প্রকল্পের শম্বুক গতি
jugantor
প্রকল্পের শম্বুক গতি
রেলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর হোক

  সম্পাদকীয়  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্পের শম্বুক গতি

রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি বহুল আলোচিত। বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি কতটা বেড়েছে এটা এক প্রশ্ন। রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে ধীরগতির বিষয়টিও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী রেললাইনের যোগাযোগে সুবিধা বাড়ানো গেলে সারা দেশের রেল যোগাযোগে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি বিবেচনায় রেখে কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। অথচ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি হতাশাজনক। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা-টঙ্গী-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনে প্রতি ৩ থেকে ৪ মিনিট পরপর ট্রেন পরিচালনার জন্য দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল প্রায় এক যুগ ও ৭ বছর আগে। ২-৩ বছরের মধ্যে প্রকল্প দুটি শেষ করার কথা থাকলেও আজও তা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে অর্থব্যয়ও। জানা গেছে, ওই রুটে শুধু লাইনের অভাবেই সিগন্যাল পেতে টঙ্গী এবং এর আশপাশে দুই অঞ্চল (পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল) থেকে আসা বিভিন্ন ট্রেনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ উল্লিখিত প্রকল্প দুটি সমাপ্ত হলে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসত।

রাজধানী ও এর আশপাশে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের অন্য কোনো এলাকার তুলনায় বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। রেল যোগাযোগের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতায় কোনোরকম ঘাটতি থাকলে এ ধরনের বড় প্রকল্পের জটিলতা দূর করতে সময় বেশি লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রকল্প দুটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ করার জন্য অন্য যেসব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদেরও সমস্যার সমাধানে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতায় পরিচয় দিতে হবে। কারণ এর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগে গতির বিষয়টি জড়িত। রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন এত দেরি হয়, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

দুর্নীতি বজায় রেখে জাতিকে যুগোপযোগী রেল উপহার দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রেলের আধুনিকায়ন-সম্প্রসারণও জরুরি। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে রেললাইনগুলো ঝুঁকি ও ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে যন্ত্রাংশ চোরদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। রেলওয়েতে লোকবল বাড়িয়ে লাইনগুলোয় নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। রেলের দখল হওয়া জায়গা ও সম্পদ উদ্ধার করা হোক। আমরা রেল ব্যবস্থার উন্নতি চাই। রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে হবে।

প্রকল্পের শম্বুক গতি

রেলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর হোক
 সম্পাদকীয় 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রকল্পের শম্বুক গতি
ফাইল ছবি

রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি বহুল আলোচিত। বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি কতটা বেড়েছে এটা এক প্রশ্ন। রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে ধীরগতির বিষয়টিও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী রেললাইনের যোগাযোগে সুবিধা বাড়ানো গেলে সারা দেশের রেল যোগাযোগে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি বিবেচনায় রেখে কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। অথচ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি হতাশাজনক। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা-টঙ্গী-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনে প্রতি ৩ থেকে ৪ মিনিট পরপর ট্রেন পরিচালনার জন্য দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল প্রায় এক যুগ ও ৭ বছর আগে। ২-৩ বছরের মধ্যে প্রকল্প দুটি শেষ করার কথা থাকলেও আজও তা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে অর্থব্যয়ও। জানা গেছে, ওই রুটে শুধু লাইনের অভাবেই সিগন্যাল পেতে টঙ্গী এবং এর আশপাশে দুই অঞ্চল (পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল) থেকে আসা বিভিন্ন ট্রেনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ উল্লিখিত প্রকল্প দুটি সমাপ্ত হলে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসত।

রাজধানী ও এর আশপাশে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের অন্য কোনো এলাকার তুলনায় বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। রেল যোগাযোগের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতায় কোনোরকম ঘাটতি থাকলে এ ধরনের বড় প্রকল্পের জটিলতা দূর করতে সময় বেশি লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রকল্প দুটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ করার জন্য অন্য যেসব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদেরও সমস্যার সমাধানে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতায় পরিচয় দিতে হবে। কারণ এর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগে গতির বিষয়টি জড়িত। রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন এত দেরি হয়, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

দুর্নীতি বজায় রেখে জাতিকে যুগোপযোগী রেল উপহার দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রেলের আধুনিকায়ন-সম্প্রসারণও জরুরি। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে রেললাইনগুলো ঝুঁকি ও ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে যন্ত্রাংশ চোরদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। রেলওয়েতে লোকবল বাড়িয়ে লাইনগুলোয় নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। রেলের দখল হওয়া জায়গা ও সম্পদ উদ্ধার করা হোক। আমরা রেল ব্যবস্থার উন্নতি চাই। রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন