শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ভাবনা: ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হবে
jugantor
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ভাবনা: ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে। জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির পর যে কোনোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্লাস শুরু হলে আপাতত শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫-৬ দিন স্কুলে আসতে হবে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন স্কুলে আসবে।

ইতোমধ্যে শিক্ষাখাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। জানা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলে সর্বপ্রথম লেখাপড়ার ঘাটতি পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা থাকলে আশা করা যায় কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই তা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী বেশি হলে একাধিক শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার নিয়মটি কঠোরভাবে মানতে হবে। করোনা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে প্রায় সবাই ইতোমধ্যে জেনেছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সেসব বিষয়ে অবহেলা না করে, তার জন্যও তাদের নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রদান করতে হবে। জানা গেছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির মতামত নিয়ে সবকিছু করা হবে। আমরা আশা করব, এ কমিটির নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে কোনো অবহেলা করছে কি না, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে প্রধান বিবেচ্য। তিনি বলেছেন, কোভিডবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিলেও সব শিক্ষার্থীকে একদিনে প্রতিষ্ঠানে আনা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

আমরা আশা করব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করার কাজটি অত্যন্ত কঠিন। সেক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে অর্থাৎ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরাও যাতে এর সুফল পেতে পারে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশে টিকা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হলেই মানুষ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। কারণ, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং টিকা নেওয়ার পরও করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। দুই. স্বাস্থ্যসেবার উপকরণ সুলভ করা। উপকরণ সংকটের কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না।

অল্পবয়সি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। করোনার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বিশেষজ্ঞদেরও অজানা। কাজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ভাবনা: ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে। জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির পর যে কোনোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্লাস শুরু হলে আপাতত শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫-৬ দিন স্কুলে আসতে হবে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন স্কুলে আসবে।

ইতোমধ্যে শিক্ষাখাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। জানা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলে সর্বপ্রথম লেখাপড়ার ঘাটতি পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা থাকলে আশা করা যায় কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই তা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী বেশি হলে একাধিক শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার নিয়মটি কঠোরভাবে মানতে হবে। করোনা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে প্রায় সবাই ইতোমধ্যে জেনেছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সেসব বিষয়ে অবহেলা না করে, তার জন্যও তাদের নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রদান করতে হবে। জানা গেছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির মতামত নিয়ে সবকিছু করা হবে। আমরা আশা করব, এ কমিটির নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে কোনো অবহেলা করছে কি না, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে প্রধান বিবেচ্য। তিনি বলেছেন, কোভিডবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিলেও সব শিক্ষার্থীকে একদিনে প্রতিষ্ঠানে আনা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

আমরা আশা করব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করার কাজটি অত্যন্ত কঠিন। সেক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে অর্থাৎ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরাও যাতে এর সুফল পেতে পারে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশে টিকা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হলেই মানুষ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। কারণ, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং টিকা নেওয়ার পরও করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। দুই. স্বাস্থ্যসেবার উপকরণ সুলভ করা। উপকরণ সংকটের কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না।

অল্পবয়সি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। করোনার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বিশেষজ্ঞদেরও অজানা। কাজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।