বস্ত্র খাতে প্রণোদনা
jugantor
বস্ত্র খাতে প্রণোদনা
সহজ শর্তে অর্থের জোগান দেওয়া জরুরি

  সম্পাদকীয়  

২৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঈদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস প্রদান এবং করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সহজ শর্তে ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়েছেন বস্ত্র ও পোশাক খাত শিল্পমালিকরা।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিন ব্যবসায়ী নেতা। উল্লেখ্য, গত বছর করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই দফায় সর্বমোট আট হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল এবং এতে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল মাত্র ২ শতাংশ।

গত বছরের চেয়ে এবার পরিস্থিতি বেশি জটিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের অভিঘাতে একদিকে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় যেমন বেড়েছে; অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতারা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়ে পণ্য বিক্রি করতে না পারায় রপ্তানিকৃত পণ্যের কোনো বিলও দেশে আসছে না।

এর ফলে রপ্তানিকারকরা স্বভাবতই রয়েছেন আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় শিল্প-কারখানা চালু রাখার স্বার্থে আসন্ন ঈদুলফিতরের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দিতে জরুরি ভিত্তিতে গত বছরের মতো একই শর্তে ও সুদে অর্থের জোগান দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চলেছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে। করোনার প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘রূপান্তরিত’ করোনাভাইরাস যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশে হানা দেওয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে পুনরায় স্থবিরতা সৃষ্টির আলামত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা গভীরভাবে চিন্তিত।

আশার কথা, করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর বেশকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে তা বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এ বছরও তা অব্যাহত রাখা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। আশা করা যায়, এবারও সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে তারা। তবে এজন্য বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। তা না হলে সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

বস্ত্র খাতে প্রণোদনা

সহজ শর্তে অর্থের জোগান দেওয়া জরুরি
 সম্পাদকীয় 
২৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঈদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস প্রদান এবং করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সহজ শর্তে ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়েছেন বস্ত্র ও পোশাক খাত শিল্পমালিকরা।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিন ব্যবসায়ী নেতা। উল্লেখ্য, গত বছর করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই দফায় সর্বমোট আট হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল এবং এতে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল মাত্র ২ শতাংশ।

গত বছরের চেয়ে এবার পরিস্থিতি বেশি জটিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের অভিঘাতে একদিকে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় যেমন বেড়েছে; অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতারা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়ে পণ্য বিক্রি করতে না পারায় রপ্তানিকৃত পণ্যের কোনো বিলও দেশে আসছে না।

এর ফলে রপ্তানিকারকরা স্বভাবতই রয়েছেন আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় শিল্প-কারখানা চালু রাখার স্বার্থে আসন্ন ঈদুলফিতরের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দিতে জরুরি ভিত্তিতে গত বছরের মতো একই শর্তে ও সুদে অর্থের জোগান দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চলেছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে। করোনার প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘রূপান্তরিত’ করোনাভাইরাস যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশে হানা দেওয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে পুনরায় স্থবিরতা সৃষ্টির আলামত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা গভীরভাবে চিন্তিত।

আশার কথা, করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর বেশকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে তা বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এ বছরও তা অব্যাহত রাখা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। আশা করা যায়, এবারও সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে তারা। তবে এজন্য বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। তা না হলে সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস