বেসরকারি খাতে মন্দা
jugantor
বেসরকারি খাতে মন্দা
প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৭ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরি পলিসি বিভাগের মাসিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এর মানে, এ সময়ে ঋণ কম নিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। আর এ কারণে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল থাকলে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে। কারণ, বেসরকারি উদ্যোক্তারা তখন প্রয়োজনে অধিক মাত্রায় ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।

বেসরকারি বিনিয়োগ খাতে এ মন্দাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে মূলত করোনা মহামারির কারণে। মহামারি সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশেও। এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাজনিত কারণে চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপিত হচ্ছে না।

এ কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চললে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিনিয়োগ না বাড়লে যে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য বড় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ছোট-মাঝারি-ক্ষুদ্রসহ সব শ্রেণির উদ্যোক্তা যেন প্রণোদনার সুফল পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চলেছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, ‘করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে।’ বস্তুত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তীকালে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

করোনার প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট করোনা মহামারির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিপর্যয় নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা গভীরভাবে চিন্তিত, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আশার কথা, সরকার করোনার ধাক্কা সামলানোর জন্য ইতোমধ্যে অনেক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। আশা করা যায়, সামনেও তা রাখবেন।

তবে এজন্য বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় প্রদেয় ঋণ সহায়তার সুষ্ঠু ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে পুঁজির সহজলভ্যতা। ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।

মনে রাখতে হবে, প্রণোদনা কোনো দান নয়, বরং ঋণ। সুতরাং ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা বিবেচনা করে যদি সেটি বিতরণ করা না হয় তবে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, সর্বোপরি অর্থনীতির উন্নয়নে তা কাজে লাগবে না।

বেসরকারি খাতে মন্দা

প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৭ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরি পলিসি বিভাগের মাসিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এর মানে, এ সময়ে ঋণ কম নিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। আর এ কারণে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল থাকলে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে। কারণ, বেসরকারি উদ্যোক্তারা তখন প্রয়োজনে অধিক মাত্রায় ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।

বেসরকারি বিনিয়োগ খাতে এ মন্দাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে মূলত করোনা মহামারির কারণে। মহামারি সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশেও। এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাজনিত কারণে চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপিত হচ্ছে না।

এ কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চললে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিনিয়োগ না বাড়লে যে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য বড় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ছোট-মাঝারি-ক্ষুদ্রসহ সব শ্রেণির উদ্যোক্তা যেন প্রণোদনার সুফল পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চলেছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, ‘করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে।’ বস্তুত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তীকালে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

করোনার প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট করোনা মহামারির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিপর্যয় নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা গভীরভাবে চিন্তিত, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আশার কথা, সরকার করোনার ধাক্কা সামলানোর জন্য ইতোমধ্যে অনেক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। আশা করা যায়, সামনেও তা রাখবেন।

তবে এজন্য বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় প্রদেয় ঋণ সহায়তার সুষ্ঠু ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে পুঁজির সহজলভ্যতা। ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।

মনে রাখতে হবে, প্রণোদনা কোনো দান নয়, বরং ঋণ। সুতরাং ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা বিবেচনা করে যদি সেটি বিতরণ করা না হয় তবে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, সর্বোপরি অর্থনীতির উন্নয়নে তা কাজে লাগবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস