জেলাভিত্তিক গণপরিবহণ চালু
jugantor
জেলাভিত্তিক গণপরিবহণ চালু
সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার চলমান ‘লকডাউন’ তথা বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ালেও ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহানগরী ও জেলার মধ্যে গণপরিবহণ চলবে বলে জানা গেছে।

তবে এ সময়কালে আগের মতোই বন্ধ থাকবে দূরপাল্লার পরিবহণ, ট্রেন ও লঞ্চ। উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা, গণপরিবহণ প্রভৃতি চালু থাকায় ওই ‘লকডাউন’ ফলপ্রসূ করা যায়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ৮ দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়।

এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দোকান-শপিংমল বন্ধ রাখাসহ ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে সেই মেয়াদ শেষ হলেও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউনের মেয়াদও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে, অবশেষে যা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে ২৫ এপ্রিল থেকে শপিংমল ও দোকানপাট একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা চালু রাখারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ‘জেলাভিত্তিক’ গণপরিবহণ চালুর সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক হয়েছে, সময়েই তা বোঝা যাবে। তবে এ কথাও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছিল।

নিরুপায় হয়ে অনেক শ্রমিক পেশা বদল করছে-ইতোমধ্যে এমন সংবাদও পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে গণপরিবহণ চালুর দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলে সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে কিংবা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম যেন না ঘটে। গণপরিবহণ চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি যাতে কঠোরভাবে প্রতিপালিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ওই সময় দেশে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। সে সময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে এসেছিল।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘কঠোর লকডাউন’সহ সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব-পরিকল্পনাগুলো যেন স্মার্ট, বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক হয় এবং সবার আগে স্বাস্থ্য খাতে নজর দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে পরিবহণ শ্রমিক-মালিক থেকে শুরু করে কল-কারখানার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠী যাতে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ সংকটকালে লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের যে অভিজ্ঞতা, তার আলোকে গ্রাম-শহরসহ দেশের প্রতিটি জনপদে এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

জেলাভিত্তিক গণপরিবহণ চালু

সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার চলমান ‘লকডাউন’ তথা বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ালেও ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহানগরী ও জেলার মধ্যে গণপরিবহণ চলবে বলে জানা গেছে।

তবে এ সময়কালে আগের মতোই বন্ধ থাকবে দূরপাল্লার পরিবহণ, ট্রেন ও লঞ্চ। উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা, গণপরিবহণ প্রভৃতি চালু থাকায় ওই ‘লকডাউন’ ফলপ্রসূ করা যায়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ৮ দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়।

এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দোকান-শপিংমল বন্ধ রাখাসহ ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে সেই মেয়াদ শেষ হলেও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউনের মেয়াদও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে, অবশেষে যা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে ২৫ এপ্রিল থেকে শপিংমল ও দোকানপাট একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা চালু রাখারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ‘জেলাভিত্তিক’ গণপরিবহণ চালুর সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক হয়েছে, সময়েই তা বোঝা যাবে। তবে এ কথাও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছিল।

নিরুপায় হয়ে অনেক শ্রমিক পেশা বদল করছে-ইতোমধ্যে এমন সংবাদও পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে গণপরিবহণ চালুর দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলে সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে কিংবা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম যেন না ঘটে। গণপরিবহণ চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি যাতে কঠোরভাবে প্রতিপালিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ওই সময় দেশে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। সে সময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে এসেছিল।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘কঠোর লকডাউন’সহ সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব-পরিকল্পনাগুলো যেন স্মার্ট, বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক হয় এবং সবার আগে স্বাস্থ্য খাতে নজর দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে পরিবহণ শ্রমিক-মালিক থেকে শুরু করে কল-কারখানার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠী যাতে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ সংকটকালে লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের যে অভিজ্ঞতা, তার আলোকে গ্রাম-শহরসহ দেশের প্রতিটি জনপদে এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন