ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ
jugantor
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ
করোনার ভয়কে জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক

  সম্পাদকীয়  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে নিজেদের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের ঘটনা টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই, যা তাদের আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের আগে জরুরি ছিল।

বস্তুত করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের যাবতীয় কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় ক্রিকেটসহ গোটা ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিও মানুষ মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। টাইগারদের এই উজ্জীবিত সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেটভক্তদের সেই মনোযোগ আবার ফিরিয়ে দেবে নিশ্চয়ই। করোনার ধাক্কা সামলে সবকিছুই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

এখনো করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে গেলেও টিকাদানের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষ শিগগিরই তাদের সাহস ও মনোবল ফিরে পাবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে অন্য সবকিছুর মতো ক্রিকেটও ফিরে পাবে প্রাণ। আবারও বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গন দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের টাইগাররা। এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তারা আমাদের শুধু বিনোদনেরই খোরাক জোগাবে না, বিশ্বে উজ্জ্বল করবে দেশের ভাবমূর্তিও।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগারদের সফল প্রত্যাবর্তন একটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো।

উল্লেখ্য, ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এ লিগের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে আপাতত ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে এই লিগ শেষে সেরা আটে থাকতে হবে টাইগারদের।

সদ্য সমাপ্ত ওডিআই সিরিজ প্রসঙ্গে আমরা বলব, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় শক্তি। তবে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত তাদের বর্তমান দলটি ততো শক্তিশালী নয়। তা সত্ত্বেও টাইগারদের সিরিজ জয়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তারা করোনার ভয়কে জয় করে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে যেভাবে পর্যুদস্ত করেছে, তা প্রশংসনীয়।

বস্তুত দলগত সব খেলারই সাফল্য নির্ভর করে টিম স্পিরিটের ওপর। ক্রিকেটেও তা-ই। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-এ তিন ক্ষেত্রে ভালো করতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় ধরা দেয়। সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগাররা সেই কাজটিই করেছে। বিশেষ করে সিরিজের শেষ ম্যাচে চার ব্যাটসম্যানের অর্ধশত রানের ইনিংস মনে রাখার মতো।

এ নিয়ে তৃতীয়বার এক ইনিংসে বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি করলেন। এ সিরিজ জয়ের জন্য, বিশেষ করে করোনাকালে প্রথম সিরিজেই বড় সাফল্যের জন্য টাইগারদের প্রতি রইল আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের যে টেস্ট সিরিজ হবে, সেক্ষেত্রেও আমরা টাইগারদের সাফল্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের সব বাঘা বাঘা দলের বিপক্ষে জয় করায়ত্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের স্বপ্ন এখন বিশ্বকাপ। জনগণের ভালোবাসা এবং সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। আমরা সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ

করোনার ভয়কে জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক
 সম্পাদকীয় 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে নিজেদের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের ঘটনা টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই, যা তাদের আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের আগে জরুরি ছিল।

বস্তুত করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের যাবতীয় কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় ক্রিকেটসহ গোটা ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিও মানুষ মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। টাইগারদের এই উজ্জীবিত সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেটভক্তদের সেই মনোযোগ আবার ফিরিয়ে দেবে নিশ্চয়ই। করোনার ধাক্কা সামলে সবকিছুই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

এখনো করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে গেলেও টিকাদানের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষ শিগগিরই তাদের সাহস ও মনোবল ফিরে পাবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে অন্য সবকিছুর মতো ক্রিকেটও ফিরে পাবে প্রাণ। আবারও বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গন দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের টাইগাররা। এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তারা আমাদের শুধু বিনোদনেরই খোরাক জোগাবে না, বিশ্বে উজ্জ্বল করবে দেশের ভাবমূর্তিও।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগারদের সফল প্রত্যাবর্তন একটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো।

উল্লেখ্য, ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এ লিগের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে আপাতত ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে এই লিগ শেষে সেরা আটে থাকতে হবে টাইগারদের।

সদ্য সমাপ্ত ওডিআই সিরিজ প্রসঙ্গে আমরা বলব, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় শক্তি। তবে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত তাদের বর্তমান দলটি ততো শক্তিশালী নয়। তা সত্ত্বেও টাইগারদের সিরিজ জয়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তারা করোনার ভয়কে জয় করে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে যেভাবে পর্যুদস্ত করেছে, তা প্রশংসনীয়।

বস্তুত দলগত সব খেলারই সাফল্য নির্ভর করে টিম স্পিরিটের ওপর। ক্রিকেটেও তা-ই। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-এ তিন ক্ষেত্রে ভালো করতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় ধরা দেয়। সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগাররা সেই কাজটিই করেছে। বিশেষ করে সিরিজের শেষ ম্যাচে চার ব্যাটসম্যানের অর্ধশত রানের ইনিংস মনে রাখার মতো।

এ নিয়ে তৃতীয়বার এক ইনিংসে বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি করলেন। এ সিরিজ জয়ের জন্য, বিশেষ করে করোনাকালে প্রথম সিরিজেই বড় সাফল্যের জন্য টাইগারদের প্রতি রইল আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের যে টেস্ট সিরিজ হবে, সেক্ষেত্রেও আমরা টাইগারদের সাফল্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের সব বাঘা বাঘা দলের বিপক্ষে জয় করায়ত্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের স্বপ্ন এখন বিশ্বকাপ। জনগণের ভালোবাসা এবং সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। আমরা সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।