জনবান্ধব মেয়র চাই
jugantor
জনবান্ধব মেয়র চাই

  নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া  

২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নির্বাচনি প্রচারণা। প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনি ময়দান উত্তপ্ত হয়ে আছে।

প্রচারণা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন সবার মনে প্রশ্ন, জনগণ কেমন মেয়র চায়? অর্থাৎ, মেয়রের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কী? চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী এবং দীর্ঘসময় ধরে চসিক এলাকার বাসিন্দা হিসাবে নবনির্বাচিত মেয়রের কাছে আমার কিছু প্রত্যাশা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

চসিকের মেয়র পদে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে জনবান্ধব হতে হবে এবং চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রাম অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে; তাই মেয়রের কাছ থেকে কথার ফুলঝুরি নয়, কাজ দেখতে চায় জনগণ। অনেকে লম্বা লম্বা প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় সেটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে না।

এসবের ফলে মানুষের কাছেও তিনি গুরুত্ব হারান। মেয়র যেন শাসক না হয়ে শহরের প্রকৃত অভিভাবক হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন; সবকিছু যাতে মেয়রকেন্দ্রিক না হয়ে ওঠে এ বিষয়ে কাউন্সিলরদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের সক্রিয় করতে মেয়রকে উদ্যোগ নিতে হবে।

জনগণের প্রত্যাশা মেটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এমন মেয়র চাই। মানুষ যাতে সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ শহরটিকে ধুলাবালিমুক্ত, পরিবেশবান্ধব, নান্দনিক করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর করতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট থাকতে হবে।

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। যিনি মেয়র হবেন তিনি যেন সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে অধীনস্থদের কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। মেয়রের কাজ, বিশেষ করে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা, আবর্জনা-নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে শহরটা পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার উপদ্রব দূর করা, শহরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, সড়কের সংস্কারকাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা তদারক করা, সিডিএসহ অন্য সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা, যাতে এক সড়কে বারবার কাটাকাটি না হয়।

শহরের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য কাজ করতে হবে। যানজট, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। তা ছাড়া চট্টগ্রামে টার্মিনাল নির্মাণের মতো জায়গা থাকলেও পর্যাপ্ত বাস-ট্রাক টার্মিনাল নেই। এ বিষয়ে মেয়রকে উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রামে ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে এটা সিটি করপোরেশন একা পারবে না, তাই সবাইকে যার যার দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়রকে চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সম্মুখসারির নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।

নতুন মেয়র নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করে মানুষের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখবেন। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করবেন। চট্টগ্রামকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেবেন। কর্মহীনদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা এবং শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এটাই প্রত্যাশা।

পরিশেষে বলব, আমরা চাই জলাবদ্ধতা, ধুলাবালি ও হানাহানিমুক্ত একটা জনবান্ধব শহর। আমরা চাই বিশ্বের উন্নত দেশের উন্নত শহরগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে আধুনিক মেগা সিটি এবং মেয়রকে হতে হবে সৎ, যোগ্য, দূরদর্শী এবং জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ।

নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া : প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম

জনবান্ধব মেয়র চাই

 নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া 
২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নির্বাচনি প্রচারণা। প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনি ময়দান উত্তপ্ত হয়ে আছে।

প্রচারণা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন সবার মনে প্রশ্ন, জনগণ কেমন মেয়র চায়? অর্থাৎ, মেয়রের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কী? চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী এবং দীর্ঘসময় ধরে চসিক এলাকার বাসিন্দা হিসাবে নবনির্বাচিত মেয়রের কাছে আমার কিছু প্রত্যাশা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

চসিকের মেয়র পদে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে জনবান্ধব হতে হবে এবং চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রাম অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে; তাই মেয়রের কাছ থেকে কথার ফুলঝুরি নয়, কাজ দেখতে চায় জনগণ। অনেকে লম্বা লম্বা প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় সেটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে না।

এসবের ফলে মানুষের কাছেও তিনি গুরুত্ব হারান। মেয়র যেন শাসক না হয়ে শহরের প্রকৃত অভিভাবক হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন; সবকিছু যাতে মেয়রকেন্দ্রিক না হয়ে ওঠে এ বিষয়ে কাউন্সিলরদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের সক্রিয় করতে মেয়রকে উদ্যোগ নিতে হবে।

জনগণের প্রত্যাশা মেটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এমন মেয়র চাই। মানুষ যাতে সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ শহরটিকে ধুলাবালিমুক্ত, পরিবেশবান্ধব, নান্দনিক করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর করতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট থাকতে হবে।

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। যিনি মেয়র হবেন তিনি যেন সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে অধীনস্থদের কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। মেয়রের কাজ, বিশেষ করে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা, আবর্জনা-নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে শহরটা পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার উপদ্রব দূর করা, শহরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, সড়কের সংস্কারকাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা তদারক করা, সিডিএসহ অন্য সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা, যাতে এক সড়কে বারবার কাটাকাটি না হয়।

শহরের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য কাজ করতে হবে। যানজট, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। তা ছাড়া চট্টগ্রামে টার্মিনাল নির্মাণের মতো জায়গা থাকলেও পর্যাপ্ত বাস-ট্রাক টার্মিনাল নেই। এ বিষয়ে মেয়রকে উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রামে ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে এটা সিটি করপোরেশন একা পারবে না, তাই সবাইকে যার যার দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়রকে চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সম্মুখসারির নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।

নতুন মেয়র নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করে মানুষের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখবেন। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করবেন। চট্টগ্রামকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেবেন। কর্মহীনদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা এবং শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এটাই প্রত্যাশা।

পরিশেষে বলব, আমরা চাই জলাবদ্ধতা, ধুলাবালি ও হানাহানিমুক্ত একটা জনবান্ধব শহর। আমরা চাই বিশ্বের উন্নত দেশের উন্নত শহরগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে আধুনিক মেগা সিটি এবং মেয়রকে হতে হবে সৎ, যোগ্য, দূরদর্শী এবং জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ।

নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া : প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম