অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব: ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিন
jugantor
অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব: ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিন

  সম্পাদকীয়  

২০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনার প্রথম দফা ধাক্কার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে সরকার প্রণোদনা প্রদানের ফলে উদ্যোক্তারা কোনোরকমে উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে করোনা পরিস্থিতির অবনতির ফলে সরকারকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’-এর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেকে নতুন করে হয়েছেন কর্মহীন। অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। জানা গেছে, শুধু লকডাউনের কারণে মোট কর্মগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশের বেশি কর্মহীন হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কাজ হারানোদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর কাজ ফিরে পাবে না।

এ অবস্থায় এই বিপুল কর্মগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে আগামীতে কর্মসংস্থানের ধরনও পালটে যাবে। কাজেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

বস্তুত করোনার প্রভাবে বেসরকারি পর্যায়ে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অনেকের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় সব চাকরির পরীক্ষাই আটকে গেছে। অনেকেই আছেন, যাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স আর বেশিদিন নেই। ফলে করোনা যুব সম্প্রদায়ের হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ থাকলে সমাজে যে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

করোনার প্রভাব পড়েছে শিল্প ও রপ্তানি খাতে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় অনেক কারখানার। মহামারির প্রভাব যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা আরও বড় বিপাকে পড়তে পারেন। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বড় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা এবং কৃষিখাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোয় নতুন করে যাতে খেলাপি ঋণ না-সৃষ্টি হয় সেজন্য নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

করোনার কারণে দেশের শিল্প ও সেবা খাতে যে আঘাত এসেছে, তা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের ওপর আরও প্রভাব ফেলবে। চলমান ‘লকডাউনে’ তৈরি পোশাক ও অন্য কিছু শিল্পকারখানা চালু রাখার সুযোগ থাকলেও নির্মাণ, পরিবহণ, পোলট্রিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত অসংখ্য মানুষের জীবিকা পড়েছে সংকটে। অনেক নিু আয়ের মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় এরইমধ্যে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছেন। এতে করোনার সংক্রমণ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সেখানেও কর্মসংস্থানের সংকট বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় আগামীতে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সময়মতো প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বস্তুত অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারকে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে।

অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব: ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিন

 সম্পাদকীয় 
২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনার প্রথম দফা ধাক্কার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে সরকার প্রণোদনা প্রদানের ফলে উদ্যোক্তারা কোনোরকমে উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে করোনা পরিস্থিতির অবনতির ফলে সরকারকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’-এর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেকে নতুন করে হয়েছেন কর্মহীন। অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। জানা গেছে, শুধু লকডাউনের কারণে মোট কর্মগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশের বেশি কর্মহীন হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কাজ হারানোদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর কাজ ফিরে পাবে না।

এ অবস্থায় এই বিপুল কর্মগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে আগামীতে কর্মসংস্থানের ধরনও পালটে যাবে। কাজেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

বস্তুত করোনার প্রভাবে বেসরকারি পর্যায়ে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অনেকের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় সব চাকরির পরীক্ষাই আটকে গেছে। অনেকেই আছেন, যাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স আর বেশিদিন নেই। ফলে করোনা যুব সম্প্রদায়ের হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ থাকলে সমাজে যে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

করোনার প্রভাব পড়েছে শিল্প ও রপ্তানি খাতে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় অনেক কারখানার। মহামারির প্রভাব যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা আরও বড় বিপাকে পড়তে পারেন। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বড় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা এবং কৃষিখাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোয় নতুন করে যাতে খেলাপি ঋণ না-সৃষ্টি হয় সেজন্য নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

করোনার কারণে দেশের শিল্প ও সেবা খাতে যে আঘাত এসেছে, তা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের ওপর আরও প্রভাব ফেলবে। চলমান ‘লকডাউনে’ তৈরি পোশাক ও অন্য কিছু শিল্পকারখানা চালু রাখার সুযোগ থাকলেও নির্মাণ, পরিবহণ, পোলট্রিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত অসংখ্য মানুষের জীবিকা পড়েছে সংকটে। অনেক নিু আয়ের মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় এরইমধ্যে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছেন। এতে করোনার সংক্রমণ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সেখানেও কর্মসংস্থানের সংকট বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় আগামীতে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সময়মতো প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বস্তুত অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারকে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন