অর্থ পাচার: কঠোর পদক্ষেপ কাম্য
jugantor
অর্থ পাচার: কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

  সম্পাদকীয়  

০৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ পাচার ও পাচার রোধের উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অর্থ পাচার রোধে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত থাকার পরও তা বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যম বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থ পাচার হয় মূলত আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক থাকলে অর্থ পাচার প্রক্রিয়া অন্তত সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব হতো। দেশে এত নজরদারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কিভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে অর্থ!

অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও অর্থ পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কী এর কারণ তা চিহ্নিত করে ফাঁকগুলো বন্ধ করতে হবে। বস্তুত অর্থ পাচারের একটি বড় কারণ হল দুর্নীতি। দুর্নীতি রোধ করা গেলে অর্থ পাচার কমবে। দেশে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হলেও অর্থ পাচারের প্রবণতা কমবে। অনেকে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে অর্থ পাচারে উৎসাহী হয়।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেও অর্থ পাচার বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। বস্তুত প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে তার বেশিরভাগই ব্যয় হচ্ছে ব্যক্তিগত বিলাসিতায়। অথচ এই অর্থ যদি পাচার না হয়ে দেশে বিনিয়োগ হতো, তাহলে বিপুলসংখ্যক বেকার জনশক্তির কর্মসংস্থান হতে পারত। দেশের সার্বিক উন্নয়নেও এর প্রভাব পড়ত।

কাজেই অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। অর্থ পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে যথাযথভাবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। অর্থ পাচারকারীরা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি। সুতরাং তাদের প্রভাবকে দমন করতে হবে অধিকতর শক্তি দিয়ে। আমরা আশা করব, অর্থ পাচার রোধে যা যা করা দরকার সরকার দ্রুত সেসব পদক্ষেপ নেবে।

অর্থ পাচার: কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

 সম্পাদকীয় 
০৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ পাচার ও পাচার রোধের উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অর্থ পাচার রোধে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত থাকার পরও তা বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যম বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থ পাচার হয় মূলত আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক থাকলে অর্থ পাচার প্রক্রিয়া অন্তত সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব হতো। দেশে এত নজরদারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কিভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে অর্থ!

অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও অর্থ পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কী এর কারণ তা চিহ্নিত করে ফাঁকগুলো বন্ধ করতে হবে। বস্তুত অর্থ পাচারের একটি বড় কারণ হল দুর্নীতি। দুর্নীতি রোধ করা গেলে অর্থ পাচার কমবে। দেশে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হলেও অর্থ পাচারের প্রবণতা কমবে। অনেকে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে অর্থ পাচারে উৎসাহী হয়।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেও অর্থ পাচার বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। বস্তুত প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে তার বেশিরভাগই ব্যয় হচ্ছে ব্যক্তিগত বিলাসিতায়। অথচ এই অর্থ যদি পাচার না হয়ে দেশে বিনিয়োগ হতো, তাহলে বিপুলসংখ্যক বেকার জনশক্তির কর্মসংস্থান হতে পারত। দেশের সার্বিক উন্নয়নেও এর প্রভাব পড়ত।

কাজেই অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। অর্থ পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে যথাযথভাবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। অর্থ পাচারকারীরা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি। সুতরাং তাদের প্রভাবকে দমন করতে হবে অধিকতর শক্তি দিয়ে। আমরা আশা করব, অর্থ পাচার রোধে যা যা করা দরকার সরকার দ্রুত সেসব পদক্ষেপ নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন