করোনা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য
jugantor
করোনা পরামর্শ
করোনা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য

  ডা. শাহজাদা সেলিম  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন যে কোনো ব্যক্তিই। তবে ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষের এ ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি।

হার্ট ফেইলিওর, কিডনি ফেইলিওর, হাঁপানি ইত্যাদি রোগে যারা ভুগছেন, তারাও অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছেন। ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

অন্য কোনো রোগ হলে তার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে একইসঙ্গে বসবাস করা অন্যান্য মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগী চট করেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।

যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, তাদেরও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মনে করা হচ্ছিল, শিশু-কিশোররা করোনায় খুব একটা আক্রান্ত হবে না; কিন্তু তাও আর বলা যাচ্ছে না। অন্য দেশে তো বটেই, বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু।

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা (এইচবিএওয়ানসি) সঠিকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বোঝাতে সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ যার ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ যত খারাপ (এইচবিএওয়ানসি যত বেশি) তার রোগে ভোগার আশঙ্কা তত বেশি।

বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি (তারা সবাই ভাইরাস সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছেন)।

আবার যারা অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়েই বেঁচে আছেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যুদস্ত। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন সেসব ডায়াবেটিস রোগী, যাদের কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, একইসঙ্গে হৃদযন্ত্রও যথেষ্ট রক্ত পরিসঞ্চালনে ব্যর্থ এবং রক্তের গ্লুকোজ বেশি।

করোনা মহামারিতে ডায়াবেটিস রোগীর আশু করণীয় : ১. করোনাভাইরাস সংক্রমণের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেই রোগ শনাক্তকরণ ও পরবর্তী সেবার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া। ২. কালক্ষেপণ না করে অতিসত্বর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে (এইচবিএওয়ানসি<৭%) যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ। ৩. যদি লক্ষণ থাকে (জ্বর, কাশি), তাহলে নিজেকে নিজে আলাদা করাই শ্রেয়। শরীর বেশি খারাপ না হলে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালো। ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াই ভালো হয়ে যাবেন। ১৪ দিন নিজেকে আইসোলেট করে রাখতে হবে। ৪. বয়স্ক মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বয়স্ক কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করার কারণ আছে। তাদের অনেকেরই আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। ৫. সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো লক্ষণ না থাকা। অনেককেই পাওয়া গেছে, যাদের কোনো কাশি নেই, জ্বর নেই; কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভয় হলো- একদম স্বাভাবিক, ফিট মানুষজন করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুরছে। সেক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না তাদের থেকে অন্যদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু। ৬. স্যানিটাইজার ভালো হলেও বাজারের অধিকাংশ স্যানিটাইজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে না (পানীয় অ্যালকোহল নয়)। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। অতিরিক্ত কিছু চাইলে হেক্সাসল টাইপের কিছু ব্যবহার করুন।

ঘরের বাইরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও মুখে হাত দেবেন না, যতক্ষণ না কোথাও গিয়ে হাত ধুতে পারবেন। ৭. বিদেশফেরত বন্ধু বা আত্মীয়কে কোয়ারেন্টিন করে দিন। বড় সমাবেশ/লোক সমাগম থেকে দূরে থাকুন। কোনো কনফারেন্স বা পার্টিতে যাবেন না।

ডা. শাহজাদা সেলিম : সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডক্রাইনলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

selimshahjada@gmail.com

করোনা পরামর্শ

করোনা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য

 ডা. শাহজাদা সেলিম 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন যে কোনো ব্যক্তিই। তবে ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষের এ ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি।

হার্ট ফেইলিওর, কিডনি ফেইলিওর, হাঁপানি ইত্যাদি রোগে যারা ভুগছেন, তারাও অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছেন। ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

অন্য কোনো রোগ হলে তার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে একইসঙ্গে বসবাস করা অন্যান্য মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগী চট করেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।

যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, তাদেরও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মনে করা হচ্ছিল, শিশু-কিশোররা করোনায় খুব একটা আক্রান্ত হবে না; কিন্তু তাও আর বলা যাচ্ছে না। অন্য দেশে তো বটেই, বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু।

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা (এইচবিএওয়ানসি) সঠিকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বোঝাতে সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ যার ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ যত খারাপ (এইচবিএওয়ানসি যত বেশি) তার রোগে ভোগার আশঙ্কা তত বেশি।

বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি (তারা সবাই ভাইরাস সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছেন)।

আবার যারা অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়েই বেঁচে আছেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যুদস্ত। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন সেসব ডায়াবেটিস রোগী, যাদের কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, একইসঙ্গে হৃদযন্ত্রও যথেষ্ট রক্ত পরিসঞ্চালনে ব্যর্থ এবং রক্তের গ্লুকোজ বেশি।

করোনা মহামারিতে ডায়াবেটিস রোগীর আশু করণীয় : ১. করোনাভাইরাস সংক্রমণের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেই রোগ শনাক্তকরণ ও পরবর্তী সেবার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া। ২. কালক্ষেপণ না করে অতিসত্বর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে (এইচবিএওয়ানসি<৭%) যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ। ৩. যদি লক্ষণ থাকে (জ্বর, কাশি), তাহলে নিজেকে নিজে আলাদা করাই শ্রেয়। শরীর বেশি খারাপ না হলে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালো। ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াই ভালো হয়ে যাবেন। ১৪ দিন নিজেকে আইসোলেট করে রাখতে হবে। ৪. বয়স্ক মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বয়স্ক কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করার কারণ আছে। তাদের অনেকেরই আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। ৫. সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো লক্ষণ না থাকা। অনেককেই পাওয়া গেছে, যাদের কোনো কাশি নেই, জ্বর নেই; কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভয় হলো- একদম স্বাভাবিক, ফিট মানুষজন করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুরছে। সেক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না তাদের থেকে অন্যদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু। ৬. স্যানিটাইজার ভালো হলেও বাজারের অধিকাংশ স্যানিটাইজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে না (পানীয় অ্যালকোহল নয়)। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। অতিরিক্ত কিছু চাইলে হেক্সাসল টাইপের কিছু ব্যবহার করুন।

ঘরের বাইরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও মুখে হাত দেবেন না, যতক্ষণ না কোথাও গিয়ে হাত ধুতে পারবেন। ৭. বিদেশফেরত বন্ধু বা আত্মীয়কে কোয়ারেন্টিন করে দিন। বড় সমাবেশ/লোক সমাগম থেকে দূরে থাকুন। কোনো কনফারেন্স বা পার্টিতে যাবেন না।

ডা. শাহজাদা সেলিম : সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডক্রাইনলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

selimshahjada@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন