জীবিকার তাগিদে যাযাবর
jugantor
জীবিকার তাগিদে যাযাবর

  আজাহার ইসলাম  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকাটা রণক্ষেত্রে টিকে থাকার চেয়েও কঠিন। ‘বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার/তারি ’পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।’ রবিঠাকুরের এ কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় জীবনে। জীবিকার তাগিদে মানুষ বিচিত্র পথে যাত্রা করে। আর পরিবারের প্রধান যিনি, তার উপার্জনেই চলে একেকটি পরিবার।

বিপুলা এই পৃথিবীতে নানা শ্রেণির, নানা পেশার মানুষ বসবাস করে। কেউ বড় বড় দালানের উপরতলায় বসবাস করে, কেউ আবার ফুটপাতে ঘুমায়। কেউ পাঁচ তারকা রেস্টুরেন্টে পেটপুরে খেয়েও অতৃপ্তিতে ভোগে, কেউ আবার ফুটপাতে বসে দুমুঠো ভাত খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। জীবিকার তাগিদে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কাজ বেছে নেয়। তাদের মধ্যে ছিন্নমূল, অসহায় ও যাযাবরদের জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত যুদ্ধের মতো। শত বাধা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তবু দিনশেষে পরিবারের জন্য দুমুঠো আহার জোগাড় করতে পারলে তাদের মুখে তৃপ্তির ছাপ দেখা যায়।

নিরন্তর ছুটে চলা এক গোষ্ঠী ‘যাযাবর’, যারা প্রকৃতির মধ্যেই জীবনের বৈচিত্র্য খুঁজে পায়। দিনশেষে কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই কাটিয়ে দিতে পারে রাত। বৃষ্টির পানি বা রোদ এড়ানোটাই মুখ্য। যাযাবরদের প্রথম পরিচয়- তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। নেই জীবিকা অর্জনের জন্য সভ্য মানুষের রীতি। ধরাবাঁধা চাকরি নেই। কেউ ব্যবসা করলেও তা সাময়িক। ইতিহাস বলে, বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বেছে নিয়েছে এমন ছন্নছাড়া জীবন। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে আকস্মিক যুদ্ধ, খরা বা নদীভাঙন।

নিরুপায় হয়েই মানুষ যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে দুর্গম অঞ্চলে যাযাবরদের দেখা মেলে বেশি। গহিন অরণ্যেও দলবেঁধে থাকে তারা। আবার জলের উপর ভাসমান নৌকায়, তুষারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে শুরু করে মরুভ‚মির মাঝেও থাকে এরা। বংশপরম্পরায় এই যাযাবর জীবনই তাদের পরিচয় হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। যাযাবর বৃত্তি ছেড়ে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে অনেকেই।

যাযাবরদের জীবনযাপন সত্যিই রহস্যময়। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় তাদের। অঞ্চলভেদে একেক নাম, আর বেঁচে থাকার বিচিত্র সব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত বেশ, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। যাযাবর বলেই তাদের জীবন বৈচিত্র্যময়। এটাই এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট কোনো সমাজে আবদ্ধ নয়। ঘুরে বেড়ায় খেয়ালখুশিমতো। এতেই তারা আনন্দ পায়। তাদের মাঝে কখনোই অসন্তুষ্টির ছাপ চোখে পড়ে না।

আজাহার ইসলাম : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ayharislam729@gmail.com

জীবিকার তাগিদে যাযাবর

 আজাহার ইসলাম 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকাটা রণক্ষেত্রে টিকে থাকার চেয়েও কঠিন। ‘বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার/তারি ’পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।’ রবিঠাকুরের এ কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় জীবনে। জীবিকার তাগিদে মানুষ বিচিত্র পথে যাত্রা করে। আর পরিবারের প্রধান যিনি, তার উপার্জনেই চলে একেকটি পরিবার।

বিপুলা এই পৃথিবীতে নানা শ্রেণির, নানা পেশার মানুষ বসবাস করে। কেউ বড় বড় দালানের উপরতলায় বসবাস করে, কেউ আবার ফুটপাতে ঘুমায়। কেউ পাঁচ তারকা রেস্টুরেন্টে পেটপুরে খেয়েও অতৃপ্তিতে ভোগে, কেউ আবার ফুটপাতে বসে দুমুঠো ভাত খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। জীবিকার তাগিদে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কাজ বেছে নেয়। তাদের মধ্যে ছিন্নমূল, অসহায় ও যাযাবরদের জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত যুদ্ধের মতো। শত বাধা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তবু দিনশেষে পরিবারের জন্য দুমুঠো আহার জোগাড় করতে পারলে তাদের মুখে তৃপ্তির ছাপ দেখা যায়।

নিরন্তর ছুটে চলা এক গোষ্ঠী ‘যাযাবর’, যারা প্রকৃতির মধ্যেই জীবনের বৈচিত্র্য খুঁজে পায়। দিনশেষে কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই কাটিয়ে দিতে পারে রাত। বৃষ্টির পানি বা রোদ এড়ানোটাই মুখ্য। যাযাবরদের প্রথম পরিচয়- তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। নেই জীবিকা অর্জনের জন্য সভ্য মানুষের রীতি। ধরাবাঁধা চাকরি নেই। কেউ ব্যবসা করলেও তা সাময়িক। ইতিহাস বলে, বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বেছে নিয়েছে এমন ছন্নছাড়া জীবন। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে আকস্মিক যুদ্ধ, খরা বা নদীভাঙন।

নিরুপায় হয়েই মানুষ যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে দুর্গম অঞ্চলে যাযাবরদের দেখা মেলে বেশি। গহিন অরণ্যেও দলবেঁধে থাকে তারা। আবার জলের উপর ভাসমান নৌকায়, তুষারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে শুরু করে মরুভ‚মির মাঝেও থাকে এরা। বংশপরম্পরায় এই যাযাবর জীবনই তাদের পরিচয় হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। যাযাবর বৃত্তি ছেড়ে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে অনেকেই।

যাযাবরদের জীবনযাপন সত্যিই রহস্যময়। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় তাদের। অঞ্চলভেদে একেক নাম, আর বেঁচে থাকার বিচিত্র সব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত বেশ, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। যাযাবর বলেই তাদের জীবন বৈচিত্র্যময়। এটাই এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট কোনো সমাজে আবদ্ধ নয়। ঘুরে বেড়ায় খেয়ালখুশিমতো। এতেই তারা আনন্দ পায়। তাদের মাঝে কখনোই অসন্তুষ্টির ছাপ চোখে পড়ে না।

আজাহার ইসলাম : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ayharislam729@gmail.com