নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ
jugantor
নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ
প্রচলিত আইন যুগোপযোগী করা জরুরি

  সম্পাদকীয়  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল থেকে শুরু হওয়া নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘মুজিববর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ’। এবার এমন এক সময়ে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে, যখন নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী নৌযানের ধাক্কায় ছোট আকারের লঞ্চ এমএল সাবিত আল হাসান ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্বেগজনক হলো, এ ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে এবং এর ফলে মানুষের মূল্যবান জীবন ও সম্পদের বিনাশ হচ্ছে। কয়েক বছর আগে শীতলক্ষ্যা নদীতে অয়েল ট্যাংকারের ধাক্কায় মতলব-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী এমভি মদিনার আলো ডুবে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ওই দুর্ঘটনার ছয় মাস আগে ঠিক একই স্থানে আরও একটি লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের আগে এই রুটে ট্রলার চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও পরে এর ধারাবাহিকতা যে রক্ষা হয়নি, সেখানে পৌনঃপুনিক নৌ-দুর্ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।

দুর্ঘটনার পর প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদনে নৌ-চলাচল আইন যুগোপযোগী করার জোর তাগিদ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে নৌ-দুর্ঘটনার বিচার যে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশের আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্বল।

২০১৫ সালে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে দফায় দফায় লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২০১৯ সালে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে সেখানে ১০ বছর সাজার বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়। অথচ রহস্যজনক কারণে তা আবার ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বস্তুত দুর্বল আইন, সুষ্ঠু তদারকির অভাব এবং কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ধরে নৌপথে বিদ্যমান অনিয়মের দায় সাধারণ মানুষকে নিজের জীবনের বিনিময়ে শোধ করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রচলিত নৌ-পরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি এ খাতে বিদ্যমান সবধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আর কালবিলম্ব করা উচিত নয়। মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা যে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, তা বলাই বাহুল্য।

নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ

প্রচলিত আইন যুগোপযোগী করা জরুরি
 সম্পাদকীয় 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল থেকে শুরু হওয়া নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘মুজিববর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ’। এবার এমন এক সময়ে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে, যখন নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী নৌযানের ধাক্কায় ছোট আকারের লঞ্চ এমএল সাবিত আল হাসান ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্বেগজনক হলো, এ ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে এবং এর ফলে মানুষের মূল্যবান জীবন ও সম্পদের বিনাশ হচ্ছে। কয়েক বছর আগে শীতলক্ষ্যা নদীতে অয়েল ট্যাংকারের ধাক্কায় মতলব-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী এমভি মদিনার আলো ডুবে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ওই দুর্ঘটনার ছয় মাস আগে ঠিক একই স্থানে আরও একটি লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের আগে এই রুটে ট্রলার চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও পরে এর ধারাবাহিকতা যে রক্ষা হয়নি, সেখানে পৌনঃপুনিক নৌ-দুর্ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।

দুর্ঘটনার পর প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদনে নৌ-চলাচল আইন যুগোপযোগী করার জোর তাগিদ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে নৌ-দুর্ঘটনার বিচার যে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশের আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্বল।

২০১৫ সালে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে দফায় দফায় লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২০১৯ সালে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে সেখানে ১০ বছর সাজার বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়। অথচ রহস্যজনক কারণে তা আবার ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বস্তুত দুর্বল আইন, সুষ্ঠু তদারকির অভাব এবং কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ধরে নৌপথে বিদ্যমান অনিয়মের দায় সাধারণ মানুষকে নিজের জীবনের বিনিময়ে শোধ করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রচলিত নৌ-পরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি এ খাতে বিদ্যমান সবধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আর কালবিলম্ব করা উচিত নয়। মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা যে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, তা বলাই বাহুল্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন