ব্যাংকিং খাত সংস্কার: কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক
jugantor
ব্যাংকিং খাত সংস্কার: কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক

  সম্পাদকীয়  

২৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের প্রথমদিকে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ব্যাংকিং কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে। এতে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সুদ মওকুফ বিষয়ে তদন্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে কমিশনের মতামত নেওয়ার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে অর্থ পাচারের বিষয়েও তদন্ত করতে আবেদন করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৯ সালের নভেম্বরে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ বাংককে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠনের আদেশ দেন। এর ভিত্তিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কমিটি গঠনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বলতা খুঁজতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শুভ ফল বয়ে আনবে বলে আমরা মনে করি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আরও একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারিকৃত এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সব ব্যাংকের পরিচালক, এমডি ও নিচের দুই স্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ ব্যবসার বিবরণ দিতে হবে। এতে আর্থিক, কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য ব্যবসার নাম, ঠিকানাসহ সব তথ্য ব্যাংকের পর্ষদের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে জানাতে হবে পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলোও।

বস্তুত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিবর্গের অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে এবং এর ফলে খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঋণ জালিয়াতিসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবশ্যই আইনি কাঠামোর আওতায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

২০১৩ হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ ব্যাংকিং খাতে একের পর এক বড় বড় দুর্নীতির চিত্র প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জোরালো হলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি সরকারের দুই মেয়াদের দুই অর্থমন্ত্রী ব্যাংক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরকারের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সুফলদায়ক হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ক্রমঅগ্রসরমান ব্যাংকিং খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে গঠিত কমিটি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

ব্যাংকিং খাত সংস্কার: কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক

 সম্পাদকীয় 
২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের প্রথমদিকে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ব্যাংকিং কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে। এতে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সুদ মওকুফ বিষয়ে তদন্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে কমিশনের মতামত নেওয়ার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে অর্থ পাচারের বিষয়েও তদন্ত করতে আবেদন করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৯ সালের নভেম্বরে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ বাংককে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠনের আদেশ দেন। এর ভিত্তিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কমিটি গঠনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বলতা খুঁজতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শুভ ফল বয়ে আনবে বলে আমরা মনে করি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আরও একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারিকৃত এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সব ব্যাংকের পরিচালক, এমডি ও নিচের দুই স্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ ব্যবসার বিবরণ দিতে হবে। এতে আর্থিক, কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য ব্যবসার নাম, ঠিকানাসহ সব তথ্য ব্যাংকের পর্ষদের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে জানাতে হবে পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলোও।

বস্তুত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিবর্গের অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে এবং এর ফলে খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঋণ জালিয়াতিসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবশ্যই আইনি কাঠামোর আওতায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

২০১৩ হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ ব্যাংকিং খাতে একের পর এক বড় বড় দুর্নীতির চিত্র প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জোরালো হলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি সরকারের দুই মেয়াদের দুই অর্থমন্ত্রী ব্যাংক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরকারের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সুফলদায়ক হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ক্রমঅগ্রসরমান ব্যাংকিং খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে গঠিত কমিটি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে, এটাই প্রত্যাশা।