ইউপি সদস্য খুন
jugantor
ইউপি সদস্য খুন
দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালেও দেশে অপরাধের মাত্রা যে কমেনি, তার আরও একটি প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে এক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত সমর বিজয় চাকমা উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, তিন সশস্ত্র সন্ত্রাসী একটি মোটরসাইকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসে। তাদের দুজন বাইরে দাঁড়িয়েছিল, একজন সরাসরি অফিসে ঢুকে আলোচ্য ইউপি সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। ঘটনার সময় তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস কক্ষে একটি চেয়ারে বসা অবস্থায় ছিলেন। এই কক্ষের দুটি কক্ষ পরেই নিজ কার্যালয়ে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ইউপি সদস্যকে গুলি করার পর ফাঁকা গুলি করতে করতে স্থান ত্যাগ করে। বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, নিহত ইউপি সদস্য জেএসএস (এমএন লারমা) দলের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

পার্বত্য এলাকায় সরকারি কোনো কার্যালয়ে ঢুকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড এটাই প্রথম। স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনা ঘটেছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে। সরকারি কার্যালয় কিংবা সরকারি বাসভবনে ঢুকে হত্যাকাণ্ড কিংবা হত্যাচেষ্টা নিঃসন্দেহে বড় ধরনের অপরাধ। ইউপি সদস্য সমর বিজয় যেহেতু জেএসএস (এমএন লারমা) দলের একজন নেতা ছিলেন, তাই তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। জেএসএস (এমএন লারমা) ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে। প্রথম কথা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের জন্য যারাই দায়ী হোক না কেন, প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারল কীভাবে? দ্বিতীয় কথা, পার্বত্য এলাকায় কি কখনোই নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করবে না? পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এরই মধ্যে ২৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথচ পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরে আসেনি। মাঝে-মধ্যেই বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। ২০০৯ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি থেকে বের হয়ে আরেকটি গোষ্ঠী বা দল গঠন করা হয়, যা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নামে পরিচিত। এই দল প্রতিষ্ঠার পর গত ১২ বছরে দুই দলের পালটাপালটি হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সদস্য। বুধবার নিহত ইউপি সদস্যও এ দলেরই নেতা ছিলেন। তাই প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, আলোচ্য হত্যাকাণ্ডটির পেছনে যারাই দায়ী থাকুক না কেন, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বের করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে আর না ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিকল্প নেই।

ইউপি সদস্য খুন

দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালেও দেশে অপরাধের মাত্রা যে কমেনি, তার আরও একটি প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে এক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত সমর বিজয় চাকমা উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, তিন সশস্ত্র সন্ত্রাসী একটি মোটরসাইকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসে। তাদের দুজন বাইরে দাঁড়িয়েছিল, একজন সরাসরি অফিসে ঢুকে আলোচ্য ইউপি সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। ঘটনার সময় তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস কক্ষে একটি চেয়ারে বসা অবস্থায় ছিলেন। এই কক্ষের দুটি কক্ষ পরেই নিজ কার্যালয়ে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ইউপি সদস্যকে গুলি করার পর ফাঁকা গুলি করতে করতে স্থান ত্যাগ করে। বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, নিহত ইউপি সদস্য জেএসএস (এমএন লারমা) দলের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

পার্বত্য এলাকায় সরকারি কোনো কার্যালয়ে ঢুকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড এটাই প্রথম। স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনা ঘটেছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে। সরকারি কার্যালয় কিংবা সরকারি বাসভবনে ঢুকে হত্যাকাণ্ড কিংবা হত্যাচেষ্টা নিঃসন্দেহে বড় ধরনের অপরাধ। ইউপি সদস্য সমর বিজয় যেহেতু জেএসএস (এমএন লারমা) দলের একজন নেতা ছিলেন, তাই তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। জেএসএস (এমএন লারমা) ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে। প্রথম কথা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের জন্য যারাই দায়ী হোক না কেন, প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারল কীভাবে? দ্বিতীয় কথা, পার্বত্য এলাকায় কি কখনোই নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করবে না? পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এরই মধ্যে ২৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথচ পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরে আসেনি। মাঝে-মধ্যেই বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। ২০০৯ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি থেকে বের হয়ে আরেকটি গোষ্ঠী বা দল গঠন করা হয়, যা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নামে পরিচিত। এই দল প্রতিষ্ঠার পর গত ১২ বছরে দুই দলের পালটাপালটি হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সদস্য। বুধবার নিহত ইউপি সদস্যও এ দলেরই নেতা ছিলেন। তাই প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, আলোচ্য হত্যাকাণ্ডটির পেছনে যারাই দায়ী থাকুক না কেন, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বের করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে আর না ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিকল্প নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন