নিত্যপণের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি: বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি
jugantor
নিত্যপণের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি: বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি

  সম্পাদকীয়  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আটা-ময়দা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম ও শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধসহ ১৩ নিত্যপণ্যের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। পরিতাপের বিষয় হলো, করোনা মহামারিতে অধিকাংশ ভোক্তার আয় কমলেও এর বিপরীতে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছে এবং আয়ের বেশিরভাগ অর্থ খাদ্যপণ্য কেনায় ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সঙ্গত কারণেই সাধারণ ভোক্তা শ্রেণির প্রত্যাশা ছিল- এবারের বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পদক্ষেপ থাকবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো করোরোপ করা না হলেও বাজারে হঠাৎ করে দ্রব্যমূল্যের উল্লম্ফন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিহীনভাবে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা অসহায়বোধ করেন। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বস্তুত বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথাবার্তা উঠলেই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকেন। এভাবে একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করলেও এটি মূলত ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, নানা অপকৌশলে ভোক্তাদের ঠকানো ছাড়াও কারসাজি ও যোগসাজশের মাধ্যমে যখন-তখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া অনৈতিক তো বটেই, সেই সঙ্গে অপরাধও।

আমরা দেখেছি, অতীতে বহুবার সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এবারও পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটি একটি ঠুনকো অজুহাত, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

মূলত পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মিলে ভোক্তাদের পকেট কাটার উদ্দেশ্যেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে এমন প্রসঙ্গের অবতারণা করে থাকেন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন- যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করা হলে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

তবে মুনাফা অর্জনের নামে নীতিজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার ভাবনা থেকে বিরত থাকলে বছরের অধিকাংশ সময় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সরকার এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ না করলেও বাজেট প্রস্তাবের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল, ডাল, গুঁড়াদুধসহ ১৩ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট স্ফীত করার বাইরে অন্যকিছু ভাবতে চান না।

এ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে জনস্বার্থ বরাবরই উপেক্ষিত একটি বিষয়। ব্যবসায়ীদের এহেন আচরণ ও কর্মকাণ্ড অযৌক্তিক তো বটেই; অমানবিকও বটে। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করে নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

নিত্যপণের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি: বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি

 সম্পাদকীয় 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আটা-ময়দা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম ও শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধসহ ১৩ নিত্যপণ্যের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। পরিতাপের বিষয় হলো, করোনা মহামারিতে অধিকাংশ ভোক্তার আয় কমলেও এর বিপরীতে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছে এবং আয়ের বেশিরভাগ অর্থ খাদ্যপণ্য কেনায় ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সঙ্গত কারণেই সাধারণ ভোক্তা শ্রেণির প্রত্যাশা ছিল- এবারের বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পদক্ষেপ থাকবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো করোরোপ করা না হলেও বাজারে হঠাৎ করে দ্রব্যমূল্যের উল্লম্ফন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিহীনভাবে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা অসহায়বোধ করেন। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বস্তুত বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথাবার্তা উঠলেই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকেন। এভাবে একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করলেও এটি মূলত ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, নানা অপকৌশলে ভোক্তাদের ঠকানো ছাড়াও কারসাজি ও যোগসাজশের মাধ্যমে যখন-তখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া অনৈতিক তো বটেই, সেই সঙ্গে অপরাধও।

আমরা দেখেছি, অতীতে বহুবার সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এবারও পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটি একটি ঠুনকো অজুহাত, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

মূলত পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মিলে ভোক্তাদের পকেট কাটার উদ্দেশ্যেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে এমন প্রসঙ্গের অবতারণা করে থাকেন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন- যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করা হলে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

তবে মুনাফা অর্জনের নামে নীতিজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার ভাবনা থেকে বিরত থাকলে বছরের অধিকাংশ সময় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সরকার এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ না করলেও বাজেট প্রস্তাবের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল, ডাল, গুঁড়াদুধসহ ১৩ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট স্ফীত করার বাইরে অন্যকিছু ভাবতে চান না।

এ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে জনস্বার্থ বরাবরই উপেক্ষিত একটি বিষয়। ব্যবসায়ীদের এহেন আচরণ ও কর্মকাণ্ড অযৌক্তিক তো বটেই; অমানবিকও বটে। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করে নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন