দরিদ্রদের মাঝে ঘর হস্তান্তর: সাধুবাদ পাওয়ার মতো প্রকল্প
jugantor
দরিদ্রদের মাঝে ঘর হস্তান্তর: সাধুবাদ পাওয়ার মতো প্রকল্প

  সম্পাদকীয়  

২৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহু চেষ্টা করেও যারা টেকসই আবাস গড়ে তুলতে পারে না, তাদের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব মানুষকে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। দেশের সরকার এমন হতদরিদ্রদের পাশে সব সময়ই থাকে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে এবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

গতকাল বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছে। এমন অসাধারণ উদ্যোগের জন্য সুবিধাভোগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় এক সময়ের ছিটমহলবাসী বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলায় বসবাসকারী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দরিদ্র মানুষ নতুন ঘর পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ছিটমহলবাসীদের আগে অনেক সমস্যা ছিল, যা বহুল আলেচিত। দেশের উন্নয়নের সুফল এখন তারাও পাচ্ছে।

সেই ছিটমহলবাসীদেরই একজন ৮৫ বছর বয়সি দেলু বেগম-গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার আবেগের কথা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুত এই অনুভূতি কেবল একজন দেলু বেগমেরই নয়, এ উচ্ছ্বাস অতীতের সব ছিটমহলবাসীরই।

দেশে চলমান উন্নয়নের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন-মুজিববর্ষে দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর ছিন্নমূল ও দুস্থ ভূমিহীন-গৃহহীনদের আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা কম নয়।

এছাড়া নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব হতদরিদ্র মানুষকে এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় আনা না হলে তারা বংশপরম্পরায় দরিদ্রই থেকে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলের বিস্তৃীর্ণ এলাকার মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর আরও পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বিশেষ করে তাদের টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। লক্ষ করা গেছে, বড় ধরনের সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ ঘরেই অবস্থানের চেষ্টা করেছে।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে একসঙ্গে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্ট হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশে অনিবার্যভাবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাবে। দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতদরিদ্র থাকলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে নানা রকম বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই যায়।

কাজেই টেকসই আবাসনের পাশাপাশি দেশের হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য বিদ্যমান কর্মসূচির পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে নেই। কিন্তু যেসব মানুষের সামর্থ্য সীমিত তারাও যাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে তার জন্য সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নেবে এটাও আমাদের প্রত্যাশা।

দরিদ্রদের মাঝে ঘর হস্তান্তর: সাধুবাদ পাওয়ার মতো প্রকল্প

 সম্পাদকীয় 
২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহু চেষ্টা করেও যারা টেকসই আবাস গড়ে তুলতে পারে না, তাদের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব মানুষকে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। দেশের সরকার এমন হতদরিদ্রদের পাশে সব সময়ই থাকে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে এবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

গতকাল বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছে। এমন অসাধারণ উদ্যোগের জন্য সুবিধাভোগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় এক সময়ের ছিটমহলবাসী বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলায় বসবাসকারী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দরিদ্র মানুষ নতুন ঘর পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ছিটমহলবাসীদের আগে অনেক সমস্যা ছিল, যা বহুল আলেচিত। দেশের উন্নয়নের সুফল এখন তারাও পাচ্ছে।

সেই ছিটমহলবাসীদেরই একজন ৮৫ বছর বয়সি দেলু বেগম-গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার আবেগের কথা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুত এই অনুভূতি কেবল একজন দেলু বেগমেরই নয়, এ উচ্ছ্বাস অতীতের সব ছিটমহলবাসীরই।

দেশে চলমান উন্নয়নের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন-মুজিববর্ষে দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর ছিন্নমূল ও দুস্থ ভূমিহীন-গৃহহীনদের আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা কম নয়।

এছাড়া নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব হতদরিদ্র মানুষকে এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় আনা না হলে তারা বংশপরম্পরায় দরিদ্রই থেকে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলের বিস্তৃীর্ণ এলাকার মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর আরও পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বিশেষ করে তাদের টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। লক্ষ করা গেছে, বড় ধরনের সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ ঘরেই অবস্থানের চেষ্টা করেছে।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে একসঙ্গে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্ট হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশে অনিবার্যভাবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাবে। দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতদরিদ্র থাকলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে নানা রকম বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই যায়।

কাজেই টেকসই আবাসনের পাশাপাশি দেশের হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য বিদ্যমান কর্মসূচির পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে নেই। কিন্তু যেসব মানুষের সামর্থ্য সীমিত তারাও যাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে তার জন্য সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নেবে এটাও আমাদের প্রত্যাশা।