প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি: সমস্যা সমাধানের কৌশলগুলো নির্ধারণ করুন
jugantor
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি: সমস্যা সমাধানের কৌশলগুলো নির্ধারণ করুন

  সম্পাদকীয়  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে ১৩ বছর লেগে যাওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। জানা গেছে, যথাসময়ে বাস্তবায়ন না-হওয়ায় এ প্রকল্পে বাড়তি ব্যয় হবে অন্তত ২৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি অর্থের সাশ্রয় যেমন হতো, তেমনি জনদুর্ভোগের অবসানও ঘটত।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শত শত মানুষ প্রতিদিন নৌকায় চড়ে শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরে যাতায়াত করে থাকেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় ২০১০ সালে এক হাজার ২৯০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল।

কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা না-গেলে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের দুর্দশা ও বিড়ম্বনার মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, তা বলাই বাহুল্য। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সময় ও বাড়তি ব্যয় নিয়ে আলোচ্য প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বস্তুত দেশে এ ধরনের ‘কচ্ছপ গতির’ প্রকল্পের সংখ্যা কত এবং সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী, তা জানতে ইচ্ছে করে। আমরা মনে করি, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগার সুবাদে এর ব্যয়বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দুঃখজনক হলো, সরকারের নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) অবশ্য ইতঃপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছিল। এগুলো হলো : সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজে ধীরগতি, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা ইত্যাদি। আমরা মনে করি, এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দুর্ভাগ্যজনক হলো, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সময় নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ হন না। এর বাইরে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের কারসাজি থাকার অভিযোগও রয়েছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল; সেগুলোর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। সেইসঙ্গে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।

প্রকল্প কতটা সুন্দর, তা দেখার আগে দেখতে হবে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে কি না এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় সমস্যা নিরসনের কৌশল ও পদ্ধতি রপ্ত করার পাশাপাশি তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে-এটাই প্রত্যাশা।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি: সমস্যা সমাধানের কৌশলগুলো নির্ধারণ করুন

 সম্পাদকীয় 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে ১৩ বছর লেগে যাওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। জানা গেছে, যথাসময়ে বাস্তবায়ন না-হওয়ায় এ প্রকল্পে বাড়তি ব্যয় হবে অন্তত ২৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি অর্থের সাশ্রয় যেমন হতো, তেমনি জনদুর্ভোগের অবসানও ঘটত।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শত শত মানুষ প্রতিদিন নৌকায় চড়ে শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরে যাতায়াত করে থাকেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় ২০১০ সালে এক হাজার ২৯০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল।

কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা না-গেলে ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের দুর্দশা ও বিড়ম্বনার মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, তা বলাই বাহুল্য। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সময় ও বাড়তি ব্যয় নিয়ে আলোচ্য প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বস্তুত দেশে এ ধরনের ‘কচ্ছপ গতির’ প্রকল্পের সংখ্যা কত এবং সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী, তা জানতে ইচ্ছে করে। আমরা মনে করি, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগার সুবাদে এর ব্যয়বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দুঃখজনক হলো, সরকারের নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) অবশ্য ইতঃপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছিল। এগুলো হলো : সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজে ধীরগতি, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা ইত্যাদি। আমরা মনে করি, এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দুর্ভাগ্যজনক হলো, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সময় নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ হন না। এর বাইরে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের কারসাজি থাকার অভিযোগও রয়েছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল; সেগুলোর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। সেইসঙ্গে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।

প্রকল্প কতটা সুন্দর, তা দেখার আগে দেখতে হবে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে কি না এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় সমস্যা নিরসনের কৌশল ও পদ্ধতি রপ্ত করার পাশাপাশি তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে-এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন