সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদ
jugantor
সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদ
আহরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্ধশতাব্দী আগে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে বঙ্গোপসাগরে এক জরিপ হয়েছিল। সেই জরিপ দলের প্রধান বলেছিলেন, বঙ্গোপসাগরে প্রচুর সম্পদ স্তূপীকৃত রয়েছে; সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো এ সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারলে শতাব্দীর পর শতাব্দী তা কাজে লাগাতে পারবে তারা।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হয়েছে। ফলে সমুদ্রের বিশাল এলাকার ওপর বাংলাদেশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দেশবাসী আশা করেছিল, বাংলাদেশ সমুদ্রের বিশাল এলাকা থেকে দ্রুত বিভিন্ন সম্পদ আহরণে সক্ষম হবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমুদ্রসীমার বিশাল এলাকায় দেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিগত সময়ে সমুদ্রসম্পদ আহরণে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে সামান্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের গতি খুবই ধীর।

করোনা মহামারির পর থেকে সমুদ্রসম্পদ আহরণের সব উদ্যোগ বলতে গেলে থেমে গেছে। জানা গেছে, সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ বছরে ৯০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি মূল্যের সম্পদ আহরণ করছে। যদিও এ খাতে সম্ভাবনা আকাশচুম্বী; কোনো কোনো পরিসংখ্যানে বছরে আড়াই লাখ কোটি ডলারের সম্পদ আহরণ সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রসম্পদ আহরণে সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবে বিপুল সম্ভাবনা হাতছাড়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রতি জোর দেওয়া জরুরি। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা না থাকলে এ খাতের বিনিয়োগকারী হওয়া সম্ভব নয়। তাই সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সীমিত।

সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিভিন্ন রকম ঝুঁকিও রয়েছে। ঝুঁকির বিষয়টি মেনে নিয়েই বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করেন। অনেক বিনিয়োগকারী সমুদ্র অর্থনীতি সম্পর্কে খুব ভালো জানেন না। তাই তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী নন। কাজেই এ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারকে নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া সরকারিভাবেও নিতে হবে নানা উদ্যোগ।

জানা গেছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলোর ৯০ ভাগই ২০২২ সাল নাগাদ মহামারির আগের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরে যাবে। পর্যাপ্ত টিকা প্রাপ্তির কারণে ধনী দেশগুলোর অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে নিুআয়ের দেশগুলোর উত্তরণের গতি অনেক ধীর।

ফলে মহামারি-পরবর্তী বিশ্বে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য অনেক বাড়বে। বাংলাদেশের মতো তুলনামূলক কম আয়ের দেশগুলোর জন্য সমুদ্রসম্পদ আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় সহায়ক হতে পারে। শুধু সমুদ্রের মাছ রপ্তানি থেকেই আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারি।

এছাড়া সমুদ্র-যোগাযোগ পথ ও সমুদ্র পরিবহণ, খনিজ সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, দক্ষ জনবল সরবরাহ, পর্যটনসহ আরও অনেক খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে গিয়ে সমুদ্রের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

আমরা আশা করব, এ বিষয়ক উদ্যোগ কেবল পরিকল্পনা ও কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এগুলোর বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আমাদের সমুদ্রসম্পদ অন্য দেশে চলে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র নানাভাবে অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ জনবহুল হওয়ায় দ্রুত সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রয়োজনীয়তা আমাদের আরও বেশি। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদ

আহরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্ধশতাব্দী আগে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে বঙ্গোপসাগরে এক জরিপ হয়েছিল। সেই জরিপ দলের প্রধান বলেছিলেন, বঙ্গোপসাগরে প্রচুর সম্পদ স্তূপীকৃত রয়েছে; সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো এ সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারলে শতাব্দীর পর শতাব্দী তা কাজে লাগাতে পারবে তারা।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হয়েছে। ফলে সমুদ্রের বিশাল এলাকার ওপর বাংলাদেশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দেশবাসী আশা করেছিল, বাংলাদেশ সমুদ্রের বিশাল এলাকা থেকে দ্রুত বিভিন্ন সম্পদ আহরণে সক্ষম হবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমুদ্রসীমার বিশাল এলাকায় দেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিগত সময়ে সমুদ্রসম্পদ আহরণে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে সামান্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের গতি খুবই ধীর।

করোনা মহামারির পর থেকে সমুদ্রসম্পদ আহরণের সব উদ্যোগ বলতে গেলে থেমে গেছে। জানা গেছে, সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ বছরে ৯০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি মূল্যের সম্পদ আহরণ করছে। যদিও এ খাতে সম্ভাবনা আকাশচুম্বী; কোনো কোনো পরিসংখ্যানে বছরে আড়াই লাখ কোটি ডলারের সম্পদ আহরণ সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রসম্পদ আহরণে সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবে বিপুল সম্ভাবনা হাতছাড়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রতি জোর দেওয়া জরুরি। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা না থাকলে এ খাতের বিনিয়োগকারী হওয়া সম্ভব নয়। তাই সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সীমিত।

সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিভিন্ন রকম ঝুঁকিও রয়েছে। ঝুঁকির বিষয়টি মেনে নিয়েই বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করেন। অনেক বিনিয়োগকারী সমুদ্র অর্থনীতি সম্পর্কে খুব ভালো জানেন না। তাই তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী নন। কাজেই এ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারকে নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া সরকারিভাবেও নিতে হবে নানা উদ্যোগ।

জানা গেছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলোর ৯০ ভাগই ২০২২ সাল নাগাদ মহামারির আগের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরে যাবে। পর্যাপ্ত টিকা প্রাপ্তির কারণে ধনী দেশগুলোর অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে নিুআয়ের দেশগুলোর উত্তরণের গতি অনেক ধীর।

ফলে মহামারি-পরবর্তী বিশ্বে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য অনেক বাড়বে। বাংলাদেশের মতো তুলনামূলক কম আয়ের দেশগুলোর জন্য সমুদ্রসম্পদ আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় সহায়ক হতে পারে। শুধু সমুদ্রের মাছ রপ্তানি থেকেই আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারি।

এছাড়া সমুদ্র-যোগাযোগ পথ ও সমুদ্র পরিবহণ, খনিজ সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, দক্ষ জনবল সরবরাহ, পর্যটনসহ আরও অনেক খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে গিয়ে সমুদ্রের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

আমরা আশা করব, এ বিষয়ক উদ্যোগ কেবল পরিকল্পনা ও কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এগুলোর বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আমাদের সমুদ্রসম্পদ অন্য দেশে চলে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র নানাভাবে অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ জনবহুল হওয়ায় দ্রুত সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রয়োজনীয়তা আমাদের আরও বেশি। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন