কাদের জন্য বাসের সংরক্ষিত আসন?
jugantor
কাদের জন্য বাসের সংরক্ষিত আসন?

  রূপম চক্রবর্ত্তী  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিন লোকাল বাসে যাতায়াত করি। এ সময় বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি। সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো নারী যাত্রীদের প্রতি অবজ্ঞা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে, পাশাপাশি পেশাজীবী নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ঘরের বাইরে বের হওয়া নারীর সংখ্যাও কম নয়। অনেক মহিলা প্রাইভেট গাড়ি কিংবা সিএনজিতে যাতায়াত করলেও অধিকাংশ নারী লোকাল বাসে যাতায়াত করে। অনেক লোকাল বাস আছে যেগুলোয় এত ভিড় থাকে যে সেখানে নারী যাত্রী ওঠা দুরূহ ব্যাপার।

অনেক সময় দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস হয়তো এলো, তাতে অনেক পুরুষ যাত্রী দৌড়ঝাঁপ দিয়ে বাসে ওঠে, কিন্তু মহিলা যাত্রী উঠতে খুব কষ্ট হয়।

আমাদের লোকাল বাসগুলোতে নারীদের জন্য ড্রাইভারের পাশে বা পেছনে কয়েকটা সিট থাকে, যা বাসে যাতায়াতকারী মহিলাদের তুলনায় অনেক কম। অনেক বাসেই ইঞ্জিনের পাশে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত সিট থাকে।

মূলত ইঞ্জিনের ওপর আলাদা লম্বা তক্তা বসিয়ে সেখানে ফোম দিয়ে তৈরি হয় এসব বিশেষ সিট। ইঞ্জিনের আশপাশের এসব সিট অবৈধ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। ইঞ্জিনের পাশের এসব সিটে বসে দীর্ঘদিন যাতায়াত করতে গিয়ে নানা ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা। ত্বকের সমস্যা থাকলে, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি ও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ত্বকে ফোসকা পড়ে যেতে পারে। কেউ কেউ হিট স্ট্রোকের সমস্যায়ও পড়তে পারেন। অনেকের বমি, মাথাব্যথা, এমনকি জ্বরও হতে পারে। ইঞ্জিনের উচ্চমাত্রার তাপ দেহকে উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর বাস থেকে নামলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এভাবে শরীর একবার ঠাণ্ডা আবার গরম হয়ে পড়ায় সর্দিসহ জ্বর দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ফলে কখনো কখনো পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। তাই আমি মনে করি, মেয়েদের সিটগুলো বাসের মাঝামাঝি হলে ভালো হয়।

অনেক বাসে প্রতিবন্ধী সিট লেখা থাকে। অথচ কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি গাড়িতে উঠতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার প্রতিবন্ধী যাত্রীকে তুলতে অনেক সময় অপারগতা প্রকাশ করে। আবার দেখা যায় নারীদের আসন ফাঁকা পেয়ে বসে পড়েন পুরুষ যাত্রী। নারী যাত্রী আসার পর সিটে বসা সেই পুরুষ যাত্রী আসন ছাড়তে চান না। অনেক সচেতন মহিলাকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। কেউ কেউ প্রতিবাদ করেন। তবে এমনও দেখা গেছে, এ নিয়ে কিছু অবিবেচক পুরুষ সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। তাই আমি মনে করি, মহিলা যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো কোনো ছাত্রী অথবা নারী যাত্রী না ওঠা পর্যন্ত ফাঁকা রাখাই উচিত। আমরা যারা পুরুষ যাত্রী, তাদেরও সচেতন থাকতে হবে। লোকাল বাসগুলোর সংরক্ষিত আসনে বসে আমরা যেন কোনো ধরনের বিবাদে লিপ্ত না হই।

বাস মালিক সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, আপনারা প্রতিটি বাসেই প্রতিবন্ধী সিট রাখবেন। কারণ, দেখেছি প্রতিবন্ধীদের খুবই কষ্ট হয়। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাব বাসের সংরক্ষিত সিটে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ যেন না বসে। এ ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

রূপম চক্রবর্ত্তী : প্রাবন্ধিক

কাদের জন্য বাসের সংরক্ষিত আসন?

 রূপম চক্রবর্ত্তী 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিন লোকাল বাসে যাতায়াত করি। এ সময় বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি। সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো নারী যাত্রীদের প্রতি অবজ্ঞা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে, পাশাপাশি পেশাজীবী নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ঘরের বাইরে বের হওয়া নারীর সংখ্যাও কম নয়। অনেক মহিলা প্রাইভেট গাড়ি কিংবা সিএনজিতে যাতায়াত করলেও অধিকাংশ নারী লোকাল বাসে যাতায়াত করে। অনেক লোকাল বাস আছে যেগুলোয় এত ভিড় থাকে যে সেখানে নারী যাত্রী ওঠা দুরূহ ব্যাপার।

অনেক সময় দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস হয়তো এলো, তাতে অনেক পুরুষ যাত্রী দৌড়ঝাঁপ দিয়ে বাসে ওঠে, কিন্তু মহিলা যাত্রী উঠতে খুব কষ্ট হয়।

আমাদের লোকাল বাসগুলোতে নারীদের জন্য ড্রাইভারের পাশে বা পেছনে কয়েকটা সিট থাকে, যা বাসে যাতায়াতকারী মহিলাদের তুলনায় অনেক কম। অনেক বাসেই ইঞ্জিনের পাশে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত সিট থাকে।

মূলত ইঞ্জিনের ওপর আলাদা লম্বা তক্তা বসিয়ে সেখানে ফোম দিয়ে তৈরি হয় এসব বিশেষ সিট। ইঞ্জিনের আশপাশের এসব সিট অবৈধ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। ইঞ্জিনের পাশের এসব সিটে বসে দীর্ঘদিন যাতায়াত করতে গিয়ে নানা ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা। ত্বকের সমস্যা থাকলে, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি ও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ত্বকে ফোসকা পড়ে যেতে পারে। কেউ কেউ হিট স্ট্রোকের সমস্যায়ও পড়তে পারেন। অনেকের বমি, মাথাব্যথা, এমনকি জ্বরও হতে পারে। ইঞ্জিনের উচ্চমাত্রার তাপ দেহকে উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর বাস থেকে নামলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এভাবে শরীর একবার ঠাণ্ডা আবার গরম হয়ে পড়ায় সর্দিসহ জ্বর দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ফলে কখনো কখনো পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। তাই আমি মনে করি, মেয়েদের সিটগুলো বাসের মাঝামাঝি হলে ভালো হয়।

অনেক বাসে প্রতিবন্ধী সিট লেখা থাকে। অথচ কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি গাড়িতে উঠতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার প্রতিবন্ধী যাত্রীকে তুলতে অনেক সময় অপারগতা প্রকাশ করে। আবার দেখা যায় নারীদের আসন ফাঁকা পেয়ে বসে পড়েন পুরুষ যাত্রী। নারী যাত্রী আসার পর সিটে বসা সেই পুরুষ যাত্রী আসন ছাড়তে চান না। অনেক সচেতন মহিলাকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। কেউ কেউ প্রতিবাদ করেন। তবে এমনও দেখা গেছে, এ নিয়ে কিছু অবিবেচক পুরুষ সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। তাই আমি মনে করি, মহিলা যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো কোনো ছাত্রী অথবা নারী যাত্রী না ওঠা পর্যন্ত ফাঁকা রাখাই উচিত। আমরা যারা পুরুষ যাত্রী, তাদেরও সচেতন থাকতে হবে। লোকাল বাসগুলোর সংরক্ষিত আসনে বসে আমরা যেন কোনো ধরনের বিবাদে লিপ্ত না হই।

বাস মালিক সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, আপনারা প্রতিটি বাসেই প্রতিবন্ধী সিট রাখবেন। কারণ, দেখেছি প্রতিবন্ধীদের খুবই কষ্ট হয়। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাব বাসের সংরক্ষিত সিটে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ যেন না বসে। এ ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

রূপম চক্রবর্ত্তী : প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন