বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা

  আর কে চৌধুরী ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা

চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। আর্তমানবতার সেবার বদলে যেভাবে হোক অর্থ আদায় এ পেশার সুনামকে জিম্মি করে ফেলছে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু নয়, অভিজাত হাসপাতালগুলোও পিছিয়ে নেই।

নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য কেউ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলেই তাকে পাঠানো হচ্ছে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বদলে রোগী ও প্রসূতির জীবন নিয়ে ভয় ধরিয়ে অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি চোখের ছানি অপারেশনের নামে ২০ রোগীর চোখ নষ্ট করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার একটি চক্ষু হাসপাতাল।

সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা চিকিৎসা খাতের অনিয়ম-অবহেলার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেই খালাস। ফলে কাটছে না বেহাল দশা। দেশে প্রতি বছরই সরকারি খরচে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ক্লিনিক ও হাসপাতাল।

যন্ত্রপাতি ওষুধপত্রের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। এসব চিকিৎসালয়ে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও থাকে না কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানী থেকে নিভৃতপল্লী পর্যন্ত বিরাজ করছে অভিন্ন অবস্থা।

চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়ারা রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছে অবলীলায়। যে কারণে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ, ছুরি-চাকু রেখে সেলাই করে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলছে দালালদের রাজত্ব। তারা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ।

এসব দেখভালের যেন কেউ নেই। খোদ রাজধানীতেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বড় বড় হাসপাতাল আছে, চিকিৎসা সরঞ্জামেরও অভাব নেই, শুধু সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতায় সেবাবঞ্চিত থাকছেন রোগীরা।

ডাক্তারের অবর্তমানে ওয়ার্ডবয় আর নার্সদের গাফিলতিতে আয়ারা হয়ে ওঠেন সর্বেসর্বা। আছে দালালদের সীমাহীন উৎপাত। হাসপাতালে ভর্তি করতে দালাল, ওয়ার্ডে বেড পাওয়া নিশ্চিত করতে দালাল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেও দালালদের সাহায্য নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ছুটির দিন আর রাতের বেলায় হাসপাতালগুলোর চেহারা যেন আমূল পাল্টে যায়।

বহু খোঁজাখুঁজি করেও কর্মরত ডাক্তারদের সন্ধান মেলে না। দরজা আটকে বিশ্রামে থাকা নার্সদের ডাকলে রীতিমতো রক্তচক্ষু দেখতে হয়। অন্যদিকে কানে মোবাইল ফোন লাগিয়ে খোশগল্প করার ফাঁকে ফাঁকে রোগী দেখা ডাক্তারদের দুর্ব্যবহারের শেষ নেই।

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিরাজ করছে আয়া, দারোয়ানসহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের রামরাজত্ব। হাসপাতালের আঙিনায় তারা পরিচালনা করছে দোকানপাট। দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও তার সুফল অনেকাংশে পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ মানুষের কাছে।

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। নাগরিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদ্যমান অবস্থার অবসানে সরকারকে যত্নবান হতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক তথা স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter