পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়করণ
jugantor
পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়করণ
নজরদারি জোরদার করা হোক

  বাতায়ন  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নির্বিচারে অশ্রেণিভুক্ত বনের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য।

জানা গেছে, প্রতিদিন খাগড়াছড়ির বিভিন্ন অশ্রেণিভুক্ত বন থেকে উজাড় হচ্ছে ১৬ হাজার ৫শ মণ গাছ। এসব গাছ ইটভাটার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে ইটভাটার মালিকদের ইন্ধন রয়েছে বলে জানা গেছে। একশ্রেণির দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা বন থেকে গাছ কেটে নিচ্ছে।

বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বন বিভাগের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর বন বিভাগের নজরদারি বাড়লেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় এদিকে তেমন তদারকি নেই। ফলে বনখেকোরা বিনা অনুমতিতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনের গাছ। বস্তুত কয়েক দশক ধরেই চলছে এ প্রক্রিয়া। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এ পাহাড়ি এলাকায় বনাঞ্চল বলে আর কিছু থাকবে না। কাজেই পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত। রক্ষা করতে হবে পাহাড়ি বনাঞ্চল।

পার্বত্য এলাকায় রয়েছে চার ধরনের বন-সংরক্ষিত, রক্ষিত, ব্যক্তিমালিকানাধীন ও অশ্রেণিভুক্ত। তবে বনের বেশিরভাগই অশ্রেণিভুক্ত। কাজেই বন উজাড়করণের ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বৃক্ষ মাটির ক্ষয় রোধ করে পাহাড়ের ভিতকে দৃঢ় রাখে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

এছাড়া বন ধ্বংস হওয়ার ফলে বিপন্ন হচ্ছে পশু-পাখির আশ্রয়স্থল। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। দেশে এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় বনাঞ্চল অনেক কম। এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশ অথবা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনো যুগোপযোগী ও কল্যাণকর বন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে।

শিল্পোন্নত দেশ জাপানের ভূখণ্ডের শতকরা ৭০ ভাগ এবং জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার ৫০ ভাগ ভূখণ্ড বনে আচ্ছাদিত। সঠিক, বাস্তব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের দেশেও বন সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এজন্য নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ। দেশে যে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা করা হয়েছিল, সেটির ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়। গত শতকের আশির দশকে সামাজিক বনায়নের ভুল ও অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের কারণে দেশের ‘শালবন’ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই দেশের বনাঞ্চল রক্ষায় একটি যথোপযোগী বন আইন প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন জরুরি।

পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়করণ

নজরদারি জোরদার করা হোক
 বাতায়ন 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নির্বিচারে অশ্রেণিভুক্ত বনের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য।

জানা গেছে, প্রতিদিন খাগড়াছড়ির বিভিন্ন অশ্রেণিভুক্ত বন থেকে উজাড় হচ্ছে ১৬ হাজার ৫শ মণ গাছ। এসব গাছ ইটভাটার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে ইটভাটার মালিকদের ইন্ধন রয়েছে বলে জানা গেছে। একশ্রেণির দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা বন থেকে গাছ কেটে নিচ্ছে।

বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বন বিভাগের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর বন বিভাগের নজরদারি বাড়লেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় এদিকে তেমন তদারকি নেই। ফলে বনখেকোরা বিনা অনুমতিতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনের গাছ। বস্তুত কয়েক দশক ধরেই চলছে এ প্রক্রিয়া। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এ পাহাড়ি এলাকায় বনাঞ্চল বলে আর কিছু থাকবে না। কাজেই পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত। রক্ষা করতে হবে পাহাড়ি বনাঞ্চল।

পার্বত্য এলাকায় রয়েছে চার ধরনের বন-সংরক্ষিত, রক্ষিত, ব্যক্তিমালিকানাধীন ও অশ্রেণিভুক্ত। তবে বনের বেশিরভাগই অশ্রেণিভুক্ত। কাজেই বন উজাড়করণের ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বৃক্ষ মাটির ক্ষয় রোধ করে পাহাড়ের ভিতকে দৃঢ় রাখে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

এছাড়া বন ধ্বংস হওয়ার ফলে বিপন্ন হচ্ছে পশু-পাখির আশ্রয়স্থল। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। দেশে এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় বনাঞ্চল অনেক কম। এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশ অথবা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনো যুগোপযোগী ও কল্যাণকর বন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে।

শিল্পোন্নত দেশ জাপানের ভূখণ্ডের শতকরা ৭০ ভাগ এবং জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার ৫০ ভাগ ভূখণ্ড বনে আচ্ছাদিত। সঠিক, বাস্তব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের দেশেও বন সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এজন্য নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ। দেশে যে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা করা হয়েছিল, সেটির ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়। গত শতকের আশির দশকে সামাজিক বনায়নের ভুল ও অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের কারণে দেশের ‘শালবন’ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই দেশের বনাঞ্চল রক্ষায় একটি যথোপযোগী বন আইন প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন জরুরি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন