জো বাইডেনের অভিষেক
jugantor
জো বাইডেনের অভিষেক
যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য এক বড় সুখবর

  সম্পাদকীয়  

২২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। বুধবার স্থানীয় সময় ১১টা ৪৮ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শপথ নিয়েছেন তিনি।

তার আগে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বলা বাহুল্য, ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে তারা দুজন শপথ নিয়েছেন। একদিকে করোনাভাইরাস, অন্যদিকে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেখে যাওয়া বিভক্ত সমাজ-এ দুই কারণে শপথ অনুষ্ঠানটি আগের মতো থাকতে পারেনি।

বস্তুত করোনাভাইরাসজনিত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি, মহামারির কারণে নাজুক অর্থনীতি, ভেঙে পড়া পররাষ্ট্রনীতি, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম অসহযোগিতা ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুপস্থিত থেকে তার অগণতান্ত্রিক চরিত্র আবারও পরিস্ফুট করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জো বাইডেন বলেছেন, ‘আজ আমেরিকার বিজয় দিবস, আজ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। এ মুহূর্তে আমরা বলতে পারি, গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’

জো বাইডেন এমন এক সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন সেখানে বিরাজ করছে এক বিভক্ত সমাজ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শ্বেতাঙ্গরাই শ্রেষ্ঠ’ নীতি আমেরিকাকে এমন এক সমাজে পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাইডেনও উপলব্ধি করেছেন এই সত্য। আর তাই তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেছেন, ‘কঠিন ও সমস্যাসংকুল সময়ে আমরা বাস করছি।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আত্মা ও তার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে যা প্রয়োজন, তা হলো ঐক্য।’ বলা বাহুল্য, আমেরিকার জনগণের এই ঐক্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমরা চাইব, আমেরিকার হারানো ঐক্য পুনরুদ্ধারে জো বাইডেন গণতান্ত্রিক চেতনায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। বাইডেনের জন্য দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের চার লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছেন। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। সেখানে বেড়েছে বেকারত্ব। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

বাইডেনের তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ট্রাম্প যুগের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন সাধন করা। গত চার বছরে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হৃত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম আমরা।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য তা এক আশীর্বাদ বলা যায়। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের প্রতি সংবেদনশীল বলেই পরিচিত। তিনি অভিবাসন নীতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন, তাতে বিশেষত অবৈধ অভিবাসীরা বৈধতা লাভ করবেন।

এতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে, যা আমাদের রেমিটেন্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বৈকি। দ্বিতীয়ত, জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তির প্রশ্নেও বাইডেনের ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারি।

তৃতীয়ত, বাইডেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন পুরো প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি ২০১৫ সালের জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত আনবেন।

বলা বাহুল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে বাংলাদেশ একটি নাজুক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু চুক্তিতে ফেরত এলে বাংলাদেশের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

চতুর্থত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে পারে বৈকি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এক কথায়, বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় অংশীদারিত্ব তৈরি করা গেলে আমাদের জন্য তা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসনের সাফল্য কামনা করছি।

জো বাইডেনের অভিষেক

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য এক বড় সুখবর
 সম্পাদকীয় 
২২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। বুধবার স্থানীয় সময় ১১টা ৪৮ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শপথ নিয়েছেন তিনি।

তার আগে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বলা বাহুল্য, ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে তারা দুজন শপথ নিয়েছেন। একদিকে করোনাভাইরাস, অন্যদিকে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেখে যাওয়া বিভক্ত সমাজ-এ দুই কারণে শপথ অনুষ্ঠানটি আগের মতো থাকতে পারেনি।

বস্তুত করোনাভাইরাসজনিত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি, মহামারির কারণে নাজুক অর্থনীতি, ভেঙে পড়া পররাষ্ট্রনীতি, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম অসহযোগিতা ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুপস্থিত থেকে তার অগণতান্ত্রিক চরিত্র আবারও পরিস্ফুট করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জো বাইডেন বলেছেন, ‘আজ আমেরিকার বিজয় দিবস, আজ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। এ মুহূর্তে আমরা বলতে পারি, গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’

জো বাইডেন এমন এক সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন সেখানে বিরাজ করছে এক বিভক্ত সমাজ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শ্বেতাঙ্গরাই শ্রেষ্ঠ’ নীতি আমেরিকাকে এমন এক সমাজে পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাইডেনও উপলব্ধি করেছেন এই সত্য। আর তাই তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেছেন, ‘কঠিন ও সমস্যাসংকুল সময়ে আমরা বাস করছি।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আত্মা ও তার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে যা প্রয়োজন, তা হলো ঐক্য।’ বলা বাহুল্য, আমেরিকার জনগণের এই ঐক্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমরা চাইব, আমেরিকার হারানো ঐক্য পুনরুদ্ধারে জো বাইডেন গণতান্ত্রিক চেতনায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। বাইডেনের জন্য দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের চার লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছেন। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। সেখানে বেড়েছে বেকারত্ব। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

বাইডেনের তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ট্রাম্প যুগের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন সাধন করা। গত চার বছরে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হৃত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম আমরা।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য তা এক আশীর্বাদ বলা যায়। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের প্রতি সংবেদনশীল বলেই পরিচিত। তিনি অভিবাসন নীতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন, তাতে বিশেষত অবৈধ অভিবাসীরা বৈধতা লাভ করবেন।

এতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে, যা আমাদের রেমিটেন্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বৈকি। দ্বিতীয়ত, জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তির প্রশ্নেও বাইডেনের ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারি।

তৃতীয়ত, বাইডেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন পুরো প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি ২০১৫ সালের জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত আনবেন।

বলা বাহুল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে বাংলাদেশ একটি নাজুক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু চুক্তিতে ফেরত এলে বাংলাদেশের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

চতুর্থত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে পারে বৈকি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এক কথায়, বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় অংশীদারিত্ব তৈরি করা গেলে আমাদের জন্য তা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসনের সাফল্য কামনা করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন