তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়: এবার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হোক
jugantor
তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়: এবার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হোক

  সম্পাদকীয়  

০৪ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে ২৯২টিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। আর তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে ২১৩ আসনে। এগিয়ে আছে আরও চারটিতে। কাজেই তৃণমূল যে পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত।

তবে মমতা ব্যানার্জি নিজে নন্দীগ্রামে তার আসনে পরাজিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, যদিও এ আসনের ফল ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। অবশ্য মমতা পরাজিত হলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তারই বেশি।

তৃণমূল কংগ্রেসের এ বিজয়কে নানাভাবে মূল্যায়ন করবেন বিশ্লেষকরা। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অবস্থান এখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে। তারা বাঙালি সংস্কৃতিকেই গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। বস্তুত এ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা হিসাবে।

বিশেষ করে ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে সাফল্যের পর বিজেপি অনেকটা আটঘাট বেঁধেই নেমেছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও ভোটের হিসাবে রাজ্যে দলটির শক্তি বেড়েছে। বস্তুত বামফ্রন্টের ভরাডুবির কারণে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। টানা তিন দশকেরও বেশি সময়ের সাবেক শাসক জোট বামফ্রন্ট এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়লেও নির্বাচনে তাদের শোচনীয় অবস্থা কৌতূহলোদ্দীপক।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও একই সময়ে ভারতের আরও চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়েছে। এর মধ্যে কেরালায় বামফ্রন্ট, আসামে বিজেপি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং পদুচেরিতে বিজেপি জোট জয়ী হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে স্বভাবতই এ দেশের জনগণের আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল ব্যাপক। আমাদের সবচেয়ে নিকট-প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিসহ অনেক বিষয়েই মিল রয়েছে। বলা চলে, দুই বাংলার মধ্যে রয়েছে ঐক্য ও প্রাণের টান। তাছাড়া এ রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলের ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়টিও অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইতঃপূর্বে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলেও মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তা সফলতার মুখ দেখেনি।

সম্প্রতি তিনি এক নির্বাচনি সমাবেশে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তিস্তার পানি যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে তবেই তিনি পানিবণ্টনে রাজি হবেন। আমরা মনে করি, এটি নিছকই তার নির্বাচনি বক্তব্য। তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর তিস্তার পানির ন্যায্য বণ্টনের বিষয়ে তিনি মনোনিবেশ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। নিকট প্রতিবেশী হিসাবে ভারতের সঙ্গে এবং বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পানিবণ্টন ইস্যুরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, এটাই কাম্য। এক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মমতা ব্যানার্জি বিষয়টিতে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দেখাবেন-এটাই কাম্য। তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়ে মমতা ব্যানার্জিকে জানাই আমাদের অভিনন্দন।

তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়: এবার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হোক

 সম্পাদকীয় 
০৪ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে ২৯২টিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। আর তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে ২১৩ আসনে। এগিয়ে আছে আরও চারটিতে। কাজেই তৃণমূল যে পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত।

তবে মমতা ব্যানার্জি নিজে নন্দীগ্রামে তার আসনে পরাজিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, যদিও এ আসনের ফল ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। অবশ্য মমতা পরাজিত হলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তারই বেশি।

তৃণমূল কংগ্রেসের এ বিজয়কে নানাভাবে মূল্যায়ন করবেন বিশ্লেষকরা। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অবস্থান এখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে। তারা বাঙালি সংস্কৃতিকেই গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। বস্তুত এ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা হিসাবে।

বিশেষ করে ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে সাফল্যের পর বিজেপি অনেকটা আটঘাট বেঁধেই নেমেছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও ভোটের হিসাবে রাজ্যে দলটির শক্তি বেড়েছে। বস্তুত বামফ্রন্টের ভরাডুবির কারণে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। টানা তিন দশকেরও বেশি সময়ের সাবেক শাসক জোট বামফ্রন্ট এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়লেও নির্বাচনে তাদের শোচনীয় অবস্থা কৌতূহলোদ্দীপক।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও একই সময়ে ভারতের আরও চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়েছে। এর মধ্যে কেরালায় বামফ্রন্ট, আসামে বিজেপি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং পদুচেরিতে বিজেপি জোট জয়ী হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে স্বভাবতই এ দেশের জনগণের আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল ব্যাপক। আমাদের সবচেয়ে নিকট-প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিসহ অনেক বিষয়েই মিল রয়েছে। বলা চলে, দুই বাংলার মধ্যে রয়েছে ঐক্য ও প্রাণের টান। তাছাড়া এ রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলের ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়টিও অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইতঃপূর্বে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলেও মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তা সফলতার মুখ দেখেনি।

সম্প্রতি তিনি এক নির্বাচনি সমাবেশে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তিস্তার পানি যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে তবেই তিনি পানিবণ্টনে রাজি হবেন। আমরা মনে করি, এটি নিছকই তার নির্বাচনি বক্তব্য। তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর তিস্তার পানির ন্যায্য বণ্টনের বিষয়ে তিনি মনোনিবেশ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। নিকট প্রতিবেশী হিসাবে ভারতের সঙ্গে এবং বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পানিবণ্টন ইস্যুরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, এটাই কাম্য। এক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মমতা ব্যানার্জি বিষয়টিতে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দেখাবেন-এটাই কাম্য। তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়ে মমতা ব্যানার্জিকে জানাই আমাদের অভিনন্দন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন