রোহিঙ্গা ইস্যুতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
jugantor
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কবে পাওয়া যাবে?

  সম্পাদকীয়  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার লুও ঝাওহুয়ি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার হাও দো সুয়ান অংশ নিয়েছেন এ বৈঠকে। রোহিঙ্গারা কবে নাগাদ স্বদেশে ফিরে যাবে, সে ব্যাপারে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক না হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, বৈঠকে হতাশ হওয়ার মতো কিছু হয়নি, বরং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক আশাবাদী। তিনি আরও বলেছেন, বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তার এই আশাবাদ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। আর এ সন্দেহের মূলে রয়েছে মিয়ানমারের অতীত আচরণ। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সীমাহীন উদাসীনতা অথবা ঢিলেমি প্রদর্শন করে আসছে।

প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা। কিন্তু মিয়ানমার এ পর্যন্ত মাত্র ৪২ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই-বাছাই করেছে।

এর মধ্যে ২৮ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী বলে স্বীকার করেছে, বাকি ১৪ হাজারের কোনো তথ্য মিয়ানমারের তথ্যভাণ্ডারে নেই বলে জানিয়েছে দেশটি।

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের আন্তরিকতা নেই বললেই চলে। দেশটি এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কেও উপেক্ষা করছে। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে চীন যেহেতু অংশীদার ছিল, তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামীতে ইতিবাচক কিছু ঘটনা ঘটতে পারে।

বস্তুত মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে চীন যদি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে আশা করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চীন বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে? অতীতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাবের বারবার বিরোধিতা করেছে চীন।

মঙ্গলবারের বৈঠকে যে সুনির্দিষ্ট কিছু পাওয়া গেল না, তাতেও চীনের ভূমিকাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা যায়। আমরা আশা করব, চীন তার শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তাহলেই কেবল মিয়ানমার তার একগুঁয়েমি পরিহার করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আমরা সেই বৈঠকের ফলাফল দেখার আশায় রইলাম।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কবে পাওয়া যাবে?
 সম্পাদকীয় 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার লুও ঝাওহুয়ি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার হাও দো সুয়ান অংশ নিয়েছেন এ বৈঠকে। রোহিঙ্গারা কবে নাগাদ স্বদেশে ফিরে যাবে, সে ব্যাপারে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক না হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, বৈঠকে হতাশ হওয়ার মতো কিছু হয়নি, বরং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক আশাবাদী। তিনি আরও বলেছেন, বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তার এই আশাবাদ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। আর এ সন্দেহের মূলে রয়েছে মিয়ানমারের অতীত আচরণ। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সীমাহীন উদাসীনতা অথবা ঢিলেমি প্রদর্শন করে আসছে।

প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা। কিন্তু মিয়ানমার এ পর্যন্ত মাত্র ৪২ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই-বাছাই করেছে।

এর মধ্যে ২৮ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী বলে স্বীকার করেছে, বাকি ১৪ হাজারের কোনো তথ্য মিয়ানমারের তথ্যভাণ্ডারে নেই বলে জানিয়েছে দেশটি।

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের আন্তরিকতা নেই বললেই চলে। দেশটি এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কেও উপেক্ষা করছে। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে চীন যেহেতু অংশীদার ছিল, তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামীতে ইতিবাচক কিছু ঘটনা ঘটতে পারে।

বস্তুত মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে চীন যদি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে আশা করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চীন বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে? অতীতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাবের বারবার বিরোধিতা করেছে চীন।

মঙ্গলবারের বৈঠকে যে সুনির্দিষ্ট কিছু পাওয়া গেল না, তাতেও চীনের ভূমিকাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা যায়। আমরা আশা করব, চীন তার শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তাহলেই কেবল মিয়ানমার তার একগুঁয়েমি পরিহার করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আমরা সেই বৈঠকের ফলাফল দেখার আশায় রইলাম।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা