নতুন প্রজন্ম নিয়ে উৎকণ্ঠা
jugantor
নতুন প্রজন্ম নিয়ে উৎকণ্ঠা
সর্বনাশের পথ থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এর তরুণ জনগোষ্ঠী। আর আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ হলো, দেশে এখন কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। এই তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

অথচ দুশ্চিন্তার বিষয় হলো মাদকদ্রব্য, গ্যাং কালচার, টিকটকের মতো ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ইত্যাদির দৌরাত্ম্যে আর করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের নতুন প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ-অপকর্মে। ফলে অভিভাবকরা তাদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চিন্তিত সমাজের সব স্তরের মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশের কিশোর-তরুণ সমাজকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে অভিভাবক, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষসহ গোটা সমাজকে পালন করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। নয়তো আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ।

দেশে মাদক ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর প্রভাবে দেশের যুবসমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে সরকার দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে। এতে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, তা দেশে যে পরিমাণ মাদক আসে সে তুলনায় অতি সামান্য। বড় মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ফলে বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। এখনো সীমান্তপথে আসছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলএসডি ও আইসের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ আছে, মাদক ব্যবসা বন্ধ না হওয়ার কারণ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে এ ব্যবসা চলা। এ বাস্তবতায় দেশে মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সম্প্রতি ভারতে নির্যাতনের শিকার এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনা তদন্তে ‘টিকটক মডেল’ তৈরির ফাঁদের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা গেছে, এই ফাঁদে ফেলে দেড় হাজার নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। কাজেই দেশে এ ধরনের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিশোর গ্যাং কালচার এখন এক মহাসংকটের নাম। এসব গ্যাং গড়ে উঠছে শুধু কিশোরদের সমন্বয়েই নয়, তরুণরাও এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে। তারা তুচ্ছ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে সহিংসতায়। পাড়া-মহল্লায় দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা দেওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া, তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে গ্যাং সদস্যরা। এমনকি চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে তারা।

মাদক ব্যবসা, টিকটক, কিশোর গ্যাং-প্রতিটি সমস্যা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নতুন প্রজন্মকে রক্ষার জন্য এর সবকটি দমন করা দরকার অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিকল্পনার সঙ্গে এবং নির্মোহভাবে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতাও জরুরি। কিশোরদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা। সারা দেশে গড়ে তুলতে হবে এর অনুকূল পরিবেশ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যেভাবেই হোক, রক্ষা করতে হবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে।

নতুন প্রজন্ম নিয়ে উৎকণ্ঠা

সর্বনাশের পথ থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এর তরুণ জনগোষ্ঠী। আর আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ হলো, দেশে এখন কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। এই তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

অথচ দুশ্চিন্তার বিষয় হলো মাদকদ্রব্য, গ্যাং কালচার, টিকটকের মতো ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ইত্যাদির দৌরাত্ম্যে আর করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের নতুন প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ-অপকর্মে। ফলে অভিভাবকরা তাদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চিন্তিত সমাজের সব স্তরের মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশের কিশোর-তরুণ সমাজকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে অভিভাবক, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষসহ গোটা সমাজকে পালন করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। নয়তো আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ।

দেশে মাদক ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর প্রভাবে দেশের যুবসমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে সরকার দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে। এতে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, তা দেশে যে পরিমাণ মাদক আসে সে তুলনায় অতি সামান্য। বড় মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ফলে বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। এখনো সীমান্তপথে আসছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলএসডি ও আইসের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ আছে, মাদক ব্যবসা বন্ধ না হওয়ার কারণ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে এ ব্যবসা চলা। এ বাস্তবতায় দেশে মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সম্প্রতি ভারতে নির্যাতনের শিকার এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনা তদন্তে ‘টিকটক মডেল’ তৈরির ফাঁদের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা গেছে, এই ফাঁদে ফেলে দেড় হাজার নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। কাজেই দেশে এ ধরনের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিশোর গ্যাং কালচার এখন এক মহাসংকটের নাম। এসব গ্যাং গড়ে উঠছে শুধু কিশোরদের সমন্বয়েই নয়, তরুণরাও এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে। তারা তুচ্ছ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে সহিংসতায়। পাড়া-মহল্লায় দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা দেওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া, তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে গ্যাং সদস্যরা। এমনকি চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে তারা।

মাদক ব্যবসা, টিকটক, কিশোর গ্যাং-প্রতিটি সমস্যা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নতুন প্রজন্মকে রক্ষার জন্য এর সবকটি দমন করা দরকার অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিকল্পনার সঙ্গে এবং নির্মোহভাবে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতাও জরুরি। কিশোরদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা। সারা দেশে গড়ে তুলতে হবে এর অনুকূল পরিবেশ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যেভাবেই হোক, রক্ষা করতে হবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন