করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা
jugantor
করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা
সবাইকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

  যুগান্তর সম্পাদকীয়  

০৩ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে দেশের সব মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তা অভিনন্দনযোগ্য। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় দেশবাসীকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে তা দিতে না পারায় বিকল্প হিসাবে বুধবার রাশিয়ার গামালিয়া ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি এবং বৃহস্পতিবার চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-সিওআরভি জরুরি ব্যবহারে জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বলা প্রয়োজন, এ মুহূর্তে করোনামুক্ত বিশ্ব পেতে চাইলে প্রয়োজন অন্যূন ৭ বিলিয়ন কার্যকর ভ্যাকসিন। অথচ বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র দেড় বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন করা হয়েছে; তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রয়োজনের তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল। বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ শতাংশ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। দেশবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বাদবাকি ভ্যাকসিনপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ ও অন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, শুরুতে করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কিত সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও প্রচেষ্টাকে দেশের অনেকেই হালকাভাবে নিয়েছেন। সন্দেহবাদীদের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে অনেক মানুষ। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা কোন জিনিসকে কীভাবে দেখছি-সেই দৃষ্টিভঙ্গি। গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ অথবা অর্ধেক খালি-এ বিতর্কে আমরা যদি গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ-এ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হই, তখন সবকিছুই আমাদের কাছে ইতিবাচক হিসাবে প্রতিভাত হবে। একটা প্রবাদ আছে, ‘এমনিক অলৌকিক ঘটনা ঘটতেও সময় নেয়।’ সব সমালোচনা আর সন্দেহ-অবিশ্বাস উপেক্ষা করে সরকার শুরু থেকেই দেশবাসীকে করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিনের আওতায় আনার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তা যে সফল হতে চলেছে-প্রধানমন্ত্রীর কথায় এরই প্রতিফলন ঘটেছে।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস, পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ১০টি মারাত্মক রোগ-হাম, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, হিমো-ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি ও রুবেলা থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সারা দেশে বিনা মূল্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ছাড়াও মা ও গর্ভের শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মহিলাদের ৫ ডোজ টিটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এসব কার্যক্রম সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির এ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আমরা মনে করি। বিশ্বে এখন সব আলোচনা, কর্মযজ্ঞ, ধ্যানজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আশার কথা, শেষ পর্যন্ত মানুষ হাল ছাড়েনি; যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধ, প্রতিকারে দেশে দেশে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, করবে। নিশ্চয়ই এসবের সুফল একদিন আমরাও ভোগ করব। তবে এ সংকটকালে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তা অবশ্যই আমাদের কাছে আশার আলো হিসাবে প্রতিভাত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের জন্যও সম্মানজনক ও মর্যাদাকর, এ দেশের নাগরিক হিসাবে যা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা

সবাইকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়
 যুগান্তর সম্পাদকীয় 
০৩ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে দেশের সব মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তা অভিনন্দনযোগ্য। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় দেশবাসীকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে তা দিতে না পারায় বিকল্প হিসাবে বুধবার রাশিয়ার গামালিয়া ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি এবং বৃহস্পতিবার চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-সিওআরভি জরুরি ব্যবহারে জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বলা প্রয়োজন, এ মুহূর্তে করোনামুক্ত বিশ্ব পেতে চাইলে প্রয়োজন অন্যূন ৭ বিলিয়ন কার্যকর ভ্যাকসিন। অথচ বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র দেড় বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন করা হয়েছে; তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রয়োজনের তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল। বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ শতাংশ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। দেশবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বাদবাকি ভ্যাকসিনপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ ও অন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, শুরুতে করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কিত সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও প্রচেষ্টাকে দেশের অনেকেই হালকাভাবে নিয়েছেন। সন্দেহবাদীদের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে অনেক মানুষ। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা কোন জিনিসকে কীভাবে দেখছি-সেই দৃষ্টিভঙ্গি। গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ অথবা অর্ধেক খালি-এ বিতর্কে আমরা যদি গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ-এ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হই, তখন সবকিছুই আমাদের কাছে ইতিবাচক হিসাবে প্রতিভাত হবে। একটা প্রবাদ আছে, ‘এমনিক অলৌকিক ঘটনা ঘটতেও সময় নেয়।’ সব সমালোচনা আর সন্দেহ-অবিশ্বাস উপেক্ষা করে সরকার শুরু থেকেই দেশবাসীকে করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিনের আওতায় আনার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তা যে সফল হতে চলেছে-প্রধানমন্ত্রীর কথায় এরই প্রতিফলন ঘটেছে।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস, পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ১০টি মারাত্মক রোগ-হাম, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, হিমো-ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি ও রুবেলা থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সারা দেশে বিনা মূল্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ছাড়াও মা ও গর্ভের শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মহিলাদের ৫ ডোজ টিটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এসব কার্যক্রম সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির এ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আমরা মনে করি। বিশ্বে এখন সব আলোচনা, কর্মযজ্ঞ, ধ্যানজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আশার কথা, শেষ পর্যন্ত মানুষ হাল ছাড়েনি; যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধ, প্রতিকারে দেশে দেশে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, করবে। নিশ্চয়ই এসবের সুফল একদিন আমরাও ভোগ করব। তবে এ সংকটকালে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তা অবশ্যই আমাদের কাছে আশার আলো হিসাবে প্রতিভাত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের জন্যও সম্মানজনক ও মর্যাদাকর, এ দেশের নাগরিক হিসাবে যা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন