কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল
jugantor
কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল
একটি ভালো দৃষ্টান্ত

  সম্পাদকীয়  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা, তখন রাজধানীতে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল চালু হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।

রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবনে এ হাসপাতালটির উদ্বোধন হয়েছে গত রোববার। ইতোমধ্যে রোগী ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। চলছে চিকিৎসা। এ হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা এক হাজার। ইমার্জেন্সি শয্যা ৫০, জেনারেল ওয়ার্ড ১৫০, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ শয্যা ২১২, এইচডিইউ শয্যা ২৫০ এবং আইসোলেশন রুম ৪৩৮টি।

হাসপাতালটিতে রয়েছে আরটি পিসিআর ল্যাব, প্যাথলজি ল্যাব, রেডিও থেরাপি সেন্টার, এক্স-রে সুবিধাসহ আরও অনেক সুব্যবস্থা। করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেনের দরকার হয় বেশি। তাই এ হাসপাতালের প্রতিটি শয্যায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্য রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এটিকে কোভিড রোগীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বলা যায়।

করোনার এই কঠিন সময়ে এমন একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সাধুবাদ জানাই আমরা। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে। চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে যে জরুরি ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়, ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল তার উদাহরণ।

দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত বছরের মার্চে শুরু হওয়া করোনা সংক্রমণ একটা পর্যায়ে এসে সহনীয় মাত্রায় কমে এসেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এমনভাবে আঘাত হানছে যে, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মৃত্যু বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনকভাবে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। রাজধানীর কোনো হাসপাতালেই শয্যা খালি নেই। কোভিড আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের নিয়ে মানুষ এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আইসিইউ দূরের কথা, সাধারণ শয্যাও পাচ্ছেন না অনেকে। এ এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বটে। কিন্তু যে হারে গুরুতর কোভিড রোগীর সংখ্যা এবং আইসিইউ শয্যার চাহিদা বাড়ছে, সে হারে আইসিইউর ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ মাস আগে প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তা সত্ত্বেও এতদিনেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি হয়নি। এ কারণে শুধু কোভিড রোগী নয়, সব ধরনের জটিল রোগীকে পাঠাতে হয় অন্য জেলায়। কিছুদিন ধরে প্রায় সব জেলাতেই কোভিড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে করোনার জটিল রোগীদের আইসিইউর চেয়েও বেশি প্রয়োজন হয় উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের।

এ জন্য জেলা হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্তসংখ্যক অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল

একটি ভালো দৃষ্টান্ত
 সম্পাদকীয় 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা, তখন রাজধানীতে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল চালু হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।

রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবনে এ হাসপাতালটির উদ্বোধন হয়েছে গত রোববার। ইতোমধ্যে রোগী ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। চলছে চিকিৎসা। এ হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা এক হাজার। ইমার্জেন্সি শয্যা ৫০, জেনারেল ওয়ার্ড ১৫০, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ শয্যা ২১২, এইচডিইউ শয্যা ২৫০ এবং আইসোলেশন রুম ৪৩৮টি।

হাসপাতালটিতে রয়েছে আরটি পিসিআর ল্যাব, প্যাথলজি ল্যাব, রেডিও থেরাপি সেন্টার, এক্স-রে সুবিধাসহ আরও অনেক সুব্যবস্থা। করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেনের দরকার হয় বেশি। তাই এ হাসপাতালের প্রতিটি শয্যায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্য রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এটিকে কোভিড রোগীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বলা যায়।

করোনার এই কঠিন সময়ে এমন একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সাধুবাদ জানাই আমরা। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে। চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে যে জরুরি ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়, ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল তার উদাহরণ।

দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত বছরের মার্চে শুরু হওয়া করোনা সংক্রমণ একটা পর্যায়ে এসে সহনীয় মাত্রায় কমে এসেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এমনভাবে আঘাত হানছে যে, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মৃত্যু বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনকভাবে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। রাজধানীর কোনো হাসপাতালেই শয্যা খালি নেই। কোভিড আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের নিয়ে মানুষ এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আইসিইউ দূরের কথা, সাধারণ শয্যাও পাচ্ছেন না অনেকে। এ এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বটে। কিন্তু যে হারে গুরুতর কোভিড রোগীর সংখ্যা এবং আইসিইউ শয্যার চাহিদা বাড়ছে, সে হারে আইসিইউর ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ মাস আগে প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তা সত্ত্বেও এতদিনেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি হয়নি। এ কারণে শুধু কোভিড রোগী নয়, সব ধরনের জটিল রোগীকে পাঠাতে হয় অন্য জেলায়। কিছুদিন ধরে প্রায় সব জেলাতেই কোভিড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে করোনার জটিল রোগীদের আইসিইউর চেয়েও বেশি প্রয়োজন হয় উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের।

এ জন্য জেলা হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্তসংখ্যক অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন