ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ
jugantor
ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ
নামকাওয়াস্তের লকডাউনে কাজ হবে না

  সম্পাদকীয়  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের করোনা পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

বুধবারের পরিসংখ্যান হলো, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬০ জন আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৫৬ জন, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওদিকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে।

সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, যশোরসহ আরও কিছু এলাকায় সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী। এসব এলাকায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীদের ভিড় বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। অনেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি। শয্যা সংকটে চিকিৎসাব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। ছয় শর্তে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া কোথাও সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে কারিগরি কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর লকডাউন বলবৎ করতে পারবে।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজক হারে বাড়তে থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কাই করছে না মানুষ। অলিগলি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সর্বত্রই মানুষের জটলা। সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারের তেমন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। সবকিছু এত ঢিলেঢালাভাবে চলছে যে, আগামীতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এমন আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা সচেতন মহলের সবারই জানা। পরিতাপের বিষয় হলো, এই জানা বিষয়গুলোই ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। প্রথমত, ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যাতে সীমান্ত দিয়ে আর না আসতে পারে, সেজন্য সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। সরকার অবশ্য ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। আমাদের কথা হলো, শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ এমনটা ভাবলে চলবে না।

ঘোষণা কার্যকর করতে হবে। অবৈধ পন্থায় সীমান্ত দিয়ে চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাই আমরা। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। মাস্ক পরিধান, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা- এই তিন বিষয় মেনে চলার ব্যাপারে সবাই আন্তরিক হলে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নগামী হতে বাধ্য।

তৃতীয়ত, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো তো বটেই, সারা দেশেরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। সীমান্তবর্তী জেলা-উপজেলাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হবে আইসিইউর।

মোট কথা, বর্তমানে সার্বিক যে অবস্থা, তা আর চলতে দেওয়া যাবে না। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা কেমন, ভারতের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঠেকাতে হলে নামকাওয়াস্তের লকডাউনে কোনো কাজ হবে না। কেবল সর্বদিকবিস্তৃত মনোযোগই পারে করোনার বর্তমান ভয়াবহতা থেকে উত্তরণ ঘটাতে।

ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ

নামকাওয়াস্তের লকডাউনে কাজ হবে না
 সম্পাদকীয় 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের করোনা পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

বুধবারের পরিসংখ্যান হলো, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬০ জন আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৫৬ জন, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওদিকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে।

সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, যশোরসহ আরও কিছু এলাকায় সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী। এসব এলাকায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীদের ভিড় বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। অনেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি। শয্যা সংকটে চিকিৎসাব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। ছয় শর্তে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া কোথাও সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে কারিগরি কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর লকডাউন বলবৎ করতে পারবে।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজক হারে বাড়তে থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কাই করছে না মানুষ। অলিগলি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সর্বত্রই মানুষের জটলা। সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারের তেমন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। সবকিছু এত ঢিলেঢালাভাবে চলছে যে, আগামীতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এমন আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা সচেতন মহলের সবারই জানা। পরিতাপের বিষয় হলো, এই জানা বিষয়গুলোই ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। প্রথমত, ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যাতে সীমান্ত দিয়ে আর না আসতে পারে, সেজন্য সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। সরকার অবশ্য ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। আমাদের কথা হলো, শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ এমনটা ভাবলে চলবে না।

ঘোষণা কার্যকর করতে হবে। অবৈধ পন্থায় সীমান্ত দিয়ে চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাই আমরা। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। মাস্ক পরিধান, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা- এই তিন বিষয় মেনে চলার ব্যাপারে সবাই আন্তরিক হলে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নগামী হতে বাধ্য।

তৃতীয়ত, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো তো বটেই, সারা দেশেরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। সীমান্তবর্তী জেলা-উপজেলাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হবে আইসিইউর।

মোট কথা, বর্তমানে সার্বিক যে অবস্থা, তা আর চলতে দেওয়া যাবে না। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা কেমন, ভারতের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঠেকাতে হলে নামকাওয়াস্তের লকডাউনে কোনো কাজ হবে না। কেবল সর্বদিকবিস্তৃত মনোযোগই পারে করোনার বর্তমান ভয়াবহতা থেকে উত্তরণ ঘটাতে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন