খুলনা-মোংলা রেলপথ: প্রকল্পের এ ধীরগতি বিস্ময়কর
jugantor
খুলনা-মোংলা রেলপথ: প্রকল্পের এ ধীরগতি বিস্ময়কর

  সম্পাদকীয়  

০৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি চলছে ১০ বছর ধরে। কাজে ধীরগতির কারণে ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দফায় দফায় প্রকল্প সংশোধনের ফলে এতে ব্যয় বাড়ছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি।

এবার বেঁধে দেওয়া সময়ে প্রকল্পটি শেষ হবে কি না, এটাই দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১০ সালে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজ এখনও চলমান থাকার বিষয়টি বিস্ময়করই বটে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৮২ শতাংশ।

বাকি কাজ শেষ করতে সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে ব্যয়ও। জানা গেছে, শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ে। তিন বছর মেয়াদের কাজটির জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে লাগে দুই বছর। নির্মাণ শুরুর পর মূল রেলপথ ছাড়াও একটি নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতুর নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এতে সময় ও ব্যয় বাড়াতে উঠেপড়ে লাগে সংশ্লিষ্টরা।

রেলের বিভিন্ন সমস্যা বেশ পুরোনো। দুর্ভাগ্যজনক হলো, দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর বাইরেও নানা ধরনের কারসাজি থাকে। উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল; সেগুলোর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে, যা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কোনো প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যথাযথ তদারকির পাশাপাশি বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার রেলের উন্নয়নে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে দুর্নীতিবাজ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা বহাল থাকলে রেল নিয়ে সরকার যত পরিকল্পনাই করুক না কেন, তাতে সময়মতো জনগণের উপকৃত হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। কাজেই দুর্নীতি রোধে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

খুলনা-মোংলা রেলপথ: প্রকল্পের এ ধীরগতি বিস্ময়কর

 সম্পাদকীয় 
০৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি চলছে ১০ বছর ধরে। কাজে ধীরগতির কারণে ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দফায় দফায় প্রকল্প সংশোধনের ফলে এতে ব্যয় বাড়ছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি।

এবার বেঁধে দেওয়া সময়ে প্রকল্পটি শেষ হবে কি না, এটাই দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১০ সালে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজ এখনও চলমান থাকার বিষয়টি বিস্ময়করই বটে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৮২ শতাংশ।

বাকি কাজ শেষ করতে সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে ব্যয়ও। জানা গেছে, শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ে। তিন বছর মেয়াদের কাজটির জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে লাগে দুই বছর। নির্মাণ শুরুর পর মূল রেলপথ ছাড়াও একটি নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতুর নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এতে সময় ও ব্যয় বাড়াতে উঠেপড়ে লাগে সংশ্লিষ্টরা।

রেলের বিভিন্ন সমস্যা বেশ পুরোনো। দুর্ভাগ্যজনক হলো, দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর বাইরেও নানা ধরনের কারসাজি থাকে। উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। আশঙ্কার বিষয় হলো, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল; সেগুলোর অধিকাংশ এখনো বহাল রয়েছে, যা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কোনো প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যথাযথ তদারকির পাশাপাশি বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার রেলের উন্নয়নে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে দুর্নীতিবাজ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা বহাল থাকলে রেল নিয়ে সরকার যত পরিকল্পনাই করুক না কেন, তাতে সময়মতো জনগণের উপকৃত হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। কাজেই দুর্নীতি রোধে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন