স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে যাত্রা: কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতাও কাম্য
jugantor
স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে যাত্রা: কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতাও কাম্য

  সম্পাদকীয়  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, গত কয়েক দিনের সংক্রমণের চিত্র থেকেই তা স্পষ্ট। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এ ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এ পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সময়ে গণপরিবহণ-বাস, ট্রেন, লঞ্চ, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। শপিং মল-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।

জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতিটিই নেওয়া হয়েছে জনস্বার্থ রক্ষার জন্য। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত অবহেলা বা অমান্য করা হলে তাতে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটি নয়। একজন ব্যক্তির অবহেলা বা ভুলের কারণে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা বহুল আলোচিত।

অত্যন্ত উদ্বগজনক বিষয় হলো, ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর রোববার ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ আরোপের খবরে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এসব টার্মিনালে হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা। এতে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় যানবাহন সংকটও। অফিসফেরত যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও অটোরিকশা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সামাজিক দূরত্ব মানা দূরের কথা, এ সময় অনেকে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গাদাগাদি করে বাসে উঠেছে। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। বাস ও ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেককে ট্রাকে চড়েও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে লঞ্চের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। রোববার বিকাল থেকে ঢাকা নদীবন্দরে ছিল উপচেপড়া ভিড়। লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। গাদাগাদি করেই বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী বহন করেছে লঞ্চ মালিক-শ্রমিকরা। কমলাপুর রেলস্টেশনেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বেশিরভাগ ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী যেতে দেখা গেছে।

বস্তুত ‘লকডাউনে’র শুরুর আগে যারা বাড়ি গেছেন, তাদের বড় অংশই দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার এবং গণপরিবহণ ও বিভিন্ন মার্কেটের কর্মী। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে অন্তত আগামী এক সপ্তাহ কাজ না থাকায় তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি থাকতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাড়ি গেছেন।

এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অনুরোধ থাকবে, যারা এভাবে গ্রামে গেছেন, তারা যেন এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বস্তুত জনগণের অসতর্কতা ও উদাসীনতার কারণেই দেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলেও ঘরমুখী মানুষের ভিড় দেখে বোঝা কঠিন দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জনগণকে বাধ্য করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতেও নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে যাত্রা: কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতাও কাম্য

 সম্পাদকীয় 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, গত কয়েক দিনের সংক্রমণের চিত্র থেকেই তা স্পষ্ট। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এ ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এ পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সময়ে গণপরিবহণ-বাস, ট্রেন, লঞ্চ, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। শপিং মল-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।

জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতিটিই নেওয়া হয়েছে জনস্বার্থ রক্ষার জন্য। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত অবহেলা বা অমান্য করা হলে তাতে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটি নয়। একজন ব্যক্তির অবহেলা বা ভুলের কারণে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা বহুল আলোচিত।

অত্যন্ত উদ্বগজনক বিষয় হলো, ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর রোববার ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ আরোপের খবরে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এসব টার্মিনালে হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা। এতে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় যানবাহন সংকটও। অফিসফেরত যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও অটোরিকশা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সামাজিক দূরত্ব মানা দূরের কথা, এ সময় অনেকে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গাদাগাদি করে বাসে উঠেছে। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। বাস ও ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেককে ট্রাকে চড়েও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে লঞ্চের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। রোববার বিকাল থেকে ঢাকা নদীবন্দরে ছিল উপচেপড়া ভিড়। লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। গাদাগাদি করেই বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী বহন করেছে লঞ্চ মালিক-শ্রমিকরা। কমলাপুর রেলস্টেশনেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বেশিরভাগ ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী যেতে দেখা গেছে।

বস্তুত ‘লকডাউনে’র শুরুর আগে যারা বাড়ি গেছেন, তাদের বড় অংশই দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার এবং গণপরিবহণ ও বিভিন্ন মার্কেটের কর্মী। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে অন্তত আগামী এক সপ্তাহ কাজ না থাকায় তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি থাকতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাড়ি গেছেন।

এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অনুরোধ থাকবে, যারা এভাবে গ্রামে গেছেন, তারা যেন এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বস্তুত জনগণের অসতর্কতা ও উদাসীনতার কারণেই দেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলেও ঘরমুখী মানুষের ভিড় দেখে বোঝা কঠিন দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জনগণকে বাধ্য করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতেও নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন