নানা অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
jugantor
নানা অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
প্রয়োজন বাজার মনিটরিং ও সমন্বিত উদ্যোগ

  সম্পাদকীয়  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘লকডাউনে’র প্রথম দিনে পণ্য সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা।

গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করা যাচ্ছে, রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এবারও বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। অসাধু সিন্ডিকেট গত প্রায় দুমাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রাজধানীর খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের কোনো ধরনের সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় সব ধরনের পণ্যের বেশি মজুত দেখা গেছে।

পাইকারি বাজারগুলোতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমেছে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব তো পড়েইনি, উল্টো দাম বেড়েছে।

সামনে রমজান মাস, তাই এখনই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। লক্ষ করা যায়, রমজানের প্রাক্কালে পণ্যের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়, পরে তা আর কমানো হয় না। কাজেই বাজারের নিয়ন্ত্রণ যাতে দুষ্টচক্রের হাতে চলে না যায়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রতি বছর রমজানের আগে নানা রকম স্বস্তিদায়ক আশ্বাস শুনতে পাই। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে চায় দুষ্টচক্রের কব্জায়। অবশ্য এক্ষেত্রে ভোক্তারাও দায়মুক্ত নন। রোজা শুরুর আগে অনেকেই বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় বিক্রেতারা এর সুযোগ নেয়।

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন নিত্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের জোর তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিআরটিসির যেসব ট্রাক রয়েছে সেগুলোতেও অর্ধেক ভাড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায় অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কতটা শক্তিশালী। এ অবস্থায় বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলবে।

নানা অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি

প্রয়োজন বাজার মনিটরিং ও সমন্বিত উদ্যোগ
 সম্পাদকীয় 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘লকডাউনে’র প্রথম দিনে পণ্য সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা।

গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করা যাচ্ছে, রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এবারও বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। অসাধু সিন্ডিকেট গত প্রায় দুমাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রাজধানীর খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের কোনো ধরনের সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় সব ধরনের পণ্যের বেশি মজুত দেখা গেছে।

পাইকারি বাজারগুলোতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমেছে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব তো পড়েইনি, উল্টো দাম বেড়েছে।

সামনে রমজান মাস, তাই এখনই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। লক্ষ করা যায়, রমজানের প্রাক্কালে পণ্যের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়, পরে তা আর কমানো হয় না। কাজেই বাজারের নিয়ন্ত্রণ যাতে দুষ্টচক্রের হাতে চলে না যায়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রতি বছর রমজানের আগে নানা রকম স্বস্তিদায়ক আশ্বাস শুনতে পাই। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে চায় দুষ্টচক্রের কব্জায়। অবশ্য এক্ষেত্রে ভোক্তারাও দায়মুক্ত নন। রোজা শুরুর আগে অনেকেই বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় বিক্রেতারা এর সুযোগ নেয়।

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন নিত্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের জোর তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিআরটিসির যেসব ট্রাক রয়েছে সেগুলোতেও অর্ধেক ভাড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায় অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কতটা শক্তিশালী। এ অবস্থায় বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন