দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
jugantor
দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয়  

১০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে রাজপথ ও ফেরিঘাটে বাড়িফেরা মানুষের ঢল দেখে মনে হচ্ছে যেন দেশে করোনার কোনো অস্তিত্বই নেই! লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষ এভাবে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করবে, এটা কেউ চিন্তাও করেনি। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ফলে বাড়িফেরা মানুষগুলো একদিকে নিজেদের বিপদে ফেলছে অন্যদিকে আরও অনেকের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জেলার মানুষ যানবাহন পালটে ভেঙে ভেঙে, অনেকে হেঁটেই গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। আগাম ঘোষণা ছাড়া শনিবার সকাল থেকে ফেরি বন্ধ করে দেওয়ায় ঘাটগুলোয় ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। দিনের একপর্যায়ে যাত্রীদের চাপে ফেরি ছাড়লেও তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। যুগান্তরে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেল ফেরিতে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। এমন ভিড় থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দেশের সর্বত্র মানুষের চলাচল বেড়ে গেলে দেশজুড়ে আরও ভয়াবহ রূপে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে করোনা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের পর আবারও গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচল করতে না পারে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে বর্তমানে করোনার যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা মোটামুটি সহনীয় অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা যাবে, এটাও এক প্রশ্ন। করোনার ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন, এবার বাংলাদেশে করোনার সেই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই মানুষ দেশে প্রবেশ করছে। তাদের কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, ভারতফেরত যাত্রীদের কেউ কেউ কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন প্রয়োজনে বারবার বাইরে যাচ্ছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। ভারতের পাশাপাশি নেপালেও করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির খবর পাওয়া গেছে। কাজেই এ পরিস্থিতিতে ভারত বা অন্য যে কোনো দেশ থেকে আসা যাত্রীদের যথাযথ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো রকম অবহেলা করলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো রকম দায়িত্বহীনতার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে দোকান মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটার কথা থাকলেও দোকান ও শপিংমলে আসা ক্রেতারা তা মানছে না। করোনা বিশ্বের অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচলের চেষ্টা করছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম শৈথিল্য প্রদর্শন-দেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির কারণ হতে পারে।

দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই
 সম্পাদকীয় 
১০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
করোনার প্রতীকী ছবি

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে রাজপথ ও ফেরিঘাটে বাড়িফেরা মানুষের ঢল দেখে মনে হচ্ছে যেন দেশে করোনার কোনো অস্তিত্বই নেই! লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষ এভাবে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করবে, এটা কেউ চিন্তাও করেনি। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ফলে বাড়িফেরা মানুষগুলো একদিকে নিজেদের বিপদে ফেলছে অন্যদিকে আরও অনেকের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জেলার মানুষ যানবাহন পালটে ভেঙে ভেঙে, অনেকে হেঁটেই গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। আগাম ঘোষণা ছাড়া শনিবার সকাল থেকে ফেরি বন্ধ করে দেওয়ায় ঘাটগুলোয় ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। দিনের একপর্যায়ে যাত্রীদের চাপে ফেরি ছাড়লেও তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। যুগান্তরে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেল ফেরিতে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। এমন ভিড় থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দেশের সর্বত্র মানুষের চলাচল বেড়ে গেলে দেশজুড়ে আরও ভয়াবহ রূপে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে করোনা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের পর আবারও গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচল করতে না পারে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে বর্তমানে করোনার যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা মোটামুটি সহনীয় অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা যাবে, এটাও এক প্রশ্ন। করোনার ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন, এবার বাংলাদেশে করোনার সেই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই মানুষ দেশে প্রবেশ করছে। তাদের কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, ভারতফেরত যাত্রীদের কেউ কেউ কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন প্রয়োজনে বারবার বাইরে যাচ্ছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। ভারতের পাশাপাশি নেপালেও করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির খবর পাওয়া গেছে। কাজেই এ পরিস্থিতিতে ভারত বা অন্য যে কোনো দেশ থেকে আসা যাত্রীদের যথাযথ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো রকম অবহেলা করলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো রকম দায়িত্বহীনতার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে দোকান মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটার কথা থাকলেও দোকান ও শপিংমলে আসা ক্রেতারা তা মানছে না। করোনা বিশ্বের অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচলের চেষ্টা করছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম শৈথিল্য প্রদর্শন-দেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির কারণ হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস