নববর্ষ উদযাপন

ছিল বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরার অকৃত্রিম প্রয়াস

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা নববর্ষ

বিপুল আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে শনিবার দেশব্যাপী উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। স্বস্তির বিষয়, এবার বর্ষবরণের সামগ্রিক আয়োজন ছিল শান্তিপূর্ণ, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীতে প্রতিবারের মতো এবারও ভোরবেলা রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে অনুষ্ঠান করেছে ছায়ানট। পহেলা বৈশাখের ভোরে বাঁশিতে আহীর ভৈরব রাগালাপের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন বছরের আবাহন। ছায়ানট আয়োজিত বর্ষবরণের ৫১তম প্রভাতী এ আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অরুণকান্তি কে গো যোগী ভিখারি’ গানে শিল্পী মর্তুজা কবির মুরাদের বাঁশিতে তোলা আহীর ভৈরব রাগ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় প্রথম সম্মেলক গান ‘ঐ পোহাইল তিমির রাত্রি’। শাশ্বত বাঙালি হবার প্রত্যয়ে ছায়ানটের এবারের প্রভাতী বর্ষবরণের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘বিশ্বায়নের বাস্তবতায় শিকড়ের সন্ধান’।

অন্যদিকে প্রতিবারের মতো চারুকলার আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার লালন সাঁইজির গানের অমিয় বাণী ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’- এ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে আবহমান বাংলার লোকজ মোটিফের মধ্য দিয়ে সোনার মানুষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এবারের শোভাযাত্রায় মোট বড় শিল্প কাঠামো ছিল সাতটি- বক ও মাছ, মা ও পাখি, সূর্য, হাতি, জেলে, মহিষ ও সাইকেলে চড়া ট্যাপা পুতুল। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও দেশের সব উপজেলায় শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছিল স্থানীয় প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অবস্তুগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে এবারও সারা দেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালি এবং সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

আমাদের বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসব। বাংলা নববর্ষের হাত ধরে প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু ইত্যাদি উৎসব। চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজন চলেছে বিভিন্ন পাহাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে।

উপমহাদেশের অন্যান্য জাতির নববর্ষও আসে প্রায় অভিন্ন সময়ে। নিজেদের বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি আমরা যদি অন্যদের এ ধরনের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং তাতে অংশ নিই, তাহলে তা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এবার বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলোয় নেয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতায় উৎসবে আসা অনেককে বিড়ম্বনায় পড়তে হলেও সন্দেহ নেই, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে এ ব্যবস্থা মেনে নিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ।

পহেলা বৈশাখের মতো অসাম্প্রদায়িক উৎসবের প্রতি ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর গাত্রদাহ থাকা স্বাভাবিক। আশার কথা, কোনো ভয়-ভীতি-আতঙ্কই বাঙালিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। নতুন বছরে সব বাধা অতিক্রম করে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বস্তুত উৎসব-আনন্দের মধ্য দিয়ে বাঙালি পুরনো জরা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে এবং এসব আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার অকৃত্রিম প্রয়াস ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×