বিমা খাতের সেবা
jugantor
বিমা খাতের সেবা
গ্রাহক-স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৩ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিমা গ্রাহক-স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে বিমাকে জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণ যাতে সংকটকালে বিমা পলিসি খুলে সুবিধা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাতে বিমার বিষয়ে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে তথ্য দিয়ে তাদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। কারণ বিমা হলো একটি সেবামূলক পেশা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিমা খাতের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- বিমা কোম্পানিগুলো শুধু জোঁকের মতো প্রিমিয়ামের কিস্তি হাতিয়ে নিতে চায়; কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় সামনে এলে বেছে নেয় হয়রানির নানা পথ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আইনে বিমা বাধ্যতামূলক থাকায় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উচ্চ প্রিমিয়াম নেয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। কিন্তু কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বছরের পর বছর ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। ব্যক্তিপর্যায়ে জীবন বিমার ক্ষেত্রেও রয়েছে এ ধরনের অভিযোগ।

বস্তুত সাধারণ মানুষ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য তাদের স্বল্প আয় থেকে একটু একটু করে টাকা বিমা কোম্পানিতে জমা রাখেন দীর্ঘ সময় ধরে। পলিসির মেয়াদ শেষে সেই টাকা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এটি বিমা আইনের লঙ্ঘনও বটে। তাই বিমার আওতা বাড়ানোর আগে সরকারকে গ্রাহকদের সময়মতো ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অবশ্য এসব বিষয় দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। তবে অভিযোগ আছে, অনেক বিমা কোম্পানির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

প্রভাবশালী গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করায় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। আমরা মনে করি, বিমা খাতে আস্থা ফেরাতে এসব সমস্যা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। বিমা গ্রাহকদের টাকা পেতে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, আইডিআরএ সে ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই কাম্য।

বস্তুত কিছু বিমা কোম্পানির গ্রাহক হয়রানির কারণে আস্থা হারাতে হতে পারে গোটা বিমা খাতকে। এ কারণে এ ধরনের বিমা কোম্পানিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

গত ১ মার্চ ছিল জাতীয় বিমা দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল : ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’। প্রতিপাদ্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরাও চাই বিমার ব্যাপারে সবাই আগ্রহী হয়ে উঠুক। মানুষ যত এ ব্যাপারে আগ্রহী হবে, তাদের জীবনের সুরক্ষা তত বাড়বে। এ লক্ষ্যে বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিমার পলিসি খোলার ব্যাপারে সবার এগিয়ে আসা উচিত। বিমা কোম্পানিগুলোরও উচিত দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা।

দেশে অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। গড়ে উঠছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। এর ফলে বিমার গুরুত্ব বাড়ছে। এ খাতে গ্রাহক-স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হলে দেশের বিমা শিল্পের প্রতি মানুষ আস্থা ফিরে পাবে এটা নিশ্চিত। এ বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট সবাই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে তৎপর হবেন, এটাই প্রত্যাশা।

বিমা খাতের সেবা

গ্রাহক-স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৩ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিমা গ্রাহক-স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে বিমাকে জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণ যাতে সংকটকালে বিমা পলিসি খুলে সুবিধা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাতে বিমার বিষয়ে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে তথ্য দিয়ে তাদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। কারণ বিমা হলো একটি সেবামূলক পেশা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিমা খাতের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- বিমা কোম্পানিগুলো শুধু জোঁকের মতো প্রিমিয়ামের কিস্তি হাতিয়ে নিতে চায়; কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় সামনে এলে বেছে নেয় হয়রানির নানা পথ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আইনে বিমা বাধ্যতামূলক থাকায় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উচ্চ প্রিমিয়াম নেয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। কিন্তু কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বছরের পর বছর ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। ব্যক্তিপর্যায়ে জীবন বিমার ক্ষেত্রেও রয়েছে এ ধরনের অভিযোগ।

বস্তুত সাধারণ মানুষ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য তাদের স্বল্প আয় থেকে একটু একটু করে টাকা বিমা কোম্পানিতে জমা রাখেন দীর্ঘ সময় ধরে। পলিসির মেয়াদ শেষে সেই টাকা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এটি বিমা আইনের লঙ্ঘনও বটে। তাই বিমার আওতা বাড়ানোর আগে সরকারকে গ্রাহকদের সময়মতো ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অবশ্য এসব বিষয় দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। তবে অভিযোগ আছে, অনেক বিমা কোম্পানির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

প্রভাবশালী গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করায় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। আমরা মনে করি, বিমা খাতে আস্থা ফেরাতে এসব সমস্যা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। বিমা গ্রাহকদের টাকা পেতে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, আইডিআরএ সে ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই কাম্য।

বস্তুত কিছু বিমা কোম্পানির গ্রাহক হয়রানির কারণে আস্থা হারাতে হতে পারে গোটা বিমা খাতকে। এ কারণে এ ধরনের বিমা কোম্পানিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

গত ১ মার্চ ছিল জাতীয় বিমা দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল : ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’। প্রতিপাদ্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরাও চাই বিমার ব্যাপারে সবাই আগ্রহী হয়ে উঠুক। মানুষ যত এ ব্যাপারে আগ্রহী হবে, তাদের জীবনের সুরক্ষা তত বাড়বে। এ লক্ষ্যে বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিমার পলিসি খোলার ব্যাপারে সবার এগিয়ে আসা উচিত। বিমা কোম্পানিগুলোরও উচিত দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা।

দেশে অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। গড়ে উঠছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। এর ফলে বিমার গুরুত্ব বাড়ছে। এ খাতে গ্রাহক-স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হলে দেশের বিমা শিল্পের প্রতি মানুষ আস্থা ফিরে পাবে এটা নিশ্চিত। এ বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট সবাই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে তৎপর হবেন, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন