শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি
jugantor
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি
সব আয়োজন সফল হোক

  সম্পাদকীয়  

০৪ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে যাচ্ছে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা খুলবে ৩০ মার্চ আর দ্বিতীয় ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে ২৪ মে। দীর্ঘ সময় পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে স্বাভাবিকভাবেই এর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

প্রস্তুতির অংশ হিসাবে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করতে হবে এক মাসের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ কাজ চলবে দুমাস ধরে। প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটি হচ্ছে টিকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।

এজন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে ১২ লাখ টিকা। সবটা মিলিয়ে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে করোনাভাইরাস রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার কাজের জন্য সরকার বরাদ্দও দিয়েছে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়লে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করতে হবে, এজন্য ছাত্রছাত্রীদের ওপর কোনো ফি আরোপ করা যাবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে যে প্রস্তুতিপর্ব চলছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ২৪ মে’র মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ক্লাসরুমে ফিরছে। এই বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে দীর্ঘদিন পর পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার কাজটি সহজসাধ্য নয়।

উপরন্তু, তাদের করোনা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে চলে আসে স্বাস্থ্যবিধির কথা। আমরা পৌনঃপুনিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিতে জোর দিতে চাই। এটা ঠিক, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর কারণে মৃত্যুহার-দুই-ই কমেছে, বলা যায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তারপরও আমরা বলব, পশ্চিমা কোনো কোনো দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেগুলো পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার নজির রয়েছে যেহেতু, সেহেতু আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পর গা-ছাড়া ভাব থাকা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষাব্যবস্থায় এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরীক্ষাসমূহের আয়োজন করা। বিশেষত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন এই করোনাকালে এক ‘জাইগান্টিক টাস্ক’ বটে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষা জুলাইয়ের মধ্যে নেওয়ার কথা রয়েছে; জুলাইয়ে এসএসসি শুরু করা গেলে সেপ্টেম্বরে এইচএসসি শুরু করা হবে বলে আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন ও মুদ্রণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সময়মতো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা গেলে তা হবে এক বড় অর্জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন পরীক্ষা ঠিকমতো সম্পন্ন করার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হবে-এটাই কাম্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি

সব আয়োজন সফল হোক
 সম্পাদকীয় 
০৪ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে যাচ্ছে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা খুলবে ৩০ মার্চ আর দ্বিতীয় ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে ২৪ মে। দীর্ঘ সময় পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে স্বাভাবিকভাবেই এর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

প্রস্তুতির অংশ হিসাবে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করতে হবে এক মাসের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ কাজ চলবে দুমাস ধরে। প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটি হচ্ছে টিকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।

এজন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে ১২ লাখ টিকা। সবটা মিলিয়ে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে করোনাভাইরাস রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার কাজের জন্য সরকার বরাদ্দও দিয়েছে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়লে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করতে হবে, এজন্য ছাত্রছাত্রীদের ওপর কোনো ফি আরোপ করা যাবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগে যে প্রস্তুতিপর্ব চলছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ২৪ মে’র মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ক্লাসরুমে ফিরছে। এই বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে দীর্ঘদিন পর পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার কাজটি সহজসাধ্য নয়।

উপরন্তু, তাদের করোনা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে চলে আসে স্বাস্থ্যবিধির কথা। আমরা পৌনঃপুনিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিতে জোর দিতে চাই। এটা ঠিক, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর কারণে মৃত্যুহার-দুই-ই কমেছে, বলা যায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তারপরও আমরা বলব, পশ্চিমা কোনো কোনো দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেগুলো পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার নজির রয়েছে যেহেতু, সেহেতু আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পর গা-ছাড়া ভাব থাকা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষাব্যবস্থায় এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরীক্ষাসমূহের আয়োজন করা। বিশেষত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন এই করোনাকালে এক ‘জাইগান্টিক টাস্ক’ বটে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষা জুলাইয়ের মধ্যে নেওয়ার কথা রয়েছে; জুলাইয়ে এসএসসি শুরু করা গেলে সেপ্টেম্বরে এইচএসসি শুরু করা হবে বলে আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন ও মুদ্রণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সময়মতো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা গেলে তা হবে এক বড় অর্জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন পরীক্ষা ঠিকমতো সম্পন্ন করার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হবে-এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস