আবারও দুই বাসের রেষারেষি
jugantor
আবারও দুই বাসের রেষারেষি
রানার মৃত্যুই যেন শেষ মৃত্যু হয়

  সম্পাদকীয়  

১৭ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল এক তরুণ যাত্রীর। ১৯ বছর বয়সি এই তরুণের নাম মেহেদী হাসান রানা। রাজধানীতে চলাচলকারী তুরাগ পরিবহণের যাত্রী ছিলেন তিনি। তার মাথা বাসের জানালার কিছুটা বাইরে ছিল।

মালিবাগের চৌধুরীপাড়ায় আকাশ পরিবহণের একটি বাস পেছন থেকে দ্রুতগতিতে তুরাগ পরিবহণের বাসটিকে ওভারটেক করার সময় রানার মাথায় আঘাত লাগে। বাসের গতি এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওরান বাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হাত ছিঁড়ে গিয়েছিল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের। তার আঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ১৭ এপ্রিল তিনি মারা যান।

একই বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনের উলটোদিকে জিল্লু­র রহমান ফ্লাইভারের ঢালের সামনের রাস্তায় তিন বাসের রেষারেষিতে একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের উপরে উঠে যায়। এতে শহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মারা যায়।

এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৯ জন। ঘটনাটি এতই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ছিল যে, ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এক অভূতপূর্ব আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের ফল হিসাবে সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তন হয়েছিল।

কিছু প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তন হলেও সড়কে কি শৃঙ্খলা ফিরেছে? আশা করা হয়েছিল, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশেষত শিক্ষার্থীদের দেশ কাঁপানো আন্দোলনের পর সড়কে নিরাপত্তা ফিরবে। বাস্তবে তা হয়নি। শুধু কি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিভিন্ন মহলের জোর দাবি অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু এসব দাবির কোনো প্রভাব পড়ছে না সড়কে। সড়কের বিশৃঙ্খলার একটি বিশেষ দিক হলো, কার আগে কে যাবে, তা নিয়ে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতারই বলি হয়েছেন মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় হতভাগ্য রানা। ধারণা করা হয়, মালিকদের দৈনিক জমার টাকা তুলতেই বাসচালকরা পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালু হলে এই প্রতিযোগিতা বন্ধ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রানার মৃত্যুর পর দুই বাসের রেষারেষিসহ সড়কের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমরা মনে করি, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। রানার মৃত্যুই যেন হয় এ ধরনের শেষ মৃত্যু।

আবারও দুই বাসের রেষারেষি

রানার মৃত্যুই যেন শেষ মৃত্যু হয়
 সম্পাদকীয় 
১৭ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল এক তরুণ যাত্রীর। ১৯ বছর বয়সি এই তরুণের নাম মেহেদী হাসান রানা। রাজধানীতে চলাচলকারী তুরাগ পরিবহণের যাত্রী ছিলেন তিনি। তার মাথা বাসের জানালার কিছুটা বাইরে ছিল।

মালিবাগের চৌধুরীপাড়ায় আকাশ পরিবহণের একটি বাস পেছন থেকে দ্রুতগতিতে তুরাগ পরিবহণের বাসটিকে ওভারটেক করার সময় রানার মাথায় আঘাত লাগে। বাসের গতি এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওরান বাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হাত ছিঁড়ে গিয়েছিল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের। তার আঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ১৭ এপ্রিল তিনি মারা যান।

একই বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনের উলটোদিকে জিল্লু­র রহমান ফ্লাইভারের ঢালের সামনের রাস্তায় তিন বাসের রেষারেষিতে একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের উপরে উঠে যায়। এতে শহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মারা যায়।

এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৯ জন। ঘটনাটি এতই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ছিল যে, ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এক অভূতপূর্ব আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের ফল হিসাবে সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তন হয়েছিল।

কিছু প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তন হলেও সড়কে কি শৃঙ্খলা ফিরেছে? আশা করা হয়েছিল, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশেষত শিক্ষার্থীদের দেশ কাঁপানো আন্দোলনের পর সড়কে নিরাপত্তা ফিরবে। বাস্তবে তা হয়নি। শুধু কি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিভিন্ন মহলের জোর দাবি অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু এসব দাবির কোনো প্রভাব পড়ছে না সড়কে। সড়কের বিশৃঙ্খলার একটি বিশেষ দিক হলো, কার আগে কে যাবে, তা নিয়ে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতারই বলি হয়েছেন মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় হতভাগ্য রানা। ধারণা করা হয়, মালিকদের দৈনিক জমার টাকা তুলতেই বাসচালকরা পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালু হলে এই প্রতিযোগিতা বন্ধ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রানার মৃত্যুর পর দুই বাসের রেষারেষিসহ সড়কের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমরা মনে করি, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। রানার মৃত্যুই যেন হয় এ ধরনের শেষ মৃত্যু।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন