জীবনকে অহেতুক কঠিন করবেন না
jugantor
করোনা পরামর্শ
জীবনকে অহেতুক কঠিন করবেন না

  ডা. ফাহিম ইউনুস  

১৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা কতদিন কোভিড-১৯-এর সঙ্গে থাকব তা কেউ জানি না। এই অজানা সময়কে অস্বীকার করার যেমন দরকার নেই, তেমনি আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত যা বুঝেছি তাতে বলতে পারি, আমাদের জীবনকে অহেতুক কঠিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের সুখে থাকা দরকার আর এ জন্য দরকার করোনা নিয়ে সত্য কথাগুলো জানা।

সত্য কথাগুলো কী? ১. কোভিড থেকে বাঁচার শুধু তিনটি উপায় আছে-মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ১.৮ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা। ২. গ্রীষ্মে ভাইরাসটির প্রভাব হ্রাস পায় না। ভারত, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকালেই ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ৩. লিটার লিটার গরম জল পান করে কোনো লাভ নেই। কারণ কোষপ্রাচীরে ঢুকে যাওয়া ভাইরাসকে পান করা গরম পানির উষ্ণতা কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বরং বারবার টয়লেটে যেতে হয় প্রস্রাব করতে। ৪. যদি আপনার বাড়িতে কোভিড-১৯ রোগী না থাকে তাহলে বাড়ির মেঝে, দেওয়াল, উপরিভাগের সবকিছু জীবাণুমুক্ত করার কোনো দরকার নেই, কোনো লাভ নেই। ৫. কার্গো প্যাকেজ, শপিং ব্যাগ, পেট্রোল পাম্প, শপিং কার্ট বা ব্যাংকের এটিএম মেশিন সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। আপনার হাত ধুয়ে নেবেন বারবার এবং যথারীতি আপনার জীবনযাপন করুন। ৬. কোভিড-১৯ কোনো খাদ্য সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায় না। এটি ফ্লুর সংক্রমণের মতো হাঁচি-কাশির ফোটার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্ডার করা খাবার থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণিত ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। আপনার অর্ডারকৃত খাবারগুলোকে আপনি চাইলে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে কিছুটা গরম করে নিতে পারেন। ৭. অনেকে মনে করেন, সুয়ানা নিলে গরম বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে কোভিড ভাইরাসগুলোকে হত্যা করবে। কখনোই না। যা কোষে প্রবেশ করেছে তাকে কোনো প্রকার উষ্ণতা ধ্বংস করতে পারবে না, তা পানি বা বাষ্প যাই হোক। ৮. অ্যালার্জির কারণে এবং অন্য ভাইরাল সংক্রমণেও আপনি গন্ধ অনুভূতি হারাতে পারেন। গন্ধ না পাওয়া কোভিড ১৯-এর একটি অনির্দিষ্ট লক্ষণ, সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। ৯. বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাৎক্ষণিক জামাকাপড় পরিবর্তন ও গোসল করার কোনো দরকার নেই। ১০. কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে থাকে না। এটি একটি ড্রিপ সংক্রমণ, যার জন্য ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তাই আপনি খোলা পার্কের নির্মল বাতাসে অন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসতে পারেন। ১১. কোভিড-১৯ মানুষের জাতি বা ধর্ম বুঝে আক্রমণ করে না, যে কোনো জাতির মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। ১২. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার না করে কোভিড-১৯-এর বিপরীতে যে কোনো সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ভাইরাস কোনোভাবেই ব্যাকটেরিয়া নয়। ১৩. জুতার মাধ্যমে কোভিড-১৯ বাড়িতে এনে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমি ২০ বছর ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি, বুঝেছি ড্রপ সংক্রমণ কখনো জুতার মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় না। ১৪. ভিনেগার, সোডা, আদার রস, বিভিন্ন হারবের রস জাতীয় দ্রব্য পান ভাইরাস থেকে রক্ষা করে না। বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য মাশরুমজাতীয় কিছু ন্যাচারাল খাবার খেতে পারেন। ১৫. সারাক্ষণ গ্লাভস পরে থাকা একটি ভুল অভ্যাস, ভাইরাসটি গ্লাভসে জমে থাকতে পারে এবং তারপর নিজের অজান্তে মুখ স্পর্শ করলে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। ১৬. রেস্টুরেন্ট কর্মীরা একটি গ্লাভস পরেই সব খাদ্য স্পর্শ করতে থাকে, এটি ঘন ঘন বদলানো দরকার। সাধারণ মানুষদের জন্য বারবার হাত ধোয়াই ভালো।

ডা. ফাহিম ইউনুস : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ক্লিনিকের প্রধান

করোনা পরামর্শ

জীবনকে অহেতুক কঠিন করবেন না

 ডা. ফাহিম ইউনুস 
১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা কতদিন কোভিড-১৯-এর সঙ্গে থাকব তা কেউ জানি না। এই অজানা সময়কে অস্বীকার করার যেমন দরকার নেই, তেমনি আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত যা বুঝেছি তাতে বলতে পারি, আমাদের জীবনকে অহেতুক কঠিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের সুখে থাকা দরকার আর এ জন্য দরকার করোনা নিয়ে সত্য কথাগুলো জানা।

সত্য কথাগুলো কী? ১. কোভিড থেকে বাঁচার শুধু তিনটি উপায় আছে-মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ১.৮ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা। ২. গ্রীষ্মে ভাইরাসটির প্রভাব হ্রাস পায় না। ভারত, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকালেই ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ৩. লিটার লিটার গরম জল পান করে কোনো লাভ নেই। কারণ কোষপ্রাচীরে ঢুকে যাওয়া ভাইরাসকে পান করা গরম পানির উষ্ণতা কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বরং বারবার টয়লেটে যেতে হয় প্রস্রাব করতে। ৪. যদি আপনার বাড়িতে কোভিড-১৯ রোগী না থাকে তাহলে বাড়ির মেঝে, দেওয়াল, উপরিভাগের সবকিছু জীবাণুমুক্ত করার কোনো দরকার নেই, কোনো লাভ নেই। ৫. কার্গো প্যাকেজ, শপিং ব্যাগ, পেট্রোল পাম্প, শপিং কার্ট বা ব্যাংকের এটিএম মেশিন সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। আপনার হাত ধুয়ে নেবেন বারবার এবং যথারীতি আপনার জীবনযাপন করুন। ৬. কোভিড-১৯ কোনো খাদ্য সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায় না। এটি ফ্লুর সংক্রমণের মতো হাঁচি-কাশির ফোটার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্ডার করা খাবার থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণিত ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। আপনার অর্ডারকৃত খাবারগুলোকে আপনি চাইলে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে কিছুটা গরম করে নিতে পারেন। ৭. অনেকে মনে করেন, সুয়ানা নিলে গরম বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে কোভিড ভাইরাসগুলোকে হত্যা করবে। কখনোই না। যা কোষে প্রবেশ করেছে তাকে কোনো প্রকার উষ্ণতা ধ্বংস করতে পারবে না, তা পানি বা বাষ্প যাই হোক। ৮. অ্যালার্জির কারণে এবং অন্য ভাইরাল সংক্রমণেও আপনি গন্ধ অনুভূতি হারাতে পারেন। গন্ধ না পাওয়া কোভিড ১৯-এর একটি অনির্দিষ্ট লক্ষণ, সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। ৯. বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাৎক্ষণিক জামাকাপড় পরিবর্তন ও গোসল করার কোনো দরকার নেই। ১০. কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে থাকে না। এটি একটি ড্রিপ সংক্রমণ, যার জন্য ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তাই আপনি খোলা পার্কের নির্মল বাতাসে অন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসতে পারেন। ১১. কোভিড-১৯ মানুষের জাতি বা ধর্ম বুঝে আক্রমণ করে না, যে কোনো জাতির মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। ১২. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার না করে কোভিড-১৯-এর বিপরীতে যে কোনো সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ভাইরাস কোনোভাবেই ব্যাকটেরিয়া নয়। ১৩. জুতার মাধ্যমে কোভিড-১৯ বাড়িতে এনে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমি ২০ বছর ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি, বুঝেছি ড্রপ সংক্রমণ কখনো জুতার মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় না। ১৪. ভিনেগার, সোডা, আদার রস, বিভিন্ন হারবের রস জাতীয় দ্রব্য পান ভাইরাস থেকে রক্ষা করে না। বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য মাশরুমজাতীয় কিছু ন্যাচারাল খাবার খেতে পারেন। ১৫. সারাক্ষণ গ্লাভস পরে থাকা একটি ভুল অভ্যাস, ভাইরাসটি গ্লাভসে জমে থাকতে পারে এবং তারপর নিজের অজান্তে মুখ স্পর্শ করলে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। ১৬. রেস্টুরেন্ট কর্মীরা একটি গ্লাভস পরেই সব খাদ্য স্পর্শ করতে থাকে, এটি ঘন ঘন বদলানো দরকার। সাধারণ মানুষদের জন্য বারবার হাত ধোয়াই ভালো।

ডা. ফাহিম ইউনুস : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ক্লিনিকের প্রধান

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন