সচেতনতাই বাঁচাবে জীবন
jugantor
সচেতনতাই বাঁচাবে জীবন

  প্রদীপ সাহা  

১০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সচেতনতাই বাঁচাবে জীবন

করোনাকালেও আমরা দেখেছি কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার না করে বুক ফুলিয়ে অবাধে চলাফেরা করেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনোরকম তোয়াক্কা করেনি। তাদের এই উপেক্ষা ও অবহেলা আজ আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসন-মিডিয়া সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলতে বলতে যেন ক্লান্ত হয়ে একসময় একটুখানি থেমেও গিয়েছিল। আমাদের সামান্য অবহেলায় আজ আবার করোনার থাবার ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।

আমাদের শুধু তিনটি বিষয় মেনে চলার দরকার ছিল করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য-সঠিক মানের মাস্ক পরা, ২০ সেকেন্ডব্যাপী ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা। মৃত্যুর চেয়েও কি কঠিন ছিল এ তিনটি নিয়ম মেনে চলা? শেষের নিয়মটা অনেক সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে মেনে চলা একটু কঠিন হলেও বাকি দুটি তো কঠিন ছিল না! মাস্কের কথাই যদি বলি-কে শোনে কার কথা! অনেকে মাস্ক ব্যবহার করলেও তা থুতনিতে ঝুলিয়ে কিংবা পকেটে ভরে কিংবা হাতে নিয়ে বুক ফুলিয়ে হেঁটে বেড়িয়েছে সাহসী সৈনিকের মতো! তাদের মধ্যে হাত ধোয়ার কোনো বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই। তারা যেন বুঝতেই চায়নি, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার সহজ ঠিকানা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত এসব স্বাস্থ্যবিধি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

একটিবারও আমরা বুঝতে চাই না, একটিমাত্র ভুল বা সামান্য একটু অবহেলায় আজ আমরা কোথায় এসে পৌঁছেছি! কেমন বিপদের দিকে অগ্রসর হচ্ছি! একশ্রেণির মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনোরকম সচেতনতাই লক্ষ করা যাচ্ছে না। তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে মুখে মাস্ক না পরে, মেনে চলছে না কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি। লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন। তাদের তো পেটের চিন্তা করতে হবে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য। অফিস করতে না পারলে কিংবা বাইরে বেরিয়ে এসে আয়-রোজগার করতে না পারলে তারা খাবে কী? তাদের ক্ষুধার জ্বালা ও চাহিদা মিটবে কী করে? তারা বলছে, করোনার চেয়ে পেটের জ্বালা অনেক বেশি কঠিন। গতবারের সংক্রমণে অনেকেই অনেক কিছু হারিয়েছে, নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে, যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা অবশ্যই থাকা দরকার।

আজ আমরা সবাই তাকিয়ে আছি একটি সুন্দর আগামী দিনের জন্য, করোনাকে জয় করার জন্য। তবে এজন্য সবার আগে দরকার নিজেদের সচেতন করা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা। আসুন, নিজে বাঁচি এবং পরিবার তথা সমগ্র দেশটিকে এই কঠিন মহামারির কবল থেকে রক্ষা করি। আপনার-আমার সামান্য সচেতনতাই করোনাকে জয় করতে পারে-নিয়ে আসতে পারে সফলতা।

প্রদীপ সাহা : কবি ও লেখক

psaha09@yahoo.com

সচেতনতাই বাঁচাবে জীবন

 প্রদীপ সাহা 
১০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সচেতনতাই বাঁচাবে জীবন
করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ কেনাকাটার ধুম।

করোনাকালেও আমরা দেখেছি কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার না করে বুক ফুলিয়ে অবাধে চলাফেরা করেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনোরকম তোয়াক্কা করেনি। তাদের এই উপেক্ষা ও অবহেলা আজ আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসন-মিডিয়া সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলতে বলতে যেন ক্লান্ত হয়ে একসময় একটুখানি থেমেও গিয়েছিল। আমাদের সামান্য অবহেলায় আজ আবার করোনার থাবার ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।

আমাদের শুধু তিনটি বিষয় মেনে চলার দরকার ছিল করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য-সঠিক মানের মাস্ক পরা, ২০ সেকেন্ডব্যাপী ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা। মৃত্যুর চেয়েও কি কঠিন ছিল এ তিনটি নিয়ম মেনে চলা? শেষের নিয়মটা অনেক সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে মেনে চলা একটু কঠিন হলেও বাকি দুটি তো কঠিন ছিল না! মাস্কের কথাই যদি বলি-কে শোনে কার কথা! অনেকে মাস্ক ব্যবহার করলেও তা থুতনিতে ঝুলিয়ে কিংবা পকেটে ভরে কিংবা হাতে নিয়ে বুক ফুলিয়ে হেঁটে বেড়িয়েছে সাহসী সৈনিকের মতো! তাদের মধ্যে হাত ধোয়ার কোনো বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই। তারা যেন বুঝতেই চায়নি, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার সহজ ঠিকানা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত এসব স্বাস্থ্যবিধি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

একটিবারও আমরা বুঝতে চাই না, একটিমাত্র ভুল বা সামান্য একটু অবহেলায় আজ আমরা কোথায় এসে পৌঁছেছি! কেমন বিপদের দিকে অগ্রসর হচ্ছি! একশ্রেণির মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনোরকম সচেতনতাই লক্ষ করা যাচ্ছে না। তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে মুখে মাস্ক না পরে, মেনে চলছে না কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি। লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন। তাদের তো পেটের চিন্তা করতে হবে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য। অফিস করতে না পারলে কিংবা বাইরে বেরিয়ে এসে আয়-রোজগার করতে না পারলে তারা খাবে কী? তাদের ক্ষুধার জ্বালা ও চাহিদা মিটবে কী করে? তারা বলছে, করোনার চেয়ে পেটের জ্বালা অনেক বেশি কঠিন। গতবারের সংক্রমণে অনেকেই অনেক কিছু হারিয়েছে, নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে, যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা অবশ্যই থাকা দরকার।

আজ আমরা সবাই তাকিয়ে আছি একটি সুন্দর আগামী দিনের জন্য, করোনাকে জয় করার জন্য। তবে এজন্য সবার আগে দরকার নিজেদের সচেতন করা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা। আসুন, নিজে বাঁচি এবং পরিবার তথা সমগ্র দেশটিকে এই কঠিন মহামারির কবল থেকে রক্ষা করি। আপনার-আমার সামান্য সচেতনতাই করোনাকে জয় করতে পারে-নিয়ে আসতে পারে সফলতা।

প্রদীপ সাহা : কবি ও লেখক

psaha09@yahoo.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস