জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন: দুর্নীতি-হয়রানির অবসান ঘটুক
jugantor
জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন: দুর্নীতি-হয়রানির অবসান ঘটুক

  সম্পাদকীয়  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতি-হয়রানির অবসান ঘটানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, সেই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইনের এ সংক্রান্ত বিধিবিধানে সংশোধনের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি বাস্তবায়িত হলে ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে অধিগ্রহণ মূল্য সরাসরি দাতার ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।

দুর্নীতি রোধে জমির শ্রেণি ও মূল্য নির্ধারণ করা হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে। উল্লেখ্য, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণে প্রচলিত ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে সরকার যে কানো ব্যক্তির মালিকানাধীন বা দখলীয় ভূমি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকার কারও জমির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে নেয় এবং বিনিময়ে তাকে অন্য কোথাও জমির মালিকানা দেয় অথবা অর্থ দেয় অথবা অর্থ ও জমির মালিকানা দুটোই দেয়। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে এ প্রক্রিয়ার পদে পদে রয়েছে হয়রানি ও অনিয়মের সুযোগ। বস্তুত জমি অধিগ্রহণ নিয়ে হরহামেশাই চলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য।

তা ছাড়া ভুয়া অবকাঠামো দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মূল্য কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নতুন এক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড লক্ষ করা যাচ্ছে। কোথাও কোনো জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার ভূমি কর্মকর্তারা নামে-বেনামে ওই জমি নিজেরাই কিনে নেন।

এরপর অধিগ্রহণ প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে কয়েকগুণ দাম পেয়ে তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। এসব কারণে আর্থিকভাবে রাষ্ট্র চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

আশার কথা, সেই উদ্যোগই নিয়েছে সরকার। অধিগ্রহণ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান হালনাগাদ করে এতে বেশকিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতিই শুধু বন্ধ হবে না, কোনো হয়রানি ছাড়া ঘরে বসেই মিলবে অধিগ্রহণমূল্য।

এ সংক্রান্ত সংশোধন প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগির ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। আমরা আশা করব, প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে এবং অবসান ঘটবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতি-হয়রানির।

জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন: দুর্নীতি-হয়রানির অবসান ঘটুক

 সম্পাদকীয় 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতি-হয়রানির অবসান ঘটানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, সেই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইনের এ সংক্রান্ত বিধিবিধানে সংশোধনের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি বাস্তবায়িত হলে ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে অধিগ্রহণ মূল্য সরাসরি দাতার ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।

দুর্নীতি রোধে জমির শ্রেণি ও মূল্য নির্ধারণ করা হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে। উল্লেখ্য, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণে প্রচলিত ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে সরকার যে কানো ব্যক্তির মালিকানাধীন বা দখলীয় ভূমি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকার কারও জমির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে নেয় এবং বিনিময়ে তাকে অন্য কোথাও জমির মালিকানা দেয় অথবা অর্থ দেয় অথবা অর্থ ও জমির মালিকানা দুটোই দেয়। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে এ প্রক্রিয়ার পদে পদে রয়েছে হয়রানি ও অনিয়মের সুযোগ। বস্তুত জমি অধিগ্রহণ নিয়ে হরহামেশাই চলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য।

তা ছাড়া ভুয়া অবকাঠামো দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মূল্য কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নতুন এক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড লক্ষ করা যাচ্ছে। কোথাও কোনো জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার ভূমি কর্মকর্তারা নামে-বেনামে ওই জমি নিজেরাই কিনে নেন।

এরপর অধিগ্রহণ প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে কয়েকগুণ দাম পেয়ে তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। এসব কারণে আর্থিকভাবে রাষ্ট্র চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

আশার কথা, সেই উদ্যোগই নিয়েছে সরকার। অধিগ্রহণ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান হালনাগাদ করে এতে বেশকিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দুর্নীতিই শুধু বন্ধ হবে না, কোনো হয়রানি ছাড়া ঘরে বসেই মিলবে অধিগ্রহণমূল্য।

এ সংক্রান্ত সংশোধন প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগির ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। আমরা আশা করব, প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে এবং অবসান ঘটবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতি-হয়রানির।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন