লৌহজং নদী বাঁচাতে চাই কার্যকর পদক্ষেপ
jugantor
লৌহজং নদী বাঁচাতে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

  মো. জাহিদুল ইসলাম  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় খরস্রোতা নদী ছিল লৌহজং। টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে এ নদী। এক সময়ে এ নদী দিয়ে চলত বড় বড় নৌকা, ঘাটে নোঙর করত মালবাহী জাহাজ। এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে লৌহজং নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে খুব সহজে এ নদীর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা শহরে প্রবেশ করা যেত। এর ফলে যাত্রী পরিবহণ এবং মালামাল স্থানান্তরের আরামদায়ক পথ ছিল এ নদী। লৌহজং নদীর মাধ্যমেই এখানকার স্থানীয় মানুষদের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছিল। অর্থনৈতিক ও সামজিক উন্নয়নে এ নদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আজকের আধুনিক টাঙ্গাইল শহরের গোড়াপত্তনও হয়েছিল এই লৌহজং নদীকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কালের বিবর্তনে শহরের চাপে নদীটি যেন আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে দখল-দূষণের শিকার, ভরাট হয়ে যাওয়া আর কচুরিপানায় ভরপুর এ নদী। নদীর দুপাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। ফলে নদী পরিণত হয়েছে সরু খালে।

যথাযথ খননের অভাবে নদীর বুক ভরাট হয়ে যাচ্ছে। শিল্প ও আবাসিক বর্জ্য কোনো প্রকার প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে দূষণের শিকার হচ্ছে এ নদী। ময়লা-আর্বজনার স্তূপে পরিণত হয়েছে নদীর অধিকাংশ জায়গা। আর কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে পুরো নদী। বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুম ছাড়া লৌহজং সারা বছর মৃতই থাকে।

বিভিন্ন সময়ে এ নদী রক্ষায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নদী তার আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। তাই এ নদীকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি একত্রে কাজ করতে হবে।

প্রথমেই লৌহজংকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। দূষণের হাত থেকে রক্ষায় শিল্প ও মানুষের সৃষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী খননের মাধ্যমে এর ভরাট হওয়া রোধ করতে হবে। কচুরিপানা অপসারণের কাজ করতে হবে।

সবশেষে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-লৌহজং নদীকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

মো. জাহিদুল ইসলাম : প্রাবন্ধিক

লৌহজং নদী বাঁচাতে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

 মো. জাহিদুল ইসলাম 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় খরস্রোতা নদী ছিল লৌহজং। টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে এ নদী। এক সময়ে এ নদী দিয়ে চলত বড় বড় নৌকা, ঘাটে নোঙর করত মালবাহী জাহাজ। এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে লৌহজং নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে খুব সহজে এ নদীর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা শহরে প্রবেশ করা যেত। এর ফলে যাত্রী পরিবহণ এবং মালামাল স্থানান্তরের আরামদায়ক পথ ছিল এ নদী। লৌহজং নদীর মাধ্যমেই এখানকার স্থানীয় মানুষদের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছিল। অর্থনৈতিক ও সামজিক উন্নয়নে এ নদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আজকের আধুনিক টাঙ্গাইল শহরের গোড়াপত্তনও হয়েছিল এই লৌহজং নদীকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কালের বিবর্তনে শহরের চাপে নদীটি যেন আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে দখল-দূষণের শিকার, ভরাট হয়ে যাওয়া আর কচুরিপানায় ভরপুর এ নদী। নদীর দুপাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। ফলে নদী পরিণত হয়েছে সরু খালে।

যথাযথ খননের অভাবে নদীর বুক ভরাট হয়ে যাচ্ছে। শিল্প ও আবাসিক বর্জ্য কোনো প্রকার প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে দূষণের শিকার হচ্ছে এ নদী। ময়লা-আর্বজনার স্তূপে পরিণত হয়েছে নদীর অধিকাংশ জায়গা। আর কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে পুরো নদী। বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুম ছাড়া লৌহজং সারা বছর মৃতই থাকে।

বিভিন্ন সময়ে এ নদী রক্ষায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নদী তার আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। তাই এ নদীকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি একত্রে কাজ করতে হবে।

প্রথমেই লৌহজংকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। দূষণের হাত থেকে রক্ষায় শিল্প ও মানুষের সৃষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী খননের মাধ্যমে এর ভরাট হওয়া রোধ করতে হবে। কচুরিপানা অপসারণের কাজ করতে হবে।

সবশেষে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-লৌহজং নদীকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

মো. জাহিদুল ইসলাম : প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন