নদীর মাটি ইটভাটায়!
jugantor
নদীর মাটি ইটভাটায়!
কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের নদ-নদীগুলো রক্ষায় যেখানে সর্বব্যাপী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, সেখানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নে চিত্রা নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

জানা গেছে, নদীর পাড়ের মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, এ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য, তথা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। তারা নাকি নদীর পাড় কাটা শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন ইটভাটায়। তাদের একজন বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তারা মাটি বিক্রি করছেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, মাটি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করি আমরা।

দেশের নদ-নদীগুলো নানা কারণে বিপর্যস্ত। দখল-দূষণ তো আছেই, আবার পাড় কাটার ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ছে নদীগুলোতে। এর ফলে নদীতে মাটি পড়ে নাব্য নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ভাঙনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে নদীর ওপর এসব অত্যাচার। প্রতি বছর নদী ভাঙনে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। বহু ঘরবাড়ি-দালানকোঠা তলিয়ে যায়। এ কারণে নদীর ক্ষতি হয় এমন যে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে মানুষকে। নদীতে কোনো ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা যাবে না। নদীর পাড় দখল করা চলবে না।

এমন কিছুও করা যাবে না যাতে নদীর গতিপথের পরিবর্তন হয়। এসব বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা কাম্য। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের রয়েছে বিশাল দায়িত্ব। নদী রক্ষায় জনসচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব তার নিজ নিজ এলাকার নদীগুলোকে রক্ষা করা।

এ দেশের বুক চিরে একসময় অগণিত নদী-নালা প্রবাহিত হতো। এগুলোর অধিকাংশই এখন আর নেই। কিছু মানুষের অপরিণামদর্শিতা আর জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে অনেক নদী হারিয়ে গেছে। আবার অনেক নদী বিপন্ন। সেসব নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে সেগুলোও হারিয়ে যাবে।

এর প্রভাব পড়বে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর। নদ ও জলাধারগুলোর মিঠা পানি হলো দেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ। কাজেই এগুলো আমরা হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কেউ যাতে ইচ্ছামতো নদীর অংশ দখল করতে না পারে, নদী পাড়ের মাটি কাটতে না পারে, নদীতে দূষিত পদার্থ ফেলতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নদীর মাটি ইটভাটায়!

কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের নদ-নদীগুলো রক্ষায় যেখানে সর্বব্যাপী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, সেখানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নে চিত্রা নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

জানা গেছে, নদীর পাড়ের মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, এ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য, তথা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। তারা নাকি নদীর পাড় কাটা শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন ইটভাটায়। তাদের একজন বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তারা মাটি বিক্রি করছেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, মাটি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করি আমরা।

দেশের নদ-নদীগুলো নানা কারণে বিপর্যস্ত। দখল-দূষণ তো আছেই, আবার পাড় কাটার ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ছে নদীগুলোতে। এর ফলে নদীতে মাটি পড়ে নাব্য নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ভাঙনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে নদীর ওপর এসব অত্যাচার। প্রতি বছর নদী ভাঙনে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। বহু ঘরবাড়ি-দালানকোঠা তলিয়ে যায়। এ কারণে নদীর ক্ষতি হয় এমন যে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে মানুষকে। নদীতে কোনো ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা যাবে না। নদীর পাড় দখল করা চলবে না।

এমন কিছুও করা যাবে না যাতে নদীর গতিপথের পরিবর্তন হয়। এসব বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা কাম্য। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের রয়েছে বিশাল দায়িত্ব। নদী রক্ষায় জনসচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব তার নিজ নিজ এলাকার নদীগুলোকে রক্ষা করা।

এ দেশের বুক চিরে একসময় অগণিত নদী-নালা প্রবাহিত হতো। এগুলোর অধিকাংশই এখন আর নেই। কিছু মানুষের অপরিণামদর্শিতা আর জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে অনেক নদী হারিয়ে গেছে। আবার অনেক নদী বিপন্ন। সেসব নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে সেগুলোও হারিয়ে যাবে।

এর প্রভাব পড়বে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর। নদ ও জলাধারগুলোর মিঠা পানি হলো দেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ। কাজেই এগুলো আমরা হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কেউ যাতে ইচ্ছামতো নদীর অংশ দখল করতে না পারে, নদী পাড়ের মাটি কাটতে না পারে, নদীতে দূষিত পদার্থ ফেলতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন