বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম
jugantor
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিতে হবে পদক্ষেপ

  সম্পাদকীয়  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার শিক্ষামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে। হল খুলে দেওয়া হবে ১৭ মে।

শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও তিন মাস অপেক্ষা করতে চাইছেন না। তারা মার্চেই হলে উঠতে চান। এজন্য একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভও করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়েই খুলবে হল।

এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিকার আওতায় আনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, ক্যাম্পাস খোলার আগে কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

ইতোমধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলে উঠে গেছেন, তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ক্যাম্পাস খোলার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিস্থিতি আছে কিনা তা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সমন্বয় সভা এ সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কমিটি ও করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সমন্বয় সভা থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসবে। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বন্ধের মেয়াদ দাঁড়াবে প্রায় ১৪ মাস। কয়েক মাস ধরে অনলাইনে ক্লাস এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পরীক্ষা চলছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার আরও কিছু সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ১৭ মে-ই খুলবে।

১৭ এপ্রিলের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকার প্রথম ডোজের আওতায় আনার বিষয়ে কাউন্সিল সরকারের কাছে একটি বিনম্র আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে শর্ত দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত এ মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে টিকা নেওয়ার পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও কখন এ মহামারি কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসবে, বিশেষজ্ঞরা এখনই তা বলতে পারছেন না।

জানা গেছে, কেবল ভারতেই করোনার সাত সহস্রাধিক মিউটেশনের সন্ধান মিলেছে। এ ধরনের বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম চালাতে হবে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা হবে, এটাই কাম্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিতে হবে পদক্ষেপ
 সম্পাদকীয় 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার শিক্ষামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে। হল খুলে দেওয়া হবে ১৭ মে।

শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও তিন মাস অপেক্ষা করতে চাইছেন না। তারা মার্চেই হলে উঠতে চান। এজন্য একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভও করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়েই খুলবে হল।

এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিকার আওতায় আনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, ক্যাম্পাস খোলার আগে কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

ইতোমধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলে উঠে গেছেন, তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ক্যাম্পাস খোলার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিস্থিতি আছে কিনা তা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সমন্বয় সভা এ সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কমিটি ও করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সমন্বয় সভা থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসবে। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বন্ধের মেয়াদ দাঁড়াবে প্রায় ১৪ মাস। কয়েক মাস ধরে অনলাইনে ক্লাস এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পরীক্ষা চলছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার আরও কিছু সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ১৭ মে-ই খুলবে।

১৭ এপ্রিলের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকার প্রথম ডোজের আওতায় আনার বিষয়ে কাউন্সিল সরকারের কাছে একটি বিনম্র আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে শর্ত দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত এ মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে টিকা নেওয়ার পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও কখন এ মহামারি কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসবে, বিশেষজ্ঞরা এখনই তা বলতে পারছেন না।

জানা গেছে, কেবল ভারতেই করোনার সাত সহস্রাধিক মিউটেশনের সন্ধান মিলেছে। এ ধরনের বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম চালাতে হবে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা হবে, এটাই কাম্য।