সিএজির নিরীক্ষা প্রতিবেদন
jugantor
সিএজির নিরীক্ষা প্রতিবেদন
ব্যাংকসহ সব খাতের অনিয়ম দূর করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর নিরীক্ষায় ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর এ অনিয়মের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ আর্থিক অনিয়ম আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের। কাজেই সিএজির বার্ষিক প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এ অনিয়ম উদঘাটনের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় সরকারের অডিট বিভাগের সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।

এখন এসব অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে পুরোপুরি। খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যেন আবার অনিয়ম না হয়!

সিএজির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতেই অনিয়ম হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে অনিয়ম হচ্ছে কয়েক ধরনের কৌশলে। যেমন-ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর খেলাপি হওয়া, শর্তভঙ্গ করে ঋণ গ্রহণ, জাল অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ও পিসি সুবিধা নেওয়া ইত্যাদি।

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম নতুন নয়। প্রায়ই কোনো না কোনো ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। ফলে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, লুটপাট ও দুর্নীতির ঘটনা বেড়েছে। ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হল, ব্যাংক পরিচালকরা যোগসাজশের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেওয়া অধিকাংশ ঋণের টাকা আর ফেরত দেন না। এর ফলে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক না হলে আরও বেশি আস্থা সংকটে পড়বে ব্যাংকিং খাত।

বস্তুত অনিয়ম রোধে প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে বিভিন্ন খাতে অপরাধ করার অথবা অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ কমে আসবে।

বন্ধ হবে অনৈতিক চর্চা। ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লে সব ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে নিতে হবে ব্যবস্থা।

সিএজির নিরীক্ষা প্রতিবেদন

ব্যাংকসহ সব খাতের অনিয়ম দূর করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর নিরীক্ষায় ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর এ অনিয়মের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ আর্থিক অনিয়ম আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের। কাজেই সিএজির বার্ষিক প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এ অনিয়ম উদঘাটনের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় সরকারের অডিট বিভাগের সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।

এখন এসব অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে পুরোপুরি। খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যেন আবার অনিয়ম না হয়!

সিএজির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতেই অনিয়ম হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে অনিয়ম হচ্ছে কয়েক ধরনের কৌশলে। যেমন-ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর খেলাপি হওয়া, শর্তভঙ্গ করে ঋণ গ্রহণ, জাল অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ও পিসি সুবিধা নেওয়া ইত্যাদি।

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম নতুন নয়। প্রায়ই কোনো না কোনো ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। ফলে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, লুটপাট ও দুর্নীতির ঘটনা বেড়েছে। ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হল, ব্যাংক পরিচালকরা যোগসাজশের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেওয়া অধিকাংশ ঋণের টাকা আর ফেরত দেন না। এর ফলে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক না হলে আরও বেশি আস্থা সংকটে পড়বে ব্যাংকিং খাত।

বস্তুত অনিয়ম রোধে প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে বিভিন্ন খাতে অপরাধ করার অথবা অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ কমে আসবে।

বন্ধ হবে অনৈতিক চর্চা। ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লে সব ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে নিতে হবে ব্যবস্থা।