্বস্তির বিষয়। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে এডিপির বৈদেশিক সহায়তা অংশ থেকে ছাঁটা হয়েছিল ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির জন্য এ বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বস্তুত এটি এডিপি বাস্তবায়নের ব্যর্থতাই নির্দেশ করে।

এডিপিতে কাটছাঁট যেন প্রতি বছরের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ওপরই বর্তায়।

এডিপির বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে না পারার মানে হল, সংশোধিত এডিপিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমে যাওয়া, ব্যয় করা যায়নি বলে অনেক টাকা ফেরত যাওয়া। ফলে এসব মন্ত্রণালয়ের দ্বারা ওই টাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় হতে পারবে না। এর সেবা থেকে বঞ্চিত হবে জনগণ।

এটি দুঃখজনক। বরাদ্দের টাকা ব্যয় না হওয়াটা স্পষ্টতই সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা। এজন্য নানা অজুহাত দেখানো হয়ে থাকে। হয়তো এবার দোহাই দেয়া হবে করোনা মহামারির।

এটি ঠিক, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বেই। বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে এ অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তা গত অর্থবছরের তুলনায় কম কাটছাঁট হওয়ার কারণেও এর পক্ষে অনেক যুক্তি পাওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্টদের চেষ্টা হওয়া উচিত এডিপির পুরো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তা না হলে প্রশ্ন ওঠে, বাস্তবায়ন করতে না পারলে কেন নেয়া হয় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা? এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, এডিপি তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে ধারণার ভিত্তিতে অর্থাৎ কোনো প্রকল্পের বিষয়ে কোনো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে বৈদেশিক ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েই তা হিসাবে ধরা হয়। পরে দেখা যায়, ওই প্রকল্পে দাতাদের আগ্রহ নেই। তখন সেই ঋণ আর আসে না।

তাই আমরা মনে করি, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে প্রকল্প গ্রহণ করা অনুচিত। এ ছাড়া প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কেট অ্যানালাইসিস করা প্রয়োজন। বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে।

আমরা মনে করি, এডিপি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতেই থেকে যায় দুর্বলতা। কাজেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা উচিত।

এরপরও কোনো প্রকল্পের কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জোরদার করতে হবে মনিটরিং ব্যবস্থা।

যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করতে হবে। যারা ব্যর্থতার পরিচয় দেবেন, তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে।