কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ: সাময়িকভাবে দূরপাল্লার যানবাহন চালু করা দরকার
jugantor
কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ: সাময়িকভাবে দূরপাল্লার যানবাহন চালু করা দরকার

  সম্পাদকীয়  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদের আগে ‘ঘরে’ ফেরার জন্য মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছিল, ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ জনস্রোতেই তা স্পষ্ট হয়েছে। লকডাউনজনিত বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত ভাড়া, অবর্ণনীয় ভোগান্তি-সব উপেক্ষা করে মানুষ ‘ঘরে’ ফেরার চেষ্টা করেছে। ঈদের ছুটিতে কেন ‘ঘরে’ফেরা মানুষের ঢল নামে, তা বহুল আলোচিত।

লকডাউনজনিত বিধিনিষেধের কারণে ফেরি পারাপার ও লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হলেও যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা লক্ষ করেছি, ‘ঘরে’ ফেরার পথে ফেরিতে প্রচণ্ড ভিড় ও হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে একদিনেই পাঁচজন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে। বস্তুত দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকার কারণেই ফেরির ওপর এতটা চাপ পড়েছিল।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো ‘ঘরে’ফেরা যাত্রীদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে ছুটেছিল প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। এভাবে ‘ঘরে’ ফেরার কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতি কী ভয়ানক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে, তা অনেকদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। মাইক্রোবাস, ছোট গাড়ি, ছোট ট্রাকের পেছনে গাদাগাদি করে বসে অনেকে বাড়ি ফিরেছিল। কেউ জানার চেষ্টা করেনি, পাশেরজন করোনার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। এভাবে বাড়ি ফেরা বিপজ্জনক জেনেও অনেকে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরেছিল।

মানুষের এতদিনের অভ্যাস দু-একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। কর্মস্থলে ফেরার মতো পর্যাপ্ত অর্থও যে অনেকের হাতে নেই, তা-ও বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় মানুষ যাতে স্বস্তিতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মস্থলে ফিরতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে হলেও দূরপাল্লার যানবাহন চালু করা দরকার। তা না-হলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষ যেভাবে ‘ঘরে’ ফিরেছে; পুনরায় একই দৃশ্যের অবতারণা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করোনার ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন, এবার বাংলাদেশে তা শনাক্ত হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ভ্যারিয়েন্টের কারণে একজনের থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে করোনায়। ভারতে এখন প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

দেশে ভারতীয় এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া কত কঠিন হবে, তা সহজেই অনুমেয়। এখন এ সংক্রান্ত যথাযথ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা না-গেলে দেশে করোনা পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ: সাময়িকভাবে দূরপাল্লার যানবাহন চালু করা দরকার

 সম্পাদকীয় 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদের আগে ‘ঘরে’ ফেরার জন্য মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছিল, ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ জনস্রোতেই তা স্পষ্ট হয়েছে। লকডাউনজনিত বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত ভাড়া, অবর্ণনীয় ভোগান্তি-সব উপেক্ষা করে মানুষ ‘ঘরে’ ফেরার চেষ্টা করেছে। ঈদের ছুটিতে কেন ‘ঘরে’ফেরা মানুষের ঢল নামে, তা বহুল আলোচিত।

লকডাউনজনিত বিধিনিষেধের কারণে ফেরি পারাপার ও লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হলেও যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা লক্ষ করেছি, ‘ঘরে’ ফেরার পথে ফেরিতে প্রচণ্ড ভিড় ও হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে একদিনেই পাঁচজন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে। বস্তুত দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকার কারণেই ফেরির ওপর এতটা চাপ পড়েছিল।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো ‘ঘরে’ফেরা যাত্রীদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে ছুটেছিল প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। এভাবে ‘ঘরে’ ফেরার কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতি কী ভয়ানক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে, তা অনেকদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। মাইক্রোবাস, ছোট গাড়ি, ছোট ট্রাকের পেছনে গাদাগাদি করে বসে অনেকে বাড়ি ফিরেছিল। কেউ জানার চেষ্টা করেনি, পাশেরজন করোনার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। এভাবে বাড়ি ফেরা বিপজ্জনক জেনেও অনেকে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরেছিল।

মানুষের এতদিনের অভ্যাস দু-একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। কর্মস্থলে ফেরার মতো পর্যাপ্ত অর্থও যে অনেকের হাতে নেই, তা-ও বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় মানুষ যাতে স্বস্তিতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মস্থলে ফিরতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে হলেও দূরপাল্লার যানবাহন চালু করা দরকার। তা না-হলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষ যেভাবে ‘ঘরে’ ফিরেছে; পুনরায় একই দৃশ্যের অবতারণা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করোনার ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন, এবার বাংলাদেশে তা শনাক্ত হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ভ্যারিয়েন্টের কারণে একজনের থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে করোনায়। ভারতে এখন প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

দেশে ভারতীয় এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া কত কঠিন হবে, তা সহজেই অনুমেয়। এখন এ সংক্রান্ত যথাযথ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা না-গেলে দেশে করোনা পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন