অচেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যায্য ও অগণতান্ত্রিক আচরণ সুফল দেয় না

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সুফিয়া কামাল হল থেকে অনেক ছাত্রীকে কেবল বের করে দেয়াই হয়নি, অন্তত দুই হাজার ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিল করারও হুমকি দিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা। যে ছাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার কাঁধে, তিনিই কিনা রাতের আঁধারে তাদের হল ছাড়া করার পাশাপাশি হুমকিও দিচ্ছেন।

মতপ্রকাশ থেকে শুরু করে অন্যায়ের বিপক্ষে অবস্থানের যে ঐতিহ্য ঢাবির ছিল, তার সঙ্গে তুলনা করলে এ ঢাবিকে অচেনাই বলতে হবে। এখানেই শেষ নয়, ছাত্রীদের বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক ভিসি পর্যন্ত অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ছাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিকাল পাঁচটায় অভিভাবকদের জানানো হয়।

অথচ এক ছাত্রীর অভিভাবক বলছেন তাকে রাত আটটার পর জানানো হয়, এমনকি আবহাওয়াগত সমস্যার কারণে পরদিন সকাল পর্যন্ত সময় চাওয়া হলে তা-ও মানা হয়নি।

নারী মুক্তির সূতিকাগার ঢাবি যদি তার ছাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তবে আমরা কোথায় চলেছি এমন প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক হবে না। মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের সঙ্গে একমত হয়ে বলতে হয়, এ ঘটনায় আমরাও স্তম্ভিত। যদি কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে তবে তাকে জবাবদিহি ও আইনের আওতায় আনা যেতেই পারে।

রাতের আঁধারে তাদের বাসস্থান ছাড়া করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বস্তুত, কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলনের পর থেকে ঢাবি ও সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন- ছাত্রলীগের অবস্থান বিতর্কিত ও স্ববিরোধী হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পরও ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, ইচ্ছাকৃতভাবেই সরকারের চেয়ে বড় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ‘বড় আওয়ামী লীগাররা’ অতি উৎসাহী হয়ে সবাইকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। অন্যথায় আন্দোলন দমনে অতি উৎসাহী না হওয়ার নির্দেশনার পরও একের পর এক উসকানি দিয়ে সাধারণ ছাত্রদের কেন উসকিয়ে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হবে?

প্রথমত, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে অতি দ্রুততার সঙ্গে হল, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং পরে ছাত্রলীগের নামমাত্র তদন্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তা প্রত্যাহার থেকে এমন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কি সমান্তরাল আরেকটি প্রশাসন কাজ করছে?

গুরুতর বিষয়, রাতের আঁধারে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করায় এক ছাত্রকে তার হলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। প্রতিবাদীর সঙ্গে এমন বিমাতাসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যা হোক, হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বের করে দেয়া ছাত্রীরা ফিরে এসেছে। এ অবস্থায় সব বৈধ ছাত্রছাত্রীর নির্বিঘ্নে হলে বসবাসের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

এশার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাকে হেনস্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এছাড়া সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে উসকানি না দিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন ও ক্যাম্পাসে পড়ালেখার পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।

পাশাপাশি যারা ভিসির বাড়ি ভাংচুরে জড়িত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় নির্বাচন এবং সাধারণ ছাত্ররা সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন করছে না। ফলে কোনো ন্যায্য দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে সবার সতর্কতা কাম্য।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.